চলতি অর্থবছরে সরকারি অর্থব্যয়ে কেনাকাটায় কড়াকড়ি আরোপ ও বিদেশ সফর বন্ধ করে একাধিক নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। নির্দেশনায় উন্নয়ন ও পরিচালন বাজেটের আওতায় সব ধরনের মোটরযান, জলযান ও আকাশযান কেনা, সরকারি অর্থায়নে বিদেশ ভ্রমণ এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত বিশেষ ঋণে গাড়ি কেনা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার অর্থ বিভাগের জারি করা এক পরিপত্রে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরিপত্রে বলা হয়, সীমিত সম্পদের যথাযথ ব্যবহার, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্দেশনাগুলো সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান, পাবলিক সেক্টর করপোরেশন ও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
পরিপত্র অনুযায়ী, ১০ বছরের বেশি পুরনো যানবাহন প্রতিস্থাপন এবং নবগঠিত প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের অনুমোদন নিয়ে যানবাহন কেনা যাবে। এ ছাড়া অ্যাম্বুলেন্স ও নিরাপত্তা কাজে ব্যবহৃত যান ছাড়া নতুন বা প্রতিস্থাপনকৃত সব জিপ ও কার অবশ্যই ফুল ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল (এফইভি) হতে হবে। সরকারি অর্থায়নে বিদেশে প্রশিক্ষণ, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণও বন্ধ থাকবে। তবে উন্নয়ন সহযোগী, বিদেশি সরকার বা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে প্রশিক্ষণ এবং স্কলারশিপ বা ফেলোশিপের আওতায় উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশ ভ্রমণে এ নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।
এ ছাড়া পরিচালন বাজেট থেকে নতুন ভবন নির্মাণ ও ভূমি অধিগ্রহণে ব্যয় বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে ৭০ শতাংশের বেশি অগ্রগতি হওয়া নির্মাণকাজ এবং উন্নয়ন বাজেটের আওতায় প্রয়োজনীয় অনুমোদন সাপেক্ষে ভূমি অধিগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, সব ক্ষেত্রে ‘ভ্যালু ফর মানি’ নিশ্চিত করে সরকারি অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করাই এসব নির্দেশনার মূল লক্ষ্য।