বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৬:৪০ অপরাহ্ন

গান-বাজনার ধ্বংসাত্মক প্রতিক্রিয়া…….?

গান-বাজনার ধ্বংসাত্মক প্রতিক্রিয়া…….?

মাওলানা দৌলত আলী খান: মুসলিম সমাজে চিত্তবিনোদনের নামে গান-বাজনার অনুষ্ঠান দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটি মুসলিম উম্মাহর জন্য অশুভ সঙ্কেত। বাদ্যযন্ত্রের দিকে মুসলিম যুবসমাজ ঝুঁকে পড়ছে। এ গান-বাজনার ফেতনা থেকে মুসলমানদের ফিরে আসতে হবে। এর কুফল সম্পর্কে মুসলিম সমাজকে অবহিত করতে হবে। অন্যথায় মুসলমানরা নিজেদের ধর্মীয় ঐতিহ্য ভুলে কুসংস্কারে ধাবিত হবে। এক সময় দেখা যাবে মুসলমানদের ঈমানি চেতনা শূন্যের কোটায়। এ কারণে চৌদ্দশত বছর আগে আমাদের নবী হজরত মোহাম্মদ (সা.) ঢোল, তবলা, বেহেলা, তাম্বুরা, সারেঙ্গী, সেতার, সানাই, বাঁশি ইত্যাদি উম্মতের জন্য হারাম করেছেন। যাতে উম্মতরা জাহেলি যুগের কুপ্রথা ও কু-সংস্কার থেকে বাঁচতে পারে। সুতরাং ইসলামে গান-বাজনা ও গায়ক-গায়িকার গান শোনা সম্পূর্ণরূপে হারাম। একইভাবে বাধ্যযন্ত্র ক্রয়-বিক্রয় ও গানের অনুষ্ঠানের আয়োজন করাও মোমিনদের জন্য হারাম।
১. পবিত্র কোরআনে গান-বাজনার পরিণাম: কোরআনের ভাষায় গান-বাজনাকে শয়তানের আওয়াজ বলা হয়েছে। এ গান-বাজনা থেকে উদ্দেশ্য হলো, যা আল্লাহর অবাধ্যতার দিকে আহ্বান করে। শুধু সময়ক্ষেপণ বা মনোরঞ্জনের জন্য করা হয়। এছাড়াও যেসব গান ইসলামি আদর্শ ও সভ্যতাকে ধ্বংস করার লক্ষ্যে হবে, তাও মুসলমানের জন্য শ্রবণ করা বৈধ নয়। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, একশ্রেণির লোক আছে যারা মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে গোমরাহ করার উদ্দেশ্যে অবান্তর কথাবার্তা সংগ্রহ করে অন্ধভাবে এবং এটা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রƒপ করে। এদের জন্য রয়েছে অবমাননাকর শাস্তি। (সূরা লোকমান : ৬)। আরও বলেন, তোমরা কি এই বিষয়ে আশ্চর্যবোধ করছ? এবং হাসছ, ক্রন্দন করছ না। তোমরা ক্রীড়া-কৌতুক করছ। (সূরা নাজম: ৫৯-৬১)।
২. হাদিসে গায়ক-গায়িকার ভয়ঙ্কর পরিণতি: যেসব গায়ক-গায়িকা স্বীয় প্রবৃত্তির শখ মিটানোর লক্ষ্যে গান করে এবং তাদের গান দ্বারা মানুষ অসভ্যতা ও দুশ্চরিত্রে পরিণত হয়, আল্লাহ তায়ালা তাদের বানর ও শূকর বানিয়ে দেবেন। কারণ, গান মানুষের অন্তরে মোনাফেকি উৎপাদন করে। আধ্যাত্মিকতাবিহীন গান মানুষকে ব্যভিচারের দিকে ধাবিত করে। এ প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) বলেন, নিশ্চয় আমার উম্মতের কিছু লোক মদ পান করবে; কিন্তু তারা এর ভিন্ন নাম দেবে। তাদের মাথার ওপর গান-বাজনা বাজানো হবে ও গায়িকাদের দ্বারা গান গাওয়ানো হবে। আল্লাহ তায়ালা তাদেরসহ জমিন ধসে দেবেন এবং তাদের মধ্যে অনেককেই বানর ও শূকরে পরিণত করে দেবেন। (ইবনে মাজাহ: ৪১৫৬)।
আরও বলেন, গান মানুষের অন্তরে এমনভাবে মোনাফেকি উৎপাদন করে যেমন পানি শস্য উৎপাদন করে। (মেশকাত: ৪৫৯৯)।
৩. গানের প্রশিক্ষণ গ্রহণ হারাম: গানের প্রশিক্ষণ গ্রহণ ইসলামে সমর্থনীয় নয়। সে সঙ্গে বাদ্যযন্ত্রও ক্রয়-বিক্রয় নিষেধ করেছে ইসলাম। এ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা হবে শয়তানের কুচক্র অবলম্বন। আর আল্লাহ ও তাঁর রাসুল প্রদত্ত বিধানকে উপেক্ষা করা। এসব লোক হবে সমাজের নিকৃষ্টতম ব্যক্তি, আল্লাহর অভিশপ্ত বান্দা এবং রাসুলের ঘৃণীত উম্মত। এ মর্মে রাসুল (সা.) বলেন, তোমরা গায়িকা মহিলাদের ক্রয় ও বিক্রয় করো না এবং তাদের গানের শিক্ষাও দান করিও না। ওইসব বাঁদীর ব্যবসায় কল্যাণ নিহিত নেই। তাদের শ্রমফল হারাম। আর ওই জাতীয় ব্যাপারে এই আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে, কতক লোক এমনও রয়েছে যারা ওই সব অহেতুক বিষয়াদির খরিদ্দার হয় যা আল্লাহর পথ থেকে গাফিল করে দেয়, যাতে জ্ঞানবিহীন লোকদের পথহারা করতে পারে। (তিরমিজি : ১৩২৯)।
৪. গানকে রাসুল (সা.) ঘৃণা করতেন: গান ও বাঁশির সুরকে মহানবী (সা.) পছন্দ করতেন না। বরং ঘৃণা করতেন। রাসুল (সা.) বাঁশির সুরকে শয়তানের বাদ্যযন্ত্র বলে আখ্যায়িত করেছেন। সাহাবায়ে কেরাম থেকে শুরু করে পরবর্তী সর্বযুগের ইমাম ও ফকিহরা গান-বাজনা ও বাদ্যযন্ত্র ক্রয়-বিক্রয়কে হারাম বলে ফতোয়া দিয়েছেন। সুতরাং এ গান-বাজনাকে চিত্তবিনোদনের নামে গ্রহণ করার কোনো সুযোগই নেই। হাদিসে আছে, হজরত নাফে (রা.) বলেন, একদা কোনো এক পথে আমি হজরত ইবনে ওমর (রা.) এর সঙ্গে ছিলাম। এ সময় তিনি বাঁশির সুর শুনতে পেলেন। তখনই তিনি নিজের দুই আঙুল দুই কানের মধ্যে ঢুকিয়ে দিলেন এবং সে রাস্তা থেকে অন্য আরেক দিকে সরে গেলেন। বহুদূর যাওয়ার পর আমাকে বললেন, হে নাফে! এখন কি তুমি কিছু শুনতে পাও? আমি বললাম, না। এবার তিনি উভয় কান থেকে আঙুল সরিয়ে ফেললেন। অতঃপর বললেন, একবার আমি রাসুল (সা.) এর সঙ্গে ছিলাম, তখন তিনি কোথাও থেকে বাঁশির আওয়াজ শুনতে পেলেন এবং যা করেছি তিনিও তা করেছিলেন। নাফে বলেন, তখন আমি ছোট ছিলাম। (মেশকাত: ৪৬০০)।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

© All rights reserved © 2019 shawdeshnews.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
themebashawdesh4547877