হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক। তার দাবি, বিশ্ববাজারে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ থেকে ৬০ লাখ ব্যারেল তেলের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে তেলের দাম দীর্ঘ সময় উচ্চপর্যায়ে থাকতে পারে।
রাশিয়ার রাজনৈতিক টক শো ‘সলোভিয়ভ লাইভ’-এ দেওয়া বক্তব্যে নোভাক এসব কথা বলেন। রোববার (১৮ অক্টোবর) আল জাজিরার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।
নোভাক বলেন, পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে তেলের সরবরাহ আবার স্বাভাবিক হলে আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে বিশ্ববাজারে চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য ফিরতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বাজার স্থিতিশীল রাখতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তেলের মজুত ব্যবহারের সক্ষমতা ইতিমধ্যে প্রায় নিঃশেষ হওয়ার পথে।
নোভাক জানান, রাশিয়ার একটি বন্দর থেকে বিশ্ববাজারের উদ্দেশে প্রথম তেলবাহী ট্যাংকার ছেড়ে গেছে। গত ৯ অক্টোবর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মস্কোর সঙ্গে একটি চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার পর এই চালান পাঠানো হলো বলে তিনি উল্লেখ করেন। ওই চুক্তির আওতায় রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ করবে বলে জানানো হয়েছিল।
তাদের আশঙ্কা, রাশিয়ার তেল বিক্রি থেকে অর্জিত আয় ইউক্রেনের বিরুদ্ধে দেশটির চলমান যুদ্ধে অর্থায়নে সহায়তা করতে পারে।
বিশ্ববাজারে কী প্রভাব পড়তে পারে?
হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি এই পথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছায়। এ পথে সরবরাহ ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম, পরিবহন ব্যয় এবং জ্বালানিনির্ভর পণ্যের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
নোভাকের বক্তব্য অনুযায়ী, সরবরাহের ঘাটতি দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দাম উচ্চপর্যায়ে থাকতে পারে। অন্যদিকে, উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে বাজারের ভারসাম্য ফিরতে এক বছর থেকে দেড় বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।