বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বর্তমান সরকারের গতি-প্রকৃতি ও জনপ্রত্যাশা শিক্ষার্থী বিক্ষোভে দিল্লির ১৬ মেট্রো স্টেশন বন্ধ আগামীকালই পদত্যাগ করছেন রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ প্রসঙ্গে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চট্টগ্রাম বোর্ডের স্থগিত এইচএসসি পরীক্ষা শুরু ২৭ জুলাই আগামীর বাংলাদেশে যেন কোনো গ্রামবাসী চিকিৎসার অভাবে প্রাণ না হারায়: ডা. জুবাইদা বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে ধর্ষণ, চট্টগ্রাম এনসিপির শীর্ষ নেতা গ্রেপ্তার জিয়াউর রহমান হত্যা মামলা : মোজাফফরকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ, জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি হবে ট্রিলিয়ন ডলারের: প্রধানমন্ত্রী আটঘর-কুড়িয়ানা পেয়ারা বাগান ভ্রমণে ৮ নির্দেশনা

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সিলেটের নদ-নদীতে বেড়েছে পানি, বন্যার শঙ্কা

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৫৬ বার

কয়েক দিনের টানা ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেট অঞ্চলের নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে ঝুঁকিতে সুনামগঞ্জের হাওরগুলো।

আবহাওয়া অধিদপ্তর ও পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, আগামী ৪ মে পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এতে সংশয় দেখা দিয়েছে মাঠের ফসল নিয়ে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের পূর্বাভাস অনুযায়ী সুরমা, কুশিয়ারা, মনু, খোয়াই ও জুড়ি নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় সিলেটে, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তের ওপারে ভারতে বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় ফসলহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী ৩ মে থেকে ধান কেনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রতি মণ ধান ১ হাজার ৪৪০ টাকা দরে কৃষকের কাছ থেকে কিনতে বলা হয়েছে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অধিদপ্তরগুলোকে। এবার সিলেট অঞ্চলে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার ধান ফলানো হয়েছে- তার অধিকাংশই হাওড়ে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া জানান, পানি দ্রুত বাড়ছে এবং ইতোমধ্যে মৌলভীবাজারের নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত পানি বৃদ্ধি পেলে হাওড়াঞ্চলের হাজার কোটি টাকার আধাপাকা বোরো ফসল তলিয়ে যাওয়ার চরম ঝুঁকি রয়েছে।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব হোসাইন বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টায় মাঝারি থেকে অতি ভারি বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে।

এক জানানো হয়েছে, আগামী শনিবার পর্যন্ত সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে অতি ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে।

মূলত ভারতের মেঘালয় ও চেরাপুঞ্জিতে ভারি বৃষ্টির প্রভাবেই এই পাহাড়ি ঢল ও বন্যার পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে।

কৃষকরা জানান, আর কয়েকটা দিন সময় পেলে তারা ফসল ঘরে তুলতে পারতেন, কিন্তু আগাম বন্যা সব স্বপ্ন ম্লান করে দিচ্ছে। তবে প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এই অকাল বন্যায় জানমালের নিরাপত্তা ও সম্পদ রক্ষায় প্রয়োজনীয় তদারকি জোরদার করা হয়েছে।

সিলেটের জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জাকারিয়া মোস্তফা জানান, আগামী ৩ মে থেকে ধান কেনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যদিও আমরা পুরোপুরি গুছিয়ে উঠতে পারিনি। সরকারের নির্দেশনা রয়েছে ১ হাজার ৪৪০ টাকা দরে কৃষকের কাছ থেকে প্রতি মণ ধান কেনার।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সিলেটের উপ-পরিচালক মো. শামসুজ্জামান জানান, সিলেটে ৮৮ হাজার ৮৬০ হেক্টর জমিতে ফসল উৎপাদন হয়েছে। এর মধ্যে হাওড়ের ৮৫ ভাগ ফসল কাটা হয়েছে। দ্রুত ধান কেনার জন্য খাদ্য বিভাগে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ