মঙ্গলবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৭:৩৯ অপরাহ্ন

ওই ওভারে কেন বল করেছিলেন, মুখ খুললেন গুলবদিন

ওই ওভারে কেন বল করেছিলেন, মুখ খুললেন গুলবদিন

স্পোর্টস ডেস্ক: দলের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ভালো কোনো বলারের হাতে বল তুলে দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি, বরং নিজেই বল করে ম্যাচটা পাকিস্তানের হাতে তুলে দিয়েছেন। এর ফলে গতকাল শনিবার পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের পথে থেকেও শেষ পর্যন্ত হেরেছে আফগানিস্তান। এ জন্য কাঠগড়ায় আফগান অধিনায়ক গুলবদিন নাইব।

ম্যাচ হারের পর প্রশ্ন উঠেছে, ৪৬তম ওভারে কেন নিজেই বল করলেন গুলবদিন নাইব? এ প্রসঙ্গেই এক সংবাদ সম্মেলনে মুখ খুলেছেন আফগান অধিনায়ক।

শেষ ৫ ওভারে ৪৬ রান দরকার ছিল পাকিস্তানের। এ অবস্থায় ৪৬তম ওভারে বল করতে আসেন আফগান অধিনায়ক গুলবদিন নাইব। কাল ম্যাচের ৪৬তম ওভার থেকেই গোটা ক্রিকেটবিশ্বে যেন একটাই প্রশ্ন—কেন, গুলবদিন কেন?

৪৬তম ওভারে গুলবদিনকে বল করতে আসতে হবে কেন? যেখানে পাকিস্তান ব্যাটসম্যানদের নাভিশ্বাস তুলে ফেলেছিলেন আফগান স্পিনাররা। তখন শিনোয়ারি, রশিদ ও মুজিবের মোট ৫ ওভারই বাকি ছিল। অর্থাৎ স্পিনারদের দিয়েই ওভারগুলো শেষ করাতে পারতেন গুলবদিন। পার্টটাইমার হয়েও দুর্দান্ত বল করা শিনোয়ারিকে দিয়ে অন্তত ৪৬ ও ৪৮তম ওভার বল করাতে পারতেন। কিন্তু আগের ৮ ওভারে ৪৭ রান দেওয়া গুলবদিন সেসব চিন্তা মাথাতেই আনলেন না।

নিজের হাতেই বল তুলে নিয়ে লাইন-লেংথের বালাই না করে ফুল টস আর বাজে স্লোয়ারে এই বিশ্বকাপে সম্ভবত সবচেয়ে জঘন্য ওভার উপহার দিয়েছেন গুলবদিন। তখন হাতে মাত্র ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়া পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত ম্যাচে ফিরেছে গুলবদিন ওই ওভারে ১৮ রান দেওয়ায়। কিন্তু আফগান অধিনায়কের বোকামি, স্বার্থপরতা যাই বলুন না কেন সেসবের এখানেই শেষ নয়।

জয়ের জন্য শেষ ওভারে ৬ রান দরকার ছিল পাকিস্তানের। শিনোয়ারির হাতে বল দিয়ে অধিনায়ক হিসেবে গুলবদিন তখনো ম্যাচে ফেরার লড়াই করতে পারতেন। কিন্তু তা না করে শেষ ওভার করেছেন তিনি নিজেই! ম্যাচটা শেষ হয়েছে ৪ বলের মধ্যে, গুলবদিন এর মধ্যে নষ্ট করেছেন একটি রানআউটের সুযোগও। এসব দেখে অনেক ক্রিকেটপ্রেমীই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন গুলবদিন কি ম্যাচ পাতিয়েছেন? নইলে ম্যাচের অমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তিনি বোলিংয়ে আসবেন কেন?

জবাবে গুলবদিন নাইব বলেন, ‘আমরা ভেবেছি, সব বোলার ওদের লক্ষ্য নয়। প্রতিটি দলেরই নিজস্ব পরিকল্পনা থাকে, আর ৪৬তম ওভারটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে ওভারে আমি ১৮ রান দিয়েছি, মোটেও ভালো হয়নি। হামিদ (হাসান) থাকলে আমি সম্ভবত তিন-চার ওভারের বেশি বল করতাম না। কারণ এ উইকেটে বল করার মতো পর্যাপ্ত গতি আমার নেই।’

আফগান অধিনায়ক আসলে বোঝাতে চেয়েছেন, দলের সেরা পেসার হামিদ হাসান না থাকায় তাকে ম্যাচের ওই মুহূর্তে বল করতে হয়েছে। পাকিস্তানের ইনিংসে ২ ওভার বল করেই হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন হামিদ। কিন্তু ম্যাচের ওই মুহূর্তে ক্লাব পর্যায়ের কোনো অধিনায়কও সম্ভবত পেসারদের হাতে বল তুলে দেবেন না। কারণ, তার আগে আফগান স্পিনারদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়েছিল পাকিস্তান। উইকেটও স্পিনারদের সাহায্য করছিল দারুণভাবে। বল থেমে থেমে আসার সঙ্গে ভালোই বাঁক নিচ্ছিল। আর তখন শিনোয়ারির হাতেও দুটি ওভার ছিল।

তবে আফগান অধিনায়কের ব্যাখ্যা ক্রিকেটপ্রেমীদের যে সন্তুষ্ট করতে পারছে না, সে কথা বলাই বাহুল্য। এখন সবাই একটি বিষয়ে একমত, অধিনায়ক হিসেবে চরম স্বার্থপরতা, বাজে এবং মূর্খতার এটাই সম্ভবত সবচেয়ে জঘন্য নজির।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

© All rights reserved © 2019 shawdeshnews.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
themebashawdesh4547877