দ্বিতীয়ার্ধে গোল করে ইন্টার মায়ামিকে জয়ের পথে এগিয়ে দিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। তবে যোগ করা সময়ের গোলে পাল্টা জবাব দিয়ে ন্যাশভিল এসসি ২-২ গোলে ড্র আদায় করে নেয়। ফলে ইস্টার্ন কনফারেন্সের শীর্ষে ন্যাশভিলের সঙ্গে মায়ামির ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৯ পয়েন্টে।
৬২তম মিনিটে মনে হচ্ছিল, মেসির গোলে জয় নিশ্চিত করতে যাচ্ছে মায়ামি। আর্জেন্টিনা দলের দীর্ঘদিনের সতীর্থ রদ্রিগো দে পলের সঙ্গে বল দেওয়া-নেওয়ার পর প্রায় ২০ গজ দূর থেকে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে বল জালে পাঠান মেসি।
এরপর আরও দুবার গোলের খুব কাছে গিয়েছিলেন ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা। গোল করতে পারলে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মায়ামির হয়ে তাঁর গোলসংখ্যা ১০০ হতো। কিন্তু প্রথমবার ব্রায়ান শোয়াকের দুর্দান্ত সেভে বল পোস্টে লেগে ফিরে আসে। পরে ন্যাশভিলের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় জেইসন পালাসিওস শেষ মুহূর্তে মাথা দিয়ে বল সরিয়ে দেন।
তবে যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটেই বড় ধাক্কা খায় মায়ামি। স্যাম সারিজ গোল করে ন্যাশভিলকে সমতায় ফেরান। এর আগে ম্যাচের মাত্র চতুর্থ মিনিটেই ন্যাশভিলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন সারিজ।
চলতি মৌসুমে নিজেদের মাঠে এগিয়ে থেকেও মায়ামি এখন পর্যন্ত ১১ পয়েন্ট হারিয়েছে। এই তালিকায় তাদের চেয়ে বেশি পয়েন্ট হারিয়েছে শুধু নিউইয়র্ক সিটি এফসি ও সিএফ মন্ট্রিয়ল।
শনিবারের এই ড্র মায়ামির জন্য আরও বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। পূর্বাঞ্চলীয় সম্মেলনে শীর্ষস্থান এবং সমর্থকদের ঢালের লড়াইয়ে ৯ ম্যাচ হাতে রেখে ন্যাশভিলের চেয়ে ৯ পয়েন্ট পিছিয়ে পড়েছে মায়ামি।
২০২০ সালে মায়ামির সঙ্গে একই সময়ে সম্প্রসারণ দল হিসেবে প্রতিযোগিতায় যোগ দেওয়া ন্যাশভিল এখন নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবার সাপোটার্স শিল্ড জয়ের দারুণ অবস্থানে রয়েছে।
এদিকে ক্রিস্তিয়ান ‘কিলি’ গনসালেস আনুষ্ঠানিকভাবে কোচের দায়িত্ব নেওয়ার অপেক্ষায় থাকা মায়ামি সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে নিজেদের শেষ নয় ম্যাচে মাত্র একটিতে জয় পেয়েছে।
শনিবারের ম্যাচে অবশ্য সেই জয়ের সংখ্যা বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ পেয়েছিল মায়ামি ও মেসি।
১৯তম মিনিটে মায়ামিকে সমতায় ফেরাতে বড় ভূমিকা রাখেন মেসি। তাঁর ভেতরের দিকে বাঁক নেওয়া কর্নার ন্যাশভিলের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় রিড বেকার-হোয়াইটিংয়ের মাথায় লেগে নিজেদের জালেই ঢুকে যায়।
২৭তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে মেসির শট আটকে দেন ন্যাশভিলের খেলোয়াড়েরা। কিছুক্ষণ পর ফ্রি-কিক থেকেও লক্ষ্যভ্রষ্ট হন তিনি। তবে দ্বিতীয়ার্ধে শেষ পর্যন্ত গোলের দেখা পান মেসি। এটি ছিল চলতি মৌসুমে প্রতিযোগিতায় তাঁর ১৯তম গোল, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।
এরপর অবশ্য নিজের গোলসংখ্যা আর বাড়াতে পারেননি ৩৯ বছর বয়সী মেসি। দ্বিতীয়ার্ধে তাঁর একটি শট ক্রসবারে এবং আরেকটি পোস্টে লাগে। ন্যাশভিল সমতায় ফেরার পরও মায়ামির জয়ের সুযোগ এসেছিল। কিন্তু দে পলের শট পোস্টের বাইরের দিকে লেগে ফিরে আসে।
চলতি মৌসুমে মায়ামির বিপক্ষে চার ম্যাচে একটিতেও হারেনি ন্যাশভিল। গত ১৫ আগস্ট দুই দলের সর্বশেষ লিগের ম্যাচে ন্যাশভিল ৪-১ গোলে জিতেছিল। এর আগে মৌসুমের শুরুতে কনকাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপ থেকেও মায়ামিকে বিদায় করে দেয় তারা।