শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৬:২৬ অপরাহ্ন

হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণের দাবি আইআরজিসির

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬
  • ৫ বার

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির একটি মাইন পাতা নৌপথ অতিক্রমের সময় দুটি তেলবাহী ট্যাংকার বিস্ফোরিত হয়ে আগুন ধরে যায়।

দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে মাইন পাতা একটি রুট দিয়ে যাওয়ার সময় দুটি তেলবাহী ট্যাংকার বিস্ফোরিত হয়ে আগুন ধরে যায়। বার্তাসংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, আইআরজিসির অধিকাংশ দাবির মতো এটিও মিথ্যা।

এদিকে ইরানের ওপর টানা সপ্তম রাতের মতো হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি ‘শেষ হয়ে গেছে’ ঘোষণা করার পর থেকেই ইরানে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ওয়াশিংটন।

সেন্টকম এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মার্কিন কমান্ডার ইন চিফের নির্দেশে ইরানের সামরিক সক্ষমতা আরও দুর্বল করার লক্ষ্যেই এসব হামলা চালানো হচ্ছে।

ইরানের বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় শহর ইয়াজদ, কেশম দ্বীপ এবং হরমুজ প্রণালির পার্শ্ববর্তী বন্দর আব্বাসে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

তবে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়।

শুক্রবার ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দাবি করে, উপসাগরীয় অঞ্চলের কুয়েত, বাহরাইন, জর্ডান এবং প্রথমবারের মতো সিরিয়ায় থাকা একাধিক মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এসব হামলার দাবি অস্বীকার করেছে।

এর আগে কুয়েতি কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, ইরানের ড্রোন হামলায় দেশটির বেশ কয়েকজন সেনা আহত হয়েছেন। হামলায় একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও কয়েকটি পানি লবণমুক্তকরণ স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়।

এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের সঙ্গে কথা বলা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে জর্ডানের দুটি সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে ওয়াশিংটন। তেহরান এর আগে দাবি করেছিল, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সেতু, একটি রেলস্টেশন ও একটি বিমানবন্দরের মতো বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। তবে মার্কিন প্রশাসন বলেছে, তাদের হামলা কেবল সামরিক লক্ষ্যবস্তুতেই সীমাবদ্ধ ছিল।

ইরানের হরমোজগান প্রদেশের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় সাতজন নিহত হয়েছেন। বিবিসি ভেরিফাই ও বিবিসি ফারসি গারিভেহ সেতুতে ক্ষয়ক্ষতির ভিডিও যাচাই করেছে। রাতের ভিডিওতে সেতুর ওপর আগুনের গোলা দেখা যায়। দিনের আলোয় ধারণ করা ছবিতে সেতুর একটি অংশ ধসে পড়া এবং চারপাশে ধ্বংসস্তূপ দেখা গেছে।

বিবিসিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্র শুধুমাত্র সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে সামরিক লজিস্টিক অবকাঠামোও রয়েছে বলে জানান তিনি।

ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা ভেঙে পড়ার পর শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের টানা হামলার এক সপ্তাহ পূর্ণ হয়েছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ে বাড়তে থত্তেজনা স্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকেও আরও জটিল করে তুলেছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ