স্পোর্টস ডেস্ক:
তাজা ঘাসে ভরা উইকেট। বিপরীতে থাকে আগুনমুখো পেস বোলিং। তারপরও ব্যাট হাতে নিপুন কারিগর কেন উইলিয়ামসন। চরম ধৈয নিয়ে খেলতে থাকেন। বাড়তে থাকে রান। ছাড়িয়ে যায় তিন অঙ্ক। কখনো কখনো সেটি ডাবল সেঞ্চুরি।
নিউজিল্যান্ডের হয়ে টানা তিন টেস্টে তা করে দেখালেন অধিনায়ক কেন। হ্যামিল্টনে ২৫১, মাউন্ট মঙ্গানুইতে ১২৯। এরপর ক্রাইস্টচার্চে মাথা ঠাণ্ডার অধিনায়ক খেলেছেন ২৩৮ রানের এক মহাকাব্য।
যার বদৌলতে দ্বিতীয় টেস্টে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে রানের পাহাড়ই গড়েছে নিউজিল্যান্ড। মঙ্গলবার প্রথম ইনিংসে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ ৬৫৯, ডিক্লিয়ার। প্রথম ইনিংসে পাকিস্তান অল আউট হয়েছিল ২৯৭ রানে।
উইলিয়ামসনের সাথে রানের গতি বাড়িয়েছেন হেনরি নিকোলস ও ড্যারিল মিশেল। এই দুজনও পেয়েছেন সেঞ্চুরির দেখা।
সোমবার দ্বিতীয় দিন শেষে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ ছিল তিন উইকেটে ২৮৬ রান। ১১২ রানে কেন উইলিয়ামাসন ও ৮৯ রানে হেনরি নিকোলস ছিলেন অপরাজিত। মঙ্গলবার দুজনই কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌছান। উইলিয়ামসন পান ক্যারিয়ারের চতুর্থ ডাবল সেঞ্চুরি। নিকোলস খেলেন ১৫৭ রানের দারুণ ইনিংস।
দলীয় ৭১ রানে পড়েছিল তৃতীয় উইকেট। সেখান থেকে উইলিয়ামসন ও নিকোলস দলকে নিয়ে যান ৪৪০ রান পযন্ত। চতুর্থ উইকেট জুটিতে নিউজিল্যান্ডের রেকর্ড সর্বোচ্চ ৩৬৯ রান।
৩৬৪ বলে উইলিয়ামসন করেছেন ২৩৮ রান। বাউন্ডারি ২৮টি। নেই ছক্কা। নিউজিল্যান্ডের রেকর্ড ৪টি ডাবল সেঞ্চুরি উইলিয়ামসনের। তার সাথে যৌথভাবে আছেন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক হিসেবে রেকর্ড ৩টি ডাবল সেঞ্চুরি উইলিয়ামসনের (ম্যাককালাম ও স্টিভেন ফ্লেমিংয়ের সঙ্গে)। আবার ৭ হাজার টেস্ট রানের মাইলফলকও স্পর্শ করেন তিনি এই দারুণ ইনিংস খেলে।
২৯১ বলে ১৫৭ রান করেন হেনরি নিকোলস। ১৮টি চারের সঙ্গে তিনি হাকিয়েছেন ১টি ছক্কা। শেষের দিকে রান বাড়ানোর তাগিদে ওয়ানডে স্টাইলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ড্যারিল মিশেল। ১১২ বলে তিনি স্পর্শ করেন তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার শাহিন শাহ আফ্রিদিকে চার হাকিয়ে। টেস্টে মিশেলের এটি প্রথম সেঞ্চুরি। শেষ পযন্ত ১১২ বলে ১০২ রানে অপরাজিত থাকেন মিশেল। ২২ বলে ৩০ রানে অপরাজিত থাকেন পেসার জেমিসন।
বল হাতে পাকিস্তানের হয়ে শাহিন শাহ আফ্রিদি, মোহাম্মদ আব্বাস ও ফাহিম আশরাফ দুটি করে উইকেট নেন।
৩৬২ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাট করতে নেমেছে পাকিস্তান। এই প্রতিবেদন লেখা পযন্ত পাকিস্তান রানের খাতা খুলতে পারেনি, কিন্তু ওভার গেছে ৫টি। দিনের খেলা বাকি তখন পযন্ত ছিল ওভার পাঁচেকের মতোই।
প্রথম টেস্টের মতো এই টেস্টে হারতে চলেছে পাকিস্তান, তা অনেকটাই অনুমেয়।