বৃহস্পতিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৪:১৮ অপরাহ্ন

ফের ডুবল চট্টগ্রাম

স্বদেশ ডেস্ক: আরও একবার প্রবল বর্ষণে চট্টগ্রাম শহরের বেশিরভাগ এলাকা ডুবে গেল। আগের রাত থেকে টানা ভারী বৃষ্টির কারণে একাধিক স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনাও ঘটেছে। এসব স্থান থেকে আগেই বসতি সরিয়ে নেওয়ায় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। তবে অনেক ঘরবাড়ি মাটির নিচে চাপা পড়েছে। নগরীর বেশিরভাগ সড়ক পানির নিচে থাকায় প্রায় দিনভর ভোগান্তিতে পড়তে হয় নগরবাসীকে।

যেসব স্কুল-কলেজ খোলা ছিল, সেগুলোয় শিক্ষার্থী উপস্থিতির সংখ্যা ছিল খুবই কম। এদিকে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আরও দুদিন থাকতে পারে ভারী বৃষ্টিপাত। ভারী বর্ষণের কারণে নগরীর কুসুমবাগ ও আরেফিননগরে পাহাড়ধস হয়েছে। আরেফিননগরের পাহাড়ের ধসে পড়া মাটির নিচ থেকে দুজনকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বায়েজিদ থানার ওসি আতাউর রহমান খন্দকার।

টানা বৃষ্টির কারণে এক সপ্তাহ ধরে এ জলাবদ্ধতায় নাকাল হতে হচ্ছে নগরবাসীকে। গতকাল নগরীর ষোলশহর, বহদ্দারহাট ও প্রবর্তক এলাকায় সড়কের ওপর কোমরপানি জমে গেলে নদীর মতোই ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়। এর বাইরে নগরজুড়ে ওয়াসা, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের খোঁড়াখুঁড়ির কারণে সড়ক ও আশপাশের এলাকায় রয়েছে গর্ত।

পানির কারণে নালা ও গর্ত শনাক্ত করতে না পারার শঙ্কায় এসব সড়কে যান চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়। আবার পানির উচ্চতা বেশি থাকায় কার, মাইক্রোবাস কিংবা সিএনজি অটোরিকশার মতো যানবাহন চলাচলেরও সুযোগ ছিল না। টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন সড়কে পানি জমে যানবাহন চলাচলে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। মূল সড়কগুলোয় যানজট তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া অলিগলিতেও জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।

পানি ঢুকে পড়েছে বাসা-দোকান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অফিস, কাঁচাবাজারেও। সার্বিকভাবে বৃষ্টিতে দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। গতকাল শনিবার সকাল থেকে নগরীর ওয়াসা, মেহেদিবাগ, প্রবর্তক, অক্সিজেন মোড়, মুরাদপুর, ২ নম্বর গেট, চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা, বহদ্দারহাট, বাদুড়তলা, পাঁচলাইশ, শুল্কবহর, কাপাসগোলা, কাতালগঞ্জ, আগ্রাবাদ অ্যাক্সেস রোড, বাকলিয়া, হালিশহরসহ চট্টগ্রাম নগরীর বড় অংশজুড়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও হাঁটুপানি, আবার কোথাও কোমরপানিতে তলিয়ে গেছে নগরীর মূল সড়ক ও অলিগলি।

গত ৮ জুলাই ভারী বর্ষণে নগরীর দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল। এর পর থেকে নগরীর কোনো না কোনো এলাকা পানির নিচে রয়েছে। বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে প্রতিদিন নির্দিষ্ট কিছু এলাকা প্লাবিত হচ্ছিল। কিন্তু শুক্রবার রাত থেকে একটানা মুষলধারের বৃষ্টিতে গতকাল সকাল থেকে আবারও জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে চট্টগ্রাম।

নগরীর পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ বিশ্বজিৎ চৌধুরী জানিয়েছেন, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এ বৃষ্টিপাত আরও দুদিন থাকতে পারে। নগরীর বাইরেও প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। শঙ্খ নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় পার্শ্ববর্তী আমিলাইশ, কালিয়াইশ, বাজালিয়া, কেউচিয়া, নলুয়া, পুরানগড় ও খাড়রিয়া ইউনিনের ঘরবাড়ি ডুবে গেছে।

সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কুতুবউদ্দিন চৌধুরী আমাদের সময়কে বলেন, শঙ্খ নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নদীর উভয় পারের মানুষ শুকনো খাবার ও পানীয় জলের অভাবে পড়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে এ ধরনের খাবার সংগ্রহ করে তাদের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হচ্ছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

© All rights reserved © 2019 shawdeshnews.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
themebashawdesh4547877