উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের অগ্রসৈনিক ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেকমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ শেষবারের ভোলায় ফিরলেন কফিনবন্দি হয়ে নিথর দেহে।
আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে স্কয়ার হাসপাতাল থেকে এই রাজনীতিকের মরদেহ নেওয়া হয় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। সেখান থেকে দুপুর ১২টা ৫৭ মিনিটে মরদেহবাহী মেঘনা এভিয়েশনের একটি হেলিকপ্টার ভোলার উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
মেঘনা এভিয়েশনের কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, তোফায়েল সাহেবের মরদেহ নিয়ে হেলিকপ্টার ঢাকা থেকে ভোলার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে।
এদিন ভোলা জেলা সরকারি হাই স্কুল মাঠে তোফায়েল আহমেদের জানাজা হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর দক্ষিণ গঙ্গাপুর এলাকার কোরালিয়া গ্রামে মায়ের কবরের পাশে শেষ শয্যায় শায়িত হবেন ষাটের দশকের ছাত্ররাজনীতির উজ্জ্বল নক্ষত্র।
এর আগে সোমবার দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তোফায়েল আহমেদ। বাদ মাগরিব রাজধানীর ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষজন বর্ষীয়ান রাজনীতিক তোফায়েলের জানাজায় অংশ নেন।
ওই জানাজায় আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা ও মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের চেয়ারম্যান কাদের সিদ্দিকী, আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেকমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী, জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নেন। সেখানে সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্সসহ আওয়ামী লীগের আরও অনেকেও ছিলেন।
পরে জানাজা শেষে স্কয়ার হাসপাতালের হিমঘরে তোফায়েল আহমেদের মরদেহ রাখা হয়।
প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। গত ২৪ সেপ্টেম্বর বিকালে নিউমোনিয়াজনিত শ্বাসকষ্ট, হৃদ্রোগ ও শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতাঐএর নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। বাংলাদেশের রাজনীতির নানা বাঁক-বদলের সাক্ষী প্রবীণ এই আওয়ামী লীগ নেতার মারা যাওয়ার আগে স্কয়ার হাসপাতালেই তার কেটে যায় আট মাস আট দিন।