রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১২:১৫ অপরাহ্ন

এখনও ২০টি স্ক্যানিং মেশিন কিনতে পারেনি এনবিআর

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬
  • ৩ বার

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল আগামী ১৬ ডিসেম্বর উদ্বোধন ও কার্যক্রম শুরু করতে জোর প্রস্তুতি চলছে। তবে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টার্মিনাল চালুর নির্দেশনা থাকলেও কাস্টমস বিভাগের প্রস্তুতি এখনও অসম্পূর্ণ। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) থেকে তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও ২০টি স্ক্যানিং মেশিন স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেনি কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এ অবস্থায় নির্ধারিত সময়ে থার্ড টার্মিনাল চালুর বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, প্রায় দেড় বছর আগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ২০টি স্ক্যানার মেশিন কেনার জন্য দরপত্র আহ্বান করে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠান তাতে অংশ নেয়। এক বছর ঝুলে থাকার পর অজ্ঞাত কারণে ওই দরপত্র বাতিল করা হয়। গত ৮ ফেব্রুয়ারি ফের দরপত্র আহ্বান করা হয়। স্থানীয়ভাবে আহ্বান করা দরপত্রে কয়েকটি স্থানীয় প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। দরপত্র উন্মুক্ত করার তিন মাস পেরিয়ে গেছে। কিন্তু কার্যাদেশ দেওয়ার বিষয়ে এনবিআর এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি।

সূত্রমতে, থার্ড টার্মিনালে আন্তর্জাতিক মানের কাস্টমস কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ১৬টি ব্যাগেজ এক্স-রে স্ক্যানিং মেশিন এবং ৪টি প্যালেট (কার্গো) স্ক্যানার প্রয়োজন। এসব স্ক্যানার ছাড়া আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী যাত্রী ও পণ্যের নিরাপত্তা যাচাই এবং কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব নয়।

জানা গেছে, পুরনো টার্মিনালে ব্যবহৃত ১৬টি ব্যাগেজ এক্স-রে স্ক্যানিং মেশিন নতুন টার্মিনালে স্থানান্তরের সুযোগ নেই। কারণ মেশিনগুলো সরিয়ে নিলে বিদ্যমান টার্মিনালের কাস্টমস কার্যক্রম ব্যাহত হবে। আবার সেগুলো পুরনো টার্মিনালেই রেখে দিলে নতুন টার্মিনালে কাস্টমসের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে না।

একই ধরনের জটিলতা রয়েছে কার্গো হ্যান্ডলিং কার্যক্রমেও। বর্তমানে ব্যবহৃত ৪টি প্যালেট স্ক্যানার পুরনো কার্গো টার্মিনালের জন্য অপরিহার্য। এগুলো নতুন টার্মিনালে স্থানান্তর করলে বিদ্যমান কার্গো হ্যান্ডলিং কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির এক সদস্য আমাদের সময়কে বলেন, এনবিআরের স্ক্যানিং মেশিন কেনার দরপত্র নথির একটি নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে বিভ্রান্তি এড়াতে আমরা সিপিটিইউয়ের লিখিত মতামত নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দরপত্রে সিসি ক্যামেরা, ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেশিন বা আন্ডারভেহিক্যাল স্ক্যানার সরবরাহের অভিজ্ঞতা অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে মূল্যায়ন কমিটির অধিকাংশ সদস্যের অস্পষ্টতা রয়েছে। কাজটিতে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং কমিটির সদস্যরা যেন সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, সে জন্য আইনি মতামত চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ডকুমেন্ট ভুল ছিল এমন কথা বলা যাবে না, কারণ এটি একটি স্ট্যান্ডার্ড টেন্ডার ডকুমেন্ট। কোনো দরপত্র আহ্বান করা হলে ব্র্যাকেটে কিছু অপশন উল্লেখ করে দেওয়া হয়।

ঢাকা কাস্টম হাউস কমিশনার মোহা. মসিউর রহমান আমাদের সময়কে বলেন, এখনও স্ক্যানিং মেশিন কেনা হয়নি। প্রক্রিয়া চলছে। প্রস্তুতির প্রশ্নে তিনি বলেন, জনবল ও বিভিন্ন ফ্যাসিলিটি আমাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। চলতি সপ্তাহে মিটিং রয়েছে। সেখানে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আশা করি, যথাসময়ে সব ঠিক হয়ে যাবে।

বেবিচক সদস্য (পরিচালন ও পরিকল্পনা) এয়ার কমোডর আবু সাঈদ মেহবুব খান আমাদের সময়কে বলেন, থার্ড টার্মিনাল চালুর ক্ষেত্রে কাস্টমসের স্ক্যানিং মেশিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় মেশিন কেনার প্রক্রিয়া শেষ করতে পারেনি। উচ্চপর্যায়ে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ