উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেশার শব্দটি শুনতে সাধারণ মনে হলেও এর ভয়াবহতা অনেকের কল্পনার বাইরে। বিশেষজ্ঞরা এটিকে ‘নীরব ঘাতক’ বলে থাকেন। কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কোনো লক্ষণ ছাড়াই বছরের পর বছর ধরে এটি শরীরে বাসা বাঁধে এবং ধীরে ধীরে রক্তনালি, হৃদযন্ত্র ও কিডনিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এই মারাত্মক রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে দৈনিক আমাদের সময়ের স্টাফ রিপোর্টার আল আমিনের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলেছেন বারডেম হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রেজাউল ইরফান
আমাদের সময়: উচ্চ রক্তচাপ আসলে কী? সাধারণ মানুষের ভাষায় যদি বোঝান।
ডা. রেজাউল ইরফান : আমাদের শরীরে অসংখ্য রক্তনালী রয়েছে, যেগুলোর মধ্য দিয়ে প্রতিনিয়ত রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে। এই রক্ত প্রবাহিত হওয়ার সময় রক্তনালীর গায়ে একটি পার্শ্ববর্তী চাপ তৈরি হয়, যাকে আমরা রক্তচাপ বলি। স্বাভাবিক অবস্থায় এই চাপটি একটি নির্দিষ্ট মাত্রার মধ্যে থাকে। কিন্তু যখন এটি বয়সভেদে নির্ধারিত মাত্রাকে ছাড়িয়ে যায়, তখনই আমরা সেটিকে উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন বলি।
বিষয়টি একটু সহজ করে বললেÑ ধরুন একটি পাইপের মধ্য দিয়ে পানি যাচ্ছে। সেই পানির গতি বা চাপ যদি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়, তাহলে পাইপের গায়ে অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং এক সময় পাইপ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। রক্তনালীর ক্ষেত্রেও ঠিক একই ঘটনা ঘটে।
আমাদের সময়: এই রোগটি সাধারণত কেন হয়? কারণগুলো কী?
ডা. রেজাউল ইরফান: উচ্চ রক্তচাপের কারণ বিশ্লেষণ করতে গেলে মূলত দুটি ভাগে ভাগ করতে হবে।
প্রথমটি হলো, প্রাথমিক বা এসেনশিয়াল হাইপারটেনশন, যা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। পরিসংখ্যান বলছে, প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপের পেছনে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। এটি মূলত বংশগত বা জিনগতভাবে পরিবারের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়। অর্থাৎ বাবা বা মায়ের উচ্চ রক্তচাপ থাকলে সন্তানেরও এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি।
দ্বিতীয়টি হলো, সেকেন্ডারি হাইপারটেনশন, যা বাকি ১০ শতাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়। এখানে অন্য কোনো রোগ বা কারণের প্রত্যক্ষ ফলাফল হিসেবে উচ্চ রক্তচাপ দেখা দেয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোÑ থাইরয়েড বা অ্যাড্রেনাল হরমোনের সমস্যা, দীর্ঘমেয়াদী কিডনি রোগ, স্টেরয়েড বা ইস্ট্রোজেনযুক্ত জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি সেবন, দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া এবং মাদক সেবন।
মাদকের প্রসঙ্গে বিশেষভাবে বলতে চাই, অ্যালকোহল বা ইয়াবার মতো অ্যামফেটামিনভিত্তিক মাদক নতুন প্রজন্মের মধ্যে অস্বাভাবিক মাত্রায় রক্তচাপ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হয়ে উঠছে। এ ছাড়া অতিরিক্ত ওজনের কারণে যে অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া সিনড্রোম হয় যেখানে ঘুমের মধ্যে নাক ডাকা এবং শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয় সেটিও উচ্চ রক্তচাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
সেকেন্ডারি হাইপারটেনশনের ক্ষেত্রে একটি সুখবর হলো, মূল রোগটির চিকিৎসা করা গেলে রক্তচাপ স্বাভাবিকভাবেই কমে আসে। যেমন, কেউ মাদক ছেড়ে দিলে বা থাইরয়েডের সমস্যা নিরাময় হলে রক্তচাপ এমনিতেই নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু এসেনশিয়াল হাইপারটেনশনের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব নয়। এটিকে আজীবন ওষুধ ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়।
আমাদের সময়: কারা এই রোগে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন?
ডা. রেজাউল ইরফান : বেশ কয়েকটি গোষ্ঠী বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছেন। প্রথমত, যাদের পরিবারে উচ্চ রক্তচাপের ইতিহাস আছে, তারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে। একটি নির্দিষ্ট বয়সের পর, বিশেষত ৩৫-৪০ বছরের পর থেকে, তাদের প্রতি ছয় মাস বা বছরে অন্তত একবার রক্তচাপ মাপানো উচিত।
দ্বিতীয়ত, গর্ভকালীন নারীরা একটি বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ দলে রয়েছেন। অনেক নারীর গর্ভাবস্থায় হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে যায়। কারও কারও ক্ষেত্রে প্রসবের পর এটি স্বাভাবিক হয়ে যায়, কিন্তু অনেকের ক্ষেত্রেই পরে আবার ফিরে আসে।
তৃতীয়ত, যারা অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে অভ্যস্ত, যেমনÑ কায়িক শ্রম নেই, সারাদিন বসে কাজ করেন, অতিরিক্ত চর্বি ও লবণযুক্ত খাবার খান, ওজন ক্রমশ বাড়ছে তারাও উচ্চ ঝুঁকিতে আছেন। অনেকেই টেবিলে খাবারের সঙ্গে আলাদাভাবে লবণ নিয়ে বসেন, এই অভ্যাসটি অত্যন্ত ক্ষতিকর।
আমাদের সময় : এই রোগের লক্ষণ কীভাবে বুঝব? অনেকেই তো বুঝতেই পারেন না যে তার উচ্চ রক্তচাপ আছে।
ডা. রেজাউল ইরফান : আপনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় তুলে ধরেছেন। উচ্চ রক্তচাপকে ‘নীরব ঘাতক’ বলার কারণ এটাই। এটি কোনো উপসর্গ ছাড়াই বছরের পর বছর শরীরে থাকতে পারে।
এখানে যা ঘটে তা হলো, রক্তের চাপ স্বাভাবিকের বেশি থাকলে রক্তনালীগুলো ধীরে ধীরে মসৃণ থেকে অমসৃণ হতে থাকে। এই অমসৃণ দেওয়ালে কোলেস্টেরলসহ রক্তের বিভিন্ন উপাদান জমতে শুরু করে এবং রক্তনালীর স্বাভাবিক প্রশস্ততা কমে যায়। ফলে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়, কোষে পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছাতে পারে না এবং কোষগুলো ধীরে ধীরে কার্যক্ষমতা হারাতে থাকে।
কিন্তু এই পুরো প্রক্রিয়াটি ঘটে নিঃশব্দে, কোনো ব্যথা বা অস্বস্তি ছাড়াই। যখন লক্ষণ প্রকাশ পায়, তখন অনেক সময় মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যায়।
পরিসংখ্যান বলছে, ৯০ শতাংশ উচ্চ রক্তচাপের রোগীর কোনো লক্ষণ থাকে না। বাকি ১০ শতাংশের ক্ষেত্রে যে লক্ষণগুলো দেখা যায় সেগুলো হলোÑ মাথাব্যথা, ঘাড়ে ব্যথা, দুর্বলতা, চোখে ঝাপসা দেখা, অল্প পরিশ্রমে হাঁপিয়ে যাওয়া এবং মানসিক অবসাদ। এই লক্ষণগুলো এত সাধারণ যে, বেশিরভাগ মানুষ এগুলোকে অন্য সমস্যার কারণ মনে করে এড়িয়ে যান।
তাই যাদের পারিবারিক ইতিহাস আছে বা যারা ঝুঁকিপূর্ণ জীবনযাপন করছেন, তাদের উচিত নিয়মিত রক্তচাপ পরিমাপ করানো, লক্ষণ না থাকলেও।
আমাদের সময় : উচ্চ রক্তচাপ ধরা পড়ার পর কোন কোন খাবার এড়িয়ে চলতে হবে?
ডা. রেজাউল ইরফান : খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রথমেই বলব লবণের কথা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক গাইডলাইন অনুযায়ী, একজন উচ্চ রক্তচাপের রোগী দিনে সর্বোচ্চ পাঁচ গ্রাম লবণ গ্রহণ করতে পারবেন। এর বেশি নয়। আর টেবিলে বসে আলাদাভাবে লবণ নেওয়ার অভ্যাস থাকলে তা সম্পূর্ণভাবে বাদ দিতে হবে।
দ্বিতীয়ত, উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার করতে হবে। গরুর মাংস, খাসির মাংস ও চিংড়ি মাছে এমন কিছু কোলেস্টেরল রয়েছে যা হৃদযন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর। যখন একজন রোগীর রক্তচাপ বেশি থাকে এবং একই সঙ্গে কোলেস্টেরলও বেশি থাকে, তখন রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দুই থেকে তিন গুণ বেড়ে যায়। তাই এই খাবারগুলো যতটা সম্ভব কমিয়ে আনতে হবে বা সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া ভালো।
পরিবর্তে কী খাবেন? সবুজ শাকসবজি, বিভিন্ন ধরনের তাজা ফলমূল দেশি হোক বা বিদেশি এবং খনিজ লবণসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করতে হবে। এগুলো রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
সবচেয়ে কার্যকর ও সহজ ব্যায়াম হলো নিয়মিত হাঁটা, বিশেষত দ্রুত গতিতে হাঁটা বা ব্রিস্ক ওয়াকিং। একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অনেকেই জানেন শরীরের ওজন প্রতি এক কেজি কমালে রক্তচাপ পাঁচ থেকে ১০ মিলিমিটার মার্কারি পর্যন্ত কমে আসে। এটি বিভিন্ন দেশে গবেষণার মাধ্যমে প্রমাণিত।
আমাদের সময় : শুধু জীবনযাত্রার পরিবর্তনে কি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব, নাকি ওষুধ অপরিহার্য?
ডা. রেজাউল ইরফান : এটি নির্ভর করে রোগীর রক্তচাপ কোন মাত্রায় আছে তার ওপর। যাদের রক্তচাপ ১৩০ থেকে ১৩৯ বা নিচেরটা ৮০ থেকে ৮৯-এর মধ্যে, তাদের আমরা প্রি-হাইপারটেনসিভ বলি। এই পর্যায়ে সাধারণত প্রাথমিকভাবে ওষুধ না দিয়ে তিন থেকে ছয় মাস জীবনযাত্রার পরিবর্তনের পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর পুনরায় রক্তচাপ মেপে দেখা হয়।
তবে যাদের রক্তচাপ ১৪০ বা তার বেশি, তাদের ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার পরিবর্তনের পাশাপাশি অল্প মাত্রায় ওষুধও শুরু করা হয়, যাতে দ্রুত রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আসে।
এসেনশিয়াল হাইপারটেনশনের ক্ষেত্রে একটি কঠিন বাস্তবতা হলো, এই চিকিৎসা আজীবন চালাতে হয়। লক্ষণ না থাকলেও ওষুধ বন্ধ করা যাবে না। আমাদের দেশে একটি ভুল প্রবণতা দেখা যায় অনেক রোগী মনে করেন, লক্ষণ নেই মানে রোগ নেই। তাই ওষুধ খাওয়ারও দরকার নেই। এই মনোভাব অত্যন্ত বিপজ্জনক। ওষুধ চিকিৎসক নির্ধারণ করে দিলে তা নিয়মিত সেবন করতে হবে এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
আমাদের সময় : রোগীর পরিবার বা জীবনসঙ্গী এই রোগ নিয়ন্ত্রণে কী ভূমিকা রাখতে পারেন?
ডা. রেজাউল ইরফান : পরিবার ও জীবনসঙ্গীর ভূমিকা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বলা যায় চিকিৎসার একটি অপরিহার্য অংশ। প্রথমত, খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণে পরিবারে যিনি রান্না করেন, তিনি যদি সচেতনভাবে কম লবণ ও কম চর্বির মেনু তৈরি করেন, তাহলে রোগীর পক্ষে নিয়ম মেনে চলা অনেক সহজ হয়। খাবার টেবিলে যদি দেখা যায় রোগী অতিরিক্ত লবণ নিচ্ছেন বা ক্ষতিকর কিছু খাচ্ছেন, তখন স্নেহের সঙ্গে তাকে বারণ করা দরকার।
দ্বিতীয়ত, ওষুধ সেবনে উৎসাহ দেওয়া। অনেক রোগী লক্ষণ না থাকলে ওষুধ ভুলে যান বা ইচ্ছাকৃতভাবে বন্ধ রাখেন। পরিবারের সদস্যরা প্রতিদিন ওষুধ সেবনের বিষয়টি মনে করিয়ে দিতে পারেন।
তৃতীয়ত, বাড়িতে রক্তচাপ পর্যবেক্ষণ। বর্তমানে আন্তর্জাতিক চিকিৎসা গাইডলাইনে বাড়িতে ভালো মানের ব্লাড প্রেশার মেশিন রেখে নিয়মিত পর্যবেক্ষণকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। পরিবারের কেউ বা জীবনসঙ্গী যদি নিয়মিত রক্তচাপ মেপে রেকর্ড রাখেন, তাহলে অনিয়ন্ত্রিত অবস্থা দ্রুত ধরা পড়ে এবং সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যায়।
আরেকটি বিষয় হলো, অনেক রোগী ভয়ে রক্তচাপ মাপতে চান না। মনে করেন, মাপলে যদি বেশি পাওয়া যায়, তাহলে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে, ঝামেলা বাড়বে। এই ভীতি দূর করতে এবং রোগীকে মানসিকভাবে সাহস দিতে পরিবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
আমাদের সময় : উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রের কী ভূমিকা থাকা উচিত বলে মনে করেন?
ডা. রেজাউল ইরফান : রাষ্ট্রের ভূমিকা এখানে অপরিসীম এবং অপরিহার্য। আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষ এখনও উচ্চ রক্তচাপের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন নন। এই অজ্ঞতার অন্ধকার থেকে মানুষকে আলোতে আনতে হলে একক কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির পক্ষে তা সম্ভব নয়, রাষ্ট্রকেই এগিয়ে আসতে হবে।
সচেতনতার ক্ষেত্রে গণমাধ্যম, জেলা-উপজেলা পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি, সেবাকর্মী এবং এমনকি মসজিদের ইমামদের মাধ্যমেও এই বার্তা একেবারে তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। রাষ্ট্রীয়ভাবে পরিকল্পিত প্রচারণা পরিচালনা করলে মানুষের মধ্যে সচেতনতা দ্রুত বাড়বে।
চিকিৎসার ব্যয়ভারের ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ দীর্ঘমেয়াদী, অনেক সময় একাধিক ওষুধ প্রয়োজন হয়। সঙ্গে যদি ডায়াবেটিস বা কিডনি রোগ থাকে, তাহলে চিকিৎসার খরচ সাধারণ মানুষের পক্ষে বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে সরকারি ভর্তুকি বা স্বাস্থ্য বীমার মাধ্যমে সুরক্ষার ব্যবস্থা করা জরুরি।
দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির কথা বিবেচনায় নিলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়। উচ্চ রক্তচাপের কারণে স্ট্রোক হয়ে প্যারালাইজড হয়ে গেলে একজন কর্মক্ষম মানুষ সে রিকশাচালক হোক, কারখানা শ্রমিক হোক বা ট্যাক্সি ড্রাইভার হোক পুরো পরিবারের জন্য বোঝা হয়ে যায়। হার্ট অ্যাটাক বা কিডনি ফেইলিউরের চিকিৎসা এতটাই ব্যয়বহুল যে, অধিকাংশ পরিবার তা বহন করতে পারে না। তাই প্রতিরোধে বিনিয়োগ করা, চিকিৎসায় খরচের চেয়ে অনেক সাশ্রয়ী।
আমাদের সময় : সর্বশেষ, সাধারণ মানুষের উদ্দেশে আপনার বার্তা কী?
ডা. রেজাউল ইরফান : আমার বার্তা খুব সহজ, কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, সচেতন হোন এবং নিয়মিত রক্তচাপ মাপান। লক্ষণ না থাকলেও মাপান। বিশেষত যদি পরিবারে কারও উচ্চ রক্তচাপের ইতিহাস থাকে।
দ্বিতীয়ত, রক্তচাপ মাপাতে হলে যোগ্য চিকিৎসকের কাছে যান। আমাদের দেশে একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা দেখা যায়, অনেকে ফার্মেসিতে গিয়ে ওষুধ বিক্রেতার কাছে রক্তচাপ মাপান এবং তার পরামর্শে চিকিৎসা নেন। অথচ সঠিকভাবে রক্তচাপ মাপা এবং তার ব্যাখ্যা করা একটি দক্ষতার বিষয়। কমপক্ষে একজন এমবিবিএস চিকিৎসকের কাছে গিয়ে রক্তচাপ পরীক্ষা করান।
তৃতীয়ত, ওষুধ নিয়মিত সেবন করুন। লক্ষণ থাক বা না থাক। ‘লক্ষণ নেই তাই ওষুধ খাব না’Ñ এই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। চিকিৎসক যে ওষুধ দিয়েছেন, তা নির্ধারিত সময় পর্যন্ত নিয়মিত সেবন করুন এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর চিকিৎসকের কাছে গিয়ে পরামর্শ নিন, যাতে ওষুধের ডোজ বা ধরন প্রয়োজনে পরিবর্তন করা যায়।
মনে রাখবেন, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা যায় কিন্তু তার জন্য দরকার সচেতনতা, শৃঙ্খলা এবং ধারাবাহিক চিকিৎসা।