বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৩ অপরাহ্ন

আরামে ফ্যাশনে ট্রেন্ডে

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২ বার

গরমে বাইরে বের হওয়ার আগে একটাই ভাবনা থাকে— আরামও চাই, আবার সাজটাও যেন জমে! ভ্যাপসা আবহাওয়ায় ভারী পোশাক যেখানে অস্বস্তির, সেখানে হালকা কুর্তি কিংবা ওয়ান পিস হয়ে উঠছে সহজ সমাধান। পরতে স্বস্তি, দেখতে ট্রেন্ডি— ভ্রমণ হোক কিংবা প্রতিদিনের ব্যস্ততা, গরমে ফ্যাশন আর আরামের দারুণ মেলবন্ধন হতে পারে এই পোশাকগুলো। বিস্তারিত লিখেছেন— ঈষিতা হোসেন

গরম মানেই যেন ঘামের অস্বস্তি, ভ্যাপসা আবহাওয়া আর বাইরে বের হওয়ার আগে পোশাক নিয়ে বাড়তি চিন্তা। বিশেষ করে আমাদের দেশের গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় সাজগোজ করতে গিয়ে অনেক সময় স্বস্তির বিষয়টি আড়ালে পড়ে যায়। অথচ ফ্যাশন মানেই শুধু চোখে সুন্দর লাগা নয়, বরং পোশাকের সঙ্গে নিজের স্বাচ্ছন্দ্য ও ব্যক্তিত্বকে প্রকাশ করাও ফ্যাশনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই গরমের মৌসুমে এমন পোশাকই এখন বেশি জনপ্রিয়, যেগুলো একদিকে যেমন আরামদায়ক, অন্যদিকে তেমনই ট্রেন্ডি ও সহজে পরা যায়। এই তালিকায় বেশ ওপরের দিকেই রয়েছে কুর্তি ও ওয়ান পিস। একসময় কুর্তিকে মূলত অফিস কিংবা দৈনন্দিন ব্যবহারের পোশাক হিসেবে দেখা হলেও সময়ের সঙ্গে এর নকশা, কাট, রঙ ও ফ্যাব্রিকে এসেছে বড় পরিবর্তন। একইভাবে ওয়ান পিসও এখন শুধু পার্টি বা বিশেষ অনুষ্ঠানের পোশাক নয়; বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, শপিং, ক্যাফেতে বসা কিংবা ছুটির দিনে ঘুরতে যাওয়া— সব ক্ষেত্রেই হয়ে উঠেছে জনপ্রিয় পছন্দ। বিশেষ করে ভ্রমণের সময় এমন পোশাকের প্রয়োজন হয়, যা দীর্ঘক্ষণ পরেও শরীরে ভারী লাগে না, চলাফেরায় বাধা দেয় না এবং আলাদা করে বেশি কিছু মেলানোর ঝামেলাও তৈরি করে না। সেই জায়গায় কুর্তি ও ওয়ান পিস দুটিই বেশ কার্যকর। গরমের দিনে পোশাক বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তাই এখন ফ্যাশনপ্রেমীদের মূল ভাবনা— ‘দেখতে সুন্দর, পরতে আরাম’। আর এই দুই পোশাক সেই দুই চাহিদার মধ্যে তৈরি করে দারুণ একটি ভারসাম্য। ফলে তীব্র গরমেও সাজে থাকা যায়, আবার সারাদিনের ব্যস্ততা কিংবা ভ্রমণের আনন্দও উপভোগ করা যায় অনেক বেশি স্বচ্ছন্দে।

গরমের দিনে কুর্তি বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কাপড়। সুতি, লিনেন, কটন ভয়েল কিংবা হালকা ও শ্বাস নিতে পারে এমন ফ্যাব্রিক শরীরের জন্য তুলনামূলক আরামদায়ক। ঢিলেঢালা কাটের কুর্তি গরমে বিশেষ স্বস্তি দেয়, কারণ এতে শরীরের সঙ্গে কাপড় লেগে থাকার প্রবণতা কম থাকে এবং বাতাস চলাচলের সুযোগ তৈরি হয়। বর্তমানে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে নানা ধরনের কুর্তি— স্ট্রেইট কাট, এ-লাইন, ফ্লেয়ার, হাই-লো কিংবা লং কুর্তি। ডিজাইনের ক্ষেত্রেও রয়েছে অসংখ্য বৈচিত্র্য। ব্লক প্রিন্ট, ফুলেল মোটিফ, জ্যামিতিক নকশা, হ্যান্ড পেইন্ট, এমব্রয়ডারি কিংবা মিনিমাল প্রিন্ট— নিজের পছন্দ অনুযায়ী বেছে নেওয়া যায় যেকোনোটি। অফিসে যাওয়ার জন্য সলিড কালারের সিম্পল কুর্তি যেমন মানানসই, তেমনি ছুটির দিনে একটু রঙিন বা প্রিন্টেড কুর্তি দিতে পারে প্রাণবন্ত লুক। কুর্তির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি নানা ধরনের বটমের সঙ্গে সহজে মানিয়ে যায়। পালাজ্জো, প্যান্ট, সিগারেট প্যান্ট, লেগিংস কিংবা ডেনিম— যেকোনোটির সঙ্গেই তৈরি করা যায় আলাদা স্টাইল। অন্যদিকে ওয়ান পিসের ক্ষেত্রে খুব বেশি কিছু ভাবার প্রয়োজন হয় না। একটি সুন্দর ওয়ান পিস, সঙ্গে আরামদায়ক স্যান্ডেল বা স্নিকার্স, সানগ্লাস এবং একটি ছোট ক্রস-বডি ব্যাগ— ব্যস, তৈরি হয়ে গেল ভ্রমণের জন্য স্টাইলিশ লুক। গরমের মৌসুমে ফুলেল প্রিন্ট, প্যাস্টেল শেড, হালকা নীল, সাদা, অফ-হোয়াইট, বেইজ, পিচ, ল্যাভেন্ডার কিংবা সফট গ্রিনের মতো রং বেশ আকর্ষণীয়। যারা একটু উজ্জ্বল রঙ পছন্দ করেন, তারা কমলা, হলুদ, ফুশিয়া বা উজ্জ্বল নীলের মতো রঙও বেছে নিতে পারেন। তবে শুধু রঙ নয়, ওয়ান পিসের কাটও গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাক্সি ওয়ান পিস যেমন একটু এলিগ্যান্ট ও ফ্লোয়ি লুক দেয়, তেমনি মিডি বা হাঁটুর কাছাকাছি দৈর্ঘ্যরে ওয়ান পিস তৈরি করে ইয়ুথফুল ও ক্যাজুয়াল লুক। ভ্রমণে যারা বেশি হাঁটাহাঁটি করেন, তারা অতিরিক্ত লম্বা বা ভারী পোশাকের বদলে এমন ডিজাইন বেছে নিতে পারেন, যা চলাফেরায় স্বাচ্ছন্দ্য দেয়। আবার ছবি তোলার বিষয়টিও মাথায় রাখলে প্রিন্টেড কিংবা ফ্লোইং কাটের পোশাক ভ্রমণের ছবিতে বেশ আকর্ষণীয় দেখায়। ফলে কুর্তি ও ওয়ান পিস এখন শুধু আরামের পোশাক নয়, বরং ব্যক্তিগত স্টাইল প্রকাশেরও একটি সহজ মাধ্যম।

ভ্রমণের সময় পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে আরামের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। কারণ একটি ভ্রমণ মানেই শুধু গন্তব্যে পৌঁছানো নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া, গাড়ি বা ট্রেনে বসে থাকা, অনেকটা সময় হাঁটা, দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখা এবং কখনও কখনও আবহাওয়ার হঠাৎ পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া। তাই এমন পোশাক প্রয়োজন, যা এসব পরিস্থিতিতে স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখবে। কুর্তি ও ওয়ান পিসের আরেকটি বড় সুবিধা হলো এগুলো খুব বেশি স্টাইলিং ছাড়াই সম্পূর্ণ একটি লুক তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যারা ভ্রমণের ব্যাগে কম পোশাক নিয়ে বেশি লুক তৈরি করতে চান, তাদের জন্য কুর্তি হতে পারে চমৎকার একটি পছন্দ। একই কুর্তি কখনও জিনসের সঙ্গে ক্যাজুয়াল, আবার পালাজ্জোর সঙ্গে একটু এলিগ্যান্ট লুক দিতে পারে। সঙ্গে কানের ছোট দুল, ঘড়ি, সানগ্লাস কিংবা একটি স্কার্ফ যোগ করলেই বদলে যেতে পারে পুরো সাজ। ওয়ান পিসের ক্ষেত্রেও একইভাবে অ্যাকসেসরিজের মাধ্যমে লুক পরিবর্তন করা যায়। দিনে স্নিকার্স ও টোট ব্যাগের সঙ্গে রাখা ওয়ান পিস সন্ধ্যায় ছোট ব্যাগ ও স্টাইলিশ স্যান্ডেলের সঙ্গে হয়ে উঠতে পারে আরও পরিপাটি। তবে গরমের সময় পোশাকের সৌন্দর্যের পাশাপাশি কিছু ব্যবহারিক বিষয়ও মাথায় রাখা জরুরি। খুব ভারী কাপড়, অতিরিক্ত লেয়ার, শরীরের সঙ্গে লেগে থাকা সিনথেটিক ফ্যাব্রিক কিংবা খুব আঁটসাঁট পোশাক এড়িয়ে চলাই ভালো। হালকা রঙ ও আরামদায়ক ফ্যাব্রিক বেছে নিলে গরমে স্বস্তি অনেকটাই বাড়ে। ভ্রমণের জন্য এমন পোশাকও ভালো, যা সহজে কুচকে যায় না এবং ব্যাগ থেকে বের করেই পরা যায়। সঙ্গে আরামদায়ক জুতা রাখা জরুরি, কারণ সুন্দর পোশাকের সঙ্গে অস্বস্তিকর জুতা পুরো ভ্রমণের আনন্দটাই মাটি করে দিতে পারে। সবশেষে বলা যায়, ফ্যাশনের বর্তমান ধারায় ‘কমফোর্ট’ আর কোনো আপসের বিষয় নয়; বরং সেটিই হয়ে উঠেছে আধুনিক স্টাইলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই এই ভাপসা গরমে ঘোরাঘুরি হোক কিংবা প্রতিদিনের ব্যস্ত জীবন— কুর্তি ও ওয়ান পিস হতে পারে এমন এক ফ্যাশনেবল সমাধান, যেখানে আরাম ও ট্রেন্ড দুটিই পাশাপাশি থাকে। পোশাক যদি নিজের চলার পথে বাধা না হয়ে বরং আত্মবিশ্বাস বাড়ায়, তাহলেই তো সেই পোশাক সত্যিকারের প্রিয় হয়ে ওঠে। আর গরমের দিনে সেই স্বস্তির সঙ্গে যদি ছবিতে ধরা পড়ে একটু স্টাইল, তাহলে ভ্রমণের স্মৃতিগুলোও হয়ে ওঠে আরও রঙিন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ