বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১২:২১ অপরাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে রাজি নয় তেহরান

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬
  • ১ বার

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির দুই সপ্তাহ পরও স্থায়ী শান্তির সম্ভাবনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ইরান মঙ্গলবার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে তারা সরাসরি কোনো বৈঠকে বসবে না। ফলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ইরানের কর্মকর্তারা বলেছেন, স্থায়ী শান্তি চুক্তি কিংবা দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরুর আগে যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা যায়।

দুই সপ্তাহ আগে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তির অন্যতম শর্ত ছিল, ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত নিয়ন্ত্রণ শিথিল করবে। এর বিনিময়ে দেশটিকে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হবে। পাশাপাশি ৬০ দিনের মধ্যে স্থায়ী শান্তিচুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা চালানোর কথাও রয়েছে।

তবে এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনো দুই পক্ষের অবস্থানে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ কাতারের রাজধানী দোহায় পৌঁছেছেন। হোয়াইট হাউস এই সফরকে উচ্চ পর্যায়ের আলোচনা হিসেবে বর্ণনা করেছে।

তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘আগামী কয়েক দিনে মার্কিন আলোচকদের সঙ্গে কোনো পর্যায়ের বৈঠকের সূচি নেই।’

কাতার জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল-থানি উইটকফ ও কুশনারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে সরাসরি বৈঠকের পরিবর্তে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি জানান, দুপক্ষের মধ্যে কারিগরি আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে আবারও সামরিক হামলার চালানোর কথা বিবেচনা করছেন বলে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনের সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন হামলা নিয়ে আলোচনা করেছেন। যদিও রয়টার্স স্বাধীনভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করতে পারেনি।

তবে আপাতত ট্রাম্প কূটনীতিকে আরও কিছু সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল আংশিকভাবে স্বাভাবিক হয়েছে।

তবে ইরান জানিয়েছে, ওমানের সঙ্গে যৌথভাবে তারা এই প্রণালির চলাচল নিয়ন্ত্রণের অধিকার রাখে। ৬০ দিনের অন্তর্বর্তী সময় শেষ হওয়ার পর, অর্থাৎ আগস্টের মাঝামাঝি থেকে জাহাজ চলাচলে টোল আরোপ করা হতে পারে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ