বিশ্বকাপের ডামাডোলের মধ্যেই বাংলাদেশ ক্রিকেট দল জিম্বাবুয়ে সফর করছে। তবে এবারের সফরে তাদের এখন পর্যন্ত বলার মতো কোনো সাফল্য নেই। একমাত্র টেস্ট ম্যাচ হেরেছে আড়াই দিনে, ইনিংস ব্যবধানে। তাদের আশা ছিল, ওয়ানডে সিরিজে ঘুরে দাঁড়াবে। তবে সাদা বলের লড়াইয়েও বড্ড বিবর্ণ টাইগাররা। চরম ব্যাটিং ব্যর্থতায় হার দিয়ে শুরু করেছে সিরিজ। আজ হারারেতে দ্বিতীয় ম্যাচ। মেহেদী হাসান মিরাজের দলের লক্ষ্য এখন একটাইÑ সিরিজ বাঁচানো। দ্বিতীয় ওয়ানডে জিতে সিরিজে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা। বাংলাদেশ সময় দুপুর দেড়টায় শুরু হবে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে। দেশের মাটিতে টানা পাঁচটি সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের সুখস্মৃতি আছে তাদের। সেটিই জিম্বাবুয়ে সফরে লাল-সবুজদের অনুপ্রেরণার টনিক ছিল। ওয়ানডে সিরিজ শুরুর আগে মেহেদী হাসান মিরাজ বলেছিলেন, ‘আমরা শেষ চারটা (হবে পাঁচটা) সিরিজ জিতেছি বাংলাদেশের হোম কন্ডিশনে। এই কন্ডিশন (জিম্বাবুয়ে) আমাদের জন্য একটু চ্যালেঞ্জিং হবে। তবে আমরা অনেক আত্মবিশ্বাসী আছি, যেহেতু আমরা শেষ চারটা সিরিজ জিতেছি এবং ব্যাটসম্যানরা ভালো ব্যাটিং করছে, বোলাররা ভালো বোলিং করছে। আমার কাছে মনে হয়, আমরা যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব নিয়ে খেলতে পারি, আমরা অবশ্যই এ সিরিজ জিততে পারব।’
তবে মাঠে লড়াইয়ে বড্ড বিবর্ণ বাংলাদেশ। বিশেষ করে ব্যাটিং বিভাগ। আর সে কারণেই জিম্বাবুয়েকে প্রথম ওয়ানডেতে ১৪১ রানে অলআউট করার পরও ম্যাচ হারতে হয়েছে ২৫ রানে। নাহিদ রানা একাই ধ্বসিয়ে দিয়েছিলেন স্বাগতিক দলকে। ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করে এই তরুণ পেসার তুলে নেন ২১ রানে ৬ উইকেট। এমন আগুনে বোলিং করার পরও নাহিদকে হারের তেতো স্বাদ পেতে হয়েছে। কেননা, ব্যাটসম্যানরা কেউই দায়িত্ব নিতে পারেননি। তারা বাজে শট খেলে নিজেদের উইকেট প্রতিপক্ষ দলের বোলারকে উপহার দিয়েছেন। ১৪২ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৩.১ ওভারে ১১৬ রানে অলআউট হতে হয়েছে বাংলাদেশকে। সর্বোচ্চ ৩১ রান নুরুল হাসান সোহানের। এ ছাড়া তাওহিদ হৃদয় ২৫ ও মেহেদী হাসান মিরাজ ১০ রান করেন। বাকি কোনো ব্যাটার দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি।
বাংলাদেশ সিরিজ বাঁচাতে দ্বিতীয় ম্যাচকে পাখির চোখ করেছে। ঘুরে দাঁড়ানোর মন্ত্রে উজ্জীবিত দলের সবাই। অনুশীলনে নিজেদের সেভাবে প্রস্তুত করে নিয়েছেন; বিশেষ করে ব্যাটসম্যানরা। তাদের ব্যর্থতায় টেস্ট ও প্রথম ওয়ানডেতে হারের তেতো স্বাদ পেতে হয়েছে। তবে প্রথম ম্যাচের ভুলত্রুটি শুধরে তারা দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে মাঠে নামবেন। যেখানে দলের প্রত্যেকেই জয় ভিন্ন অন্য কিছু ভাবছেন না। হারারেতে কী অপেক্ষা করছে আজÑ বাংলাদেশ কি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে, না এক ম্যাচ বাকি থাকতেই জিম্বাবুয়ের কাছে ওয়ানডে সিরিজ হাতছাড়া করবে?
এদিকে জিম্বাবুয়ে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে দুর্দান্ত ছিলেন নাহিদ রানা। ২১ রানে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন এই তরুণ পেসার। যদিও হার দিয়ে সিরিজ শুরু করেছে বাংলাদেশ। তবে রেকর্ডগড়া বোলিং করা নাহিদ রানা ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের পুরস্কার পেয়েছেন। আইসিসি ওয়ানডে বোলারদের র্যাংকিংয়ে ১৭ ধাপ এগিয়েছেন নাহিদ। ৫৯০ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে তার অবস্থান এখন ১২।