বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১০ পূর্বাহ্ন

রেকর্ড ট্রান্সফার ফিতে এনজোকে দলে ভেড়াল ম্যানসিটি

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১ বার

চেলসি থেকে আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজকে ১২৫ মিলিয়ন পাউন্ডে দলে ভিড়িয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। এর ফলে ব্রিটিশ ফুটবলের যৌথ সর্বোচ্চ দলবদলের রেকর্ড গড়েছে সিটিজেনরা।

ফার্নান্দেজকে দলে নিতে সিটির এই খরচের ফলে চলতি দলবদল মৌসুমে তাদের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৪৫৮ মিলিয়ন পাউন্ডে। এক মৌসুমে এক দলবদল পর্বে এত বেশি অর্থ ব্যয়ের নজির ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে আর নেই। গত গ্রীষ্মে লিভারপুলের ৪১৫ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয়ের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে সিটি।

তবে খেলোয়াড় বিক্রি করেও এ গ্রীষ্মে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন পাউন্ড আয় করেছে ম্যানচেস্টার সিটি।

২০২৩ সালে পর্তুগালের বেনফিকা থেকে তৎকালীন ব্রিটিশ রেকর্ড ১০৭ মিলিয়ন পাউন্ডে ফার্নান্দেজকে দলে নিয়েছিল চেলসি। এবার তার দলবদলের অঙ্ক ১২৫ মিলিয়ন পাউন্ড, যা গত গ্রীষ্মে দলবদলের শেষ দিনে আলেকজান্ডার ইসাককে নিউক্যাসল থেকে দলে নিতে লিভারপুলের দেওয়া অর্থের সমান।

গত ২৪ ঘণ্টা ধরে দুই ক্লাবের মধ্যে আলোচনা চলার পর মঙ্গলবার আগেই চুক্তিতে পৌঁছায় তারা।

চলতি গ্রীষ্মের শুরুতে রিয়াল মাদ্রিদে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন ফার্নান্দেজ। চেলসির সমর্থকদের সঙ্গে তার সম্পর্কও তিক্ত হয়ে উঠেছিল। রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে সমর্থকেরা তাকে দুয়ো দেন। পরে ফুলহামের বিপক্ষে প্রিমিয়ার লিগের প্রথম ম্যাচে বদলি হিসেবে মাঠে নামার সময়ও একইভাবে তাকে দুয়ো শুনতে হয়।

রোববার ব্রাইটনের বিপক্ষে চেলসির ৪-৩ গোলের জয় এবং তার তিন দিন আগে লুটনের বিপক্ষে ২-০ গোলের লিগ কাপ জয়ে ফার্নান্দেজ দলে ছিলেন না। আর্জেন্টিনার বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, তিনি নিজেই দলে না রাখার অনুরোধ করেছিলেন।

চেলসিকে উদ্দেশ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক খোলা চিঠিতে ফার্নান্দেজ লিখেছেন, ‘আমি চাই আপনারা জানুন, গত কয়েকটি দিন আমার জন্য মোটেও সহজ ছিল না।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘এটি লেখাও সহজ নয়। সত্যি বলতে, আমি ভালো অবস্থায় ছিলাম না।’

চেলসিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই ক্লাবটির হয়ে জেতার এবং এর গৌরবময় ইতিহাসের প্রাপ্য প্রতিটি শিরোপা এনে দেওয়ার জন্য তিনি মরিয়া ছিলেন বলেও জানান ফার্নান্দেজ।

‘আমরা কষ্ট পেয়েছি, কেঁদেছি, আমি অনেকবার রেগে গিয়েছি। তবে আমরা শিরোপাও জিতেছি, উদযাপন করেছি এবং একসঙ্গে অনেক স্মরণীয় জয় পেয়েছি। ভালো সময় ও কঠিন সময়—দুই সময়ই আমরা একসঙ্গে ছিলাম।’

ফার্নান্দেজ বলেন, চেলসি ‘সবসময় আমার হৃদয়ে থাকবে’। ক্লাব ছাড়ার সিদ্ধান্তটি কঠিন ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমর্থকদের জায়গায় নিজেকে রাখলে সম্ভবত তিনিও একইভাবে ভাবতেন।

ফার্নান্দেজকে নিয়ে অনিশ্চয়তার অবসান ঘটাতে চেলসি গত ১৪ আগস্ট বাংলাদেশ সময় রাত ১০টার মধ্যে ১২০ মিলিয়ন পাউন্ড বা তার বেশি প্রস্তাব দেওয়ার জন্য আগ্রহী ক্লাবগুলোকে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল। নতুন মৌসুম শুরুর আগে বিষয়টির নিষ্পত্তিই ছিল এর উদ্দেশ্য।

আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের এই খেলোয়াড় ম্যানচেস্টার সিটির বর্তমান কোচ এনজো মারেসকার সঙ্গে চেলসিতে থাকাকালে কাজ করেছিলেন। এ গ্রীষ্মে একাধিক মিডফিল্ডার হারানোর পর আবার ফার্নান্দেজের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী মারেসকা।

ম্যানচেস্টার সিটির ওয়েবসাইটে দেওয়া বক্তব্যে ফার্নান্দেজ বলেন, ‘এখানে আসতে পেরে আমি ভীষণ খুশি। সিটির হয়ে আরও শিরোপা জয়ে অবদান রাখার চ্যালেঞ্জ নিতে আমি প্রস্তুত। এই ক্লাব সাফল্যের জন্যই তৈরি।’

তিনি আরও বলেন, ‘দলের দিকে তাকালে দেখা যায়, প্রতিটি বিভাগেই অসাধারণ মানের খেলোয়াড় রয়েছে। আমি নতুন সতীর্থদের কাছ থেকে শিখতে চাই এবং নিজেকে আরও ভালো খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’

‘আমি সবসময় নিজের সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করি। ম্যানচেস্টার সিটিকে আমি প্রতিশ্রুতি দিতে পারি, এখানেও সেটিই করে যাব।’

মাত্র দুই মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বার নিজেদের দলবদল রেকর্ড ভাঙল ম্যানচেস্টার সিটি। এর আগে জুলাইয়ে নটিংহাম ফরেস্ট থেকে এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে ১১৬ মিলিয়ন পাউন্ডে দলে নিয়েছিল তারা।

চলতি গ্রীষ্মে অন্তত ১০০ মিলিয়ন পাউন্ডে প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবে যোগ দেওয়া চতুর্থ খেলোয়াড় এখন ফার্নান্দেজ। এর আগে মর্গান রজার্স ১১৭ মিলিয়ন পাউন্ডে চেলসিতে, ব্র্যাডলি বারকোলা ১২৩ মিলিয়ন পাউন্ডে লিভারপুলে এবং অ্যান্ডারসন ১১৬ মিলিয়ন পাউন্ডে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেন।

এ গ্রীষ্মে ম্যানচেস্টার সিটির মাঝমাঠ থেকেও একাধিক খেলোয়াড় বিদায় নিয়েছেন। তিজ্জানি রেইন্ডার্স ৫২ মিলিয়ন পাউন্ডে সৌদি আরবের আল-কাদসিয়ায় যোগ দিয়েছেন। বার্সেলোনা রদ্রিকে ৬৫ মিলিয়ন পাউন্ডে দলে নিয়েছে। নিকো গঞ্জালেস ৫২ মিলিয়ন পাউন্ডে নিউক্যাসেলে গেছেন। আর বার্নার্দো সিলভা গ্রীষ্মের শুরুতেই ক্লাব ছেড়ে বিনা দলবদল ফিতে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিয়েছেন।

এ ছাড়া সাভিওকে টটেনহ্যামের কাছে ৭৫ মিলিয়ন পাউন্ডে বিক্রি করেছে সিটি। আগামী গ্রীষ্মে ওমর মারমুশের ধারে খেলার চুক্তি স্থায়ী হলে আরও ৬০ মিলিয়ন পাউন্ড পাবে তারা।

দলকে শক্তিশালী করতে ১৮ বছর বয়সী মিডফিল্ডার আইয়ুব বুয়াদ্দিকে লিল থেকে ৮৬ মিলিয়ন পাউন্ডে এবং ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার আলান এলিয়াসকে ৩৪ মিলিয়ন পাউন্ডে দলে নিয়েছে সিটি। এ ছাড়া উইঙ্গার জেরেমি মঙ্গা ও গোলরক্ষক জেরোনিমো রুলিকেও তুলনামূলক কম অর্থে দলে ভিড়িয়েছে তারা।

এভারটনের উইঙ্গার ইলিমান দিয়ান্দিয়েকে দলে নেওয়ার বিষয়েও দুই ক্লাবের মধ্যে চুক্তি হয়েছে। সব মিলিয়ে এই দলবদলের জন্য সিটির ব্যয় আরও ৬৫ মিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত বাড়তে পারে।

চলতি গ্রীষ্মের শুরুতে ফার্নান্দেজকে ধরে রাখতে চেয়েছিল চেলসি। কিন্তু মার্চ থেকেই ক্লাব ছাড়ার জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন তিনি এবং নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেননি।

ফার্নান্দেজের লক্ষ্য ছিল রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়া। তবে শেষ পর্যন্ত স্প্যানিশ ক্লাবটি বিবৃতি দিয়ে জানিয়ে দেয়, তারা তার জন্য কোনো প্রস্তাব দেবে না।

চেলসির ইতিহাসে ফার্নান্দেজের দলবদল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অর্থের খেলোয়াড় বিক্রির ঘটনা। এর আগে ২০১৯ সালে এডেন হ্যাজার্ডকে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে বিক্রি করেছিল তারা। ফার্নান্দেজকে বিক্রির ফলে খেলোয়াড় বিক্রি থেকে প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে নিজেদের সর্বোচ্চ আয়ও গড়তে যাচ্ছে চেলসি।

ফার্নান্দেজের বিদায়ের পাশাপাশি নিকোলাস জ্যাকসনকে ৬৫ মিলিয়ন পাউন্ডে অ্যাস্টন ভিলায় এবং লিয়াম ডেলাপকে ৫০ মিলিয়ন পাউন্ডে নটিংহাম ফরেস্টে বিক্রি করেছে চেলসি। ফলে ক্লাবটির চলতি গ্রীষ্মের খেলোয়াড় বিক্রি থেকে আয় এখন ৪০০ মিলিয়ন পাউন্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে।

গত মৌসুমে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন পাউন্ড খেলোয়াড় বিক্রি করে যে রেকর্ড গড়েছিল চেলসি, এবার তার চেয়ে অনেক বেশি আয় করতে যাচ্ছে তারা।

দল বড় হয়ে যাওয়ায় খেলোয়াড় সংখ্যা কমানোর প্রয়োজন ছিল চেলসির। এর সঙ্গে গত মৌসুমে কোনো শিরোপা না জেতা এবং দশম হয়ে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় জায়গা হারানোর বিষয়টিও তাদের দল পুনর্গঠনের সিদ্ধান্তকে ত্বরান্বিত করেছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ