যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে। বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তির ফলে ইরান যুদ্ধের অবসান, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু এবং ইরানি তেলের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বাজারে সরবরাহ বাড়ার প্রত্যাশা জোরালো হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার দিনের শুরুতে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৯ সেন্ট বা ১ দশমিক ১২ শতাংশ কমে ৭৮ দশমিক ৬৬ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৯৮ সেন্ট বা ১ দশমিক ২৮ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৭৫ দশমিক ৮১ ডলারে।
বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নেতাদের চুক্তি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, ‘তারা ঠিকভাবে আচরণ না করলে ফের হামলা শুরু হতে পারে।’ ওই মন্তব্যের পর তেলের দাম কিছুটা বেড়েছিল। তবে পরবর্তীতে বাজার আবারও নিম্নমুখী হয়।
বাজার বিশ্লেষণা প্রতিষ্ঠান আইজির বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, ‘জ্বালানি বাজার দ্রুত হিসাব কষছে যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার ফলে প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত ইরানি তেল আন্তর্জাতিক বাজারে ফিরতে পারে। ফলে বিক্রির চাপ আরও বেড়েছে।’
সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ১৪ দফা সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিনের জন্য একটি আলোচনাকাল শুরু হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে টোল বা অতিরিক্ত ফি ছাড়াই জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেবে। চুক্তিতে ৩০ দিনের মধ্যে প্রণালিটির পূর্ণ সক্ষমতা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহের একটি বড় অংশ পরিবাহিত হয়। যুদ্ধের কারণে এ পথে চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।