বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ০১:১৫ অপরাহ্ন

যাঁদের পাহারায় ডিবি হারুনের হাজার কোটি টাকার সম্পদ

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬
  • ২ বার

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, যিনি ‘ডিবি হারুন’ নামে বেশি পরিচিত। তাঁকে ঘিরে নানা সময়ে ক্ষমতার অপব্যবহার, চাঁদাবাজি ও বিপুল পরিমাণ  অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ সামনে এসেছে।

এসব অভিযোগের পাশাপাশি নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত রাকিব উদ্দিন দেওয়ান ওরফে রতন দেওয়ানের নাম।

জানা গেছে, ডিবি হারুনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার বদৌলতে রতন দেওয়ান ও তাঁর ছোট ভাই রোকন উদ্দিন দেওয়ান ওরফে স্বপন বিভিন্ন ব্যবসা, সম্পত্তি ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে প্রায় হাজার কোটি টাকার সম্পদের মালিক বনে গেছেন। জুলুম-নির্যাতনের মাধ্যমে অবৈধ এই বিপুল সম্পদের মালিক বনে গেলেও রয়েছেন এখনো আইনের ধরাছোঁয়ার বাইরে। কখনো ঢাকা, আবার কখনো বিদেশ—এভাবেই গা ঢাকা দিয়ে থাকছেন তিনি।

কে এই রতন দেওয়ান : রতন দেওয়ানের গ্রামের বাড়ি গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চান্দরা এলাকায়। স্থানীয়দের দাবি, একসময় সাধারণ ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত থাকলেও ডিবি হারুনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার পর তাঁর আর্থিক অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন ঘটে। প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। রতনের ভাই স্বপনও হারুনের প্রভাব খাটিয়ে হারুনের বিভিন্ন ব্যাবসায়িক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, রতন ও স্বপন ডিবি হারুনের এতটাই ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন যে হারুনের বউ শিরীন আক্তার হয়ে যান তাঁদের বোন। হারুন গাজীপুরে পুলিশ সুপার পদে থাকাকালীন এমন কোনো অপকর্ম বাদ নেই, যা তিনি রতন দেওয়ানের মাধ্যমে করেননি। এসব কাজে রতন দেওয়ানের একান্ত সহযোগী ছিলেন কালিয়াকৈরের জসীম (পরবর্তী সময়ে পুলিশের ক্রস ফায়ারে নিহত)। রতন দেওয়ান জসিমের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কেব চাঁদা আদায় করতেন এবং তার ভাগ পেতেন হারুন। এভাবেই আত্মীয় না হয়েও তিনি হয়ে ওঠেন হরুনের পরমাত্মীয়।
এক পর্যায়ে গাজীপুরের একটি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক ব্যবসায়ী গ্রুপের সঙ্গে রতনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক হয় এবং ওই গ্রুপের প্রধান তাঁর পার্টনার হয়ে যান। হারুনের বিপুল পরিমাণ অবৈধ টাকা নিয়ে রতন দেওয়ান কালিয়াকৈরে বিভিন্ন বিল্ডিং ও শেড নির্মাণ করেন এবং সেসব স্থাপনা ওই গ্রুপসহ আরো একটি ব্যবসায়ী গ্রুপের কাছে ভাড়া দেন। এসব বিল্ডিং ও শেড থেকে প্রতি মাসের ভাড়ার টাকার বেশির ভাগ পেতেন হারুন।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, ডিবি হারুনের দেশে থাকা অনেক সম্পদ, বিনিয়োগ ও আর্থিক কার্যক্রম দেখভালের দায়িত্ব ছিল রতন দেওয়ানের ওপর। এ কারণে স্থানীয় পর্যায়ে তাঁকে ‘ডিবি হারুনের ক্যাশিয়ার’ বলেও ডাকা হয়।

গোল্ডেন স্কাই ফুটওয়্যার নিয়ে প্রশ্ন : ডিবি হারুন ও রতন দেওয়ান মিলে গাজীপুরের কালিয়াকৈরের চান্দরা এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে (প্লট নম্বর ৫৮১ থেকে ৫৯২) ‘গোল্ডেন স্কাই ফুটওয়্যার লিমিটেড’ নামে একটি আধুনিক জুতার ফ্যাক্টরি চালু করেন। হারুনের স্ত্রী শিরীন আক্তার ওই কম্পানির চেয়ারম্যান এবং রতন দেওয়ান কম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর পদ নেন। অভিযোগ রয়েছে, এই ফ্যাক্টরির জন্য আশপাশের জমি জোরপূর্বক দখল করা হয়েছে। বর্তমানে কিছু অংশ চীনা ব্যবসায়ীদের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। ফ্যাক্টরিতে ৫০০ কোটি টাকার ওপরে বিনিয়োগ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রতন দেওয়ান তড়িঘড়ি করে ডিবি হারুনের স্ত্রী শিরীন আক্তারকে ওই ফ্যাক্টরির পরিচালনা পর্যদ থেকে অব্যাহতির চেষ্টা করেন। কিন্তু শিরীন আক্তারকে জয়েন্ট স্টক কম্পানি  পরিদপ্তরে  (আরজেএসসি) উপস্থিত না করাতে পারায় তা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।

৫ আগস্টের পর টাকা পাচারের জন্য যান সুইজারল্যান্ড : অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রতন দেওয়ান গাজীপুরের ওই পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক ব্যবসায়ী গ্রুপের প্রধানকে নিয়ে টাকা পাচারের উদ্দেশ্যে সুইজারল্যান্ডে যান।  সেখানে কয়েক কোটি টাকা দিয়ে বাড়ি কেনেন এবং বিভিন্ন ব্যাংকে টাকা জমা রেখে আসেন। এই তথ্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) রতন দেওয়ানের নামে চিঠি ইস্যু করে।

শ্রীমঙ্গলে বিলাসবহুল রিসোর্টে বিনিয়োগ : মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে রতন ও স্বপন দেওয়ানের নামে ডিবি হারুন গড়ে  তোলেন ‘প্যারাগন হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট’,  যার বিনিয়োগ ৫০০ কোটি টাকার ওপরে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। প্যারাগন হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের ঢাকা অফিস ডিবি হারুনের শ্বশুরের নামে উত্তরা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সেক্টরে ৭ নম্বর রোডের ২ নম্বর প্লটের ওপর নির্মিত ১২তলা ভবনের ষষ্ঠ ও সপ্তম তলায়। আগে রতন দেওয়ান ওই অফিসে বসতেন। তবে  বিল্ডিংটি ইতিমধ্যে ক্রোক করায় রতন আর ওই অফিসে বসেন না। তবে তাঁর নিয়োগ দেওয়া কেয়ারটেকার বিল্ডিংটি দেখাশোনা করছেন।

বনানী ও ধানমণ্ডিতে সম্পদ : রাজধানীর বনানী, ধানমণ্ডি ও পূর্বাচল এলাকায় রতন ও স্বপন দেওয়ানের নামে বা তাঁদের সম্পৃক্ততায় বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বনানী ই-ব্লকের ১৭/এ, সড়ক নং-১২-এর ৬.৫ কাঠা জমির বায়না দেখিয়ে অর্থ অন্যত্র বিনিয়োগ করা হয়। রতন দেওয়ান ও স্বপন দেওয়ানের নামে সম্পাদিত ওই বায়না চুক্তির দলিল নম্বর ১১৮৫ (৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১)। বায়নামূল্য ধরা হয় ৩৩ কোটি টাকা, যার মধ্যে ৯ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া ধানমণ্ডির প্লট নম্বর ৩১৮/এ (পুরনো), নতুন নম্বর ৩৩; সড়ক নম্বর ৩৩ (পুরাতন), নতুন নম্বর ১১-এর একটি ভবনের ষষ্ঠ তলায় প্রায় তিন হাজার বর্গফুট আয়তনের একটি ফ্ল্যাটের পুরো মূল্য পরিশোধ করে ডিবি হারুন তাঁর মা জোহরা খাতুনের নামে ক্রয় করেন। ফ্ল্যাটটির ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান ছিল উইন্ডেন লাইট এবং প্রকল্পটির দায়িত্বে ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার সালাম। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত সময়ে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দিতে না পারায় তাঁকে মারধর করা হয় এবং রতন দেওয়ানের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থও আদায় করা হয়।

পরবর্তী সময়ে উইন্ডেন লাইট যাঁদের নামে ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেয়, তাঁরা বিষয়টি নিয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করেন। এরপর মন্ত্রণালয় বরাদ্দপ্রাপ্তদের নামে চিঠি ইস্যু করে, যেখানে ডিবি হারুনের মা জোহরা খাতুনের নামও রয়েছে। এরপর ডিবি হারুন ইঞ্জিনিয়ার সালামের মাধ্যমে রতন দেওয়ানের নামে নতুন করে একটি বায়না চুক্তি সম্পাদন করেন। ওই বায়নার দলিল নম্বর ৭৩৬, (৯ ফেব্রুয়ারি ২০২২)। এতে বায়নামূল্য ধরা হয় দুই কোটি ১০ লাখ টাকা, যার মধ্যে দুই কোটি টাকা পরিশোধের তথ্য উল্লেখ রয়েছে।

গাজীপুরের সবুজ পাতা রিসোর্ট : গাজীপুরের শ্রীপুরে অবস্থিত ‘সবুজ পাতা রিসোর্ট’-এ রতন দেওয়ান ও স্বপন দেওয়ানের শেয়ার রয়েছে। ডিবি হারুনের তিন ফুফুর নামে প্রায় ৫০০ শতাংশ জমি ক্রয় করে সেখানে রিসোর্টটি গড়ে তোলা হয়। রিসোর্টটির পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন রতন দেওয়ান, স্বপন দেওয়ান এবং তাদের সহযোগী হিসেবে পরিচিত জহিরুল হক। রিসোর্টটির নির্মাণব্যয়ের পুরো অর্থ রতন ও স্বপন দেওয়ান বহন করেছেন এবং এতে প্রায় শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। এসংক্রান্ত জমির দলিল নম্বর ৮৫১, ১২১৮, ১২১৯, ৭৫৬৩, ৪৩২৫, ১৪৭১৪, ৪৩২৪, ৪৯৫৩, ১১০৩২ ও ২৬৮৬, যেগুলো ২০১৭ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে শ্রীপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে  রেজিস্ট্রি করা হয়েছে।

রূপগঞ্জ-পূর্বাচলে জমি : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার পাড়াইন মৌজায় ২২.৫০ শতাংশ জমি, যা আগে ডিবি হারুনের মায়ের নামে ছিল। পরে স্বপন দেওয়ানের নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়। এ জমির দলিল নম্বর ১৬০৫০, তারিখ ২০ ডিসেম্বর ২০১৮। একইভাবে রূপগঞ্জের নওগাঁ মৌজায় ২৮ শতাংশ জমিও স্বপন দেওয়ানের নামে রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। এর দলিল নম্বর ৮৫০৩, তারিখ ২৯ অক্টোবর ২০২০।

পূর্বাচল উপশহর প্রকল্পের ২৯ নম্বর সেক্টরে ৪০৬-বি নম্বর সড়কের ০০৬, ০০৮, ০১০ ও ০১২ নম্বর প্লট এবং ৪০৬ নম্বর সড়কের ৫, ৭ ও ৯ নম্বর প্লটসহ পাশাপাশি মোট সাতটি প্লট ক্রয় করা হয়। এসব প্লটের মোট আয়তন প্রায় ৪০ কাঠা এবং বর্তমান বাজারমূল্য ৭০ কোটি টাকারও বেশি। অভিযোগ রয়েছে, সম্পত্তিগুলো বেহাত হওয়ার আশঙ্কায় পরে রতন দেওয়ান ও স্বপন দেওয়ানের নামে হস্তান্তর করা হয়। এসংক্রান্ত দলিল নম্বর ১৬০৪৩ থেকে ১৬০৪৯, তারিখ ২০ ডিসেম্বর ২০১৮। রূপগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে এসব জমি রেজিস্ট্রি হয়।

আর্থিক অপকর্মে জড়িত সাবেক এক ব্যাংক কর্মকর্তা :  ডিবি হারুন ও রতন দেওয়ানের অবৈধ আর্থিক কর্মকাণ্ডের আরেক সহযোগী ছিলেন মার্কেন্টাইল ব্যাংকের সাবেক এক কর্মকর্তা। তিনি গাজীপুরের চৌরাস্তা জয়দেবপুর শাখার দায়িত্বে থাকাকালে ডিবি হারুন গাজীপুরের পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। ওই সময় পুলিশ নিয়োগসহ বিভিন্ন উৎস থেকে অর্জিত অর্থ ব্যাংকের বিভিন্ন হিসাবে জমা রাখার ক্ষেত্রে ওই ব্যাংক কর্মকর্তা সহায়তা করতেন। ডিবি হারুনের বাবা-মায়ের নামে ট্রাস্ট গঠন করে কোটি কোটি টাকা ব্যাংকে রাখা হতো এবং এসব হিসাব পরিচালনা করতেন ওই ব্যাংক কর্মকর্তা ও রতন দেওয়ান।

এ ছাড়া চান্দরা এলাকার এক্সিম ব্যাংক ও মার্কেন্টাইল ব্যাংকের একাধিক হিসাবের মাধ্যমে রতন দেওয়ান বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন করেন। মার্কেন্টাইল ব্যাংকে হারুন ও তাঁর স্ত্রী শিরীন আক্তারের অন্তত ১০টি যৌথ হিসাবে বিপুল পরিমাণ টাকা লেনদেনের হিসাবের তথ্য পাওয়া যায়।

হারুনের সম্পদবিবরণী : অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজধানী ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও কক্সবাজারে ডিবি হারুনের নামে এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পত্তির তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কালের কণ্ঠের কাছে আসা তথ্যমতে ঢাকার উত্তরা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল নম্বর ২৭৮১/২১, তারিখ ২১ মার্চ ২০১৬ অনুযায়ী উত্তরা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সেক্টরের ২০ নম্বর সড়কের ২৬/এফ নম্বর প্লটে ৭.৪৫ কাঠা জমি ও সেখানে নির্মিত ভবনের মালিকানা রয়েছে। দলিলে সম্পত্তিটির মূল্য দেখানো হয়েছে তিন কোটি টাকা। একইভাবে গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল নম্বর ২৬১২/১৬, তারিখ ২৯ মার্চ ২০১৬ অনুযায়ী বনানী আবাসিক এলাকার ই-ব্লকের ১৭/এ নম্বর সড়কের ১২ নম্বর প্লটে ১০.৩৬ শতাংশ জমি ও সেখানে অবস্থিত ভবন, যার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে তিন কোটি ৯৭ লাখ টাকা। এ ছাড়া রাজধানীর উত্তরা সেক্টর-১০-এর ৮/এ নম্বর সড়কের একটি সাততলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় এ/১ নম্বর ফ্ল্যাট, জোয়ার সাহারা এলাকায় হোল্ডিং নম্বর ৩৯/বি-এর একটি ছয়তলা ভবনের ষষ্ঠ তলায় বি/৫০২ নম্বর ফ্ল্যাট, কুড়িলের ক-১৩৩/১/এ নম্বর হোল্ডিংয়ের একটি সেমিপাকা টিনশেড বাড়ি এবং খিলক্ষেতের ক-৯৫/ডি নম্বর হোল্ডিংয়ের একটি একতলা ভবনও ডিবি হারুনের মালিকানাধীন বলে জানা গেছে। খিলক্ষেতের টানপাড়ায় খ-১৪৬/৩/এ নম্বর হোল্ডিংয়ে একটি সেমিপাকা টিনের ঘর, বাড্ডা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দুটি পৃথক দলিলের মাধ্যমে ক্রয় করা দক্ষিণখানের আশিয়ান সিটি প্রকল্পে মোট পাঁচ কাঠা আয়তনের একটি প্লট (প্লট নম্বর-৯৮, রোড নম্বর-০১, ব্লক-এ) রয়েছে। দলিলে  প্লটটির ক্রয়মূল্য ৫০ লাখ টাকা উল্লেখ রয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কর্ণগোপ ও পারাইন মৌজায় একাধিক খতিয়ান ও দাগে হারুন ও তাঁর স্ত্রী শিরীনের নামে বিভিন্ন আয়তনের জমি রয়েছে। কিশোরগঞ্জ জেলায়ও বিপুল পরিমাণ জমি ও স্থাপনার তথ্য উঠে এসেছে। কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার কিশোরগঞ্জ মৌজায় প্রায় ৫ শতক জমির ওপর দুই ইউনিটবিশিষ্ট তিনতলা বাড়ি রয়েছে। এ ছাড়া মিঠামইন উপজেলার গড়বন্দ ও হোসেনপুর মৌজায় বিভিন্ন দাগে শত শত শতাংশ জমির মালিকানার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য মিঠামইনের ঘাগড়া মৌজায় খতিয়ান নম্বর ৭৭৭-এর আওতায় প্রায় এক হাজার ৩০০ শতাংশ এবং একই মৌজার খতিয়ান নম্বর ১৫৮২-এর আওতায় প্রায় ছয় হাজার ৮০০ শতাংশ জমি। পাশাপাশি অষ্টগ্রাম উপজেলার ভেঙ্গরাইল মৌজায় বিভিন্ন দাগে মোট ৭.৮৪৫০ একর জমির মালিকও ডিবি হারুন। কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার টেকনাফ মৌজায় দুটি পৃথক দাগে হারুনের নামে মোট ০.৩৩ শতাংশ জমির তথ্য পাওয়া গেছে।

ডিবি হারুণের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে অনেক চেষ্টা করেও ওই সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা ও রতন দেওয়ানের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। গতকাল মঙ্গলবার রাত ৯টা ৪০ মিনিটে রতন দেওয়ানের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ প্রতিবেদকের পরিচয় পাওয়ার পর বলেন, ‘আমি এখন থেরাপিতে আছি, পরে কথা বলবো।’ অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, ডিবি হারুন ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত রতন দেওয়ানকে ঘিরে উত্থাপিত এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে প্রয়োজন নিরপেক্ষ, স্বাধীন ও তথ্যভিত্তিক তদন্ত। এটি শুধু ব্যক্তিগত অবৈধ সম্পদ অর্জনের ঘটনা নয়; বরং ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রভাব খাটিয়ে সম্পদ সঞ্চয় এবং আর্থিক অনিয়মের একটি বড় উদাহরণ।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ