রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০২:০১ পূর্বাহ্ন

এরশাদের দাফন আজ

স্বদেশ ডেস্ক: জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দাফন আজ মঙ্গলবার। রংপুর শহরের ঈদগাহ মাঠে চতুর্থ জানাজা শেষে বাদ জোহর ঢাকায় সেনা কবরস্থানে সাবেক এই রাষ্ট্রপতিকে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের।

এদিকে রংপুরে এরশাদের বাসভবন পল্লী নিবাসের লিচুবাগানেও তাকে সমাহিত করতে কবর প্রস্তুত রেখেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। গতকার সোমবার বিকালে মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি ও রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার নেতৃত্বে এই কবর খোঁড়া হয়।

মোস্তফা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের প্রিয় নেতার মরদেহ গ্রহণে আমরা প্রস্তুত। আমাদের সঙ্গে রাজশাহী বিভাগীয় জাতীয় পার্টির নেতারা রয়েছেন। তারাও এরশাদের মরদেহ রংপুরে দাফনে একমত। মরদেহ রংপুরে আনার পর আর ঢাকায় ফিরিয়ে নিতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে বুকের রক্ত দিয়ে তা প্রতিহত করা হবে। যে কোনো মূল্যেই জাপা চেয়ারম্যানকে রংপুরে দাফন করা হবে। সাধারণ মানুষ যেন স্বাচ্ছন্দ্যে ওনার কবর জিয়ারত করতে পারেন সে জন্যই এটা চাই। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীসহ জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা ও পরিবারের সদস্যদের সার্বিক সযোগিতা কামনা করছি আমরা।’

পরিবারের কিছু সদস্য এবং নিজ দলের কিছু নেতার কারণে এরশাদকে রংপুরে দাফন করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে মেয়র বলেন, ‘জাতীয় পার্টিতে কিছু ব্রোকার আছে। এরা যখন যার, তখন তার ভূমিকা পালন করে। এ ক্ষেত্রে আমরা যারা ত্যাগী নেতাকর্মী আছি, এর আগেও তাদের যড়যন্ত্র নস্যাৎ করেছি, এখনো করব এবং আগামীতেও করব।’

তিনি বলেন, ‘স্যার (এরশাদ) অনেক আগেই রংপুরের পল্লী নিবাসের বাসভবনে তাকে দাফন করার ওসিয়ত করে গেছেন। এখন এরশাদকে বাংলাদেশের জনগণের মন থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে।’

এদিকে গতকাল এরশাদের দ্বিতীয় জানাজা হয় জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে। এ সময় জাতীয় পতাকা ও সেনাবাহিনীর পতাকায় মুড়ে দেওয়া কফিনে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তার সামরিক সচিব মিয়া মো. জয়নুল আবেদীন, স্পিকারের পক্ষে সার্জেন্ট অ্যাট আর্মস এবং ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। জানাজার আগে এরশাদের জীবনী পড়ে শোনান জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা।

বক্তব্য দিতে এসে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এরশাদের ছোট ভাই পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের। এরশাদের স্ত্রী বিরোধীদলীয় উপনেতা রওশন এরশাদও এসেছিলেন ছেলে শাদ এরশাদকে সঙ্গে নিয়ে। এ সময় সবার কাছে রওশন স্বামীর মাগফিরাত কামনায় সবার কাছে দোয়া চান।

জানাজায় অংশ নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন, সংসদের প্রধান হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী।

আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে তোফায়েল আহমেদ, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মাহবুব-উল আলম হানিফ, মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন এবং বিএনপি নেতাদের মধ্যে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, জিএম সিরাজ যোগ দেন। আর জাতীয় পার্টির নেতাদের মধ্যে রুহুল আমিন হাওলাদার, কাজী ফিরোজ রশীদ, আবু হোসেন বাবলা, মুজিবুল হক চুন্নু, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মীর আবদুস সবুর প্রমুখ জানাজায় অংশ নেন।

দ্বিতীয় জানাজা শেষে সংসদ ভবন প্রাঙ্গণ থেকে এরশাদের কফিন নিয়ে যাওয়া হয় কাকরাইলে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। নেতাকর্মীদের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য সেখানে বেলা ৩টা পর্যন্ত মরদেহ রাখা হয়। এ সময় দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা ফুলেল শ্রদ্ধা জানান। এর পর বাদ আসর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে তৃতীয় জানাজা সম্পন্ন হয়। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

জানাজার আগে এরশাদের জীবন ও কর্ম তুলে ধরে সবার কাছে দোয়া চান ভাই জিএম কাদের। সেখান থেকে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) হিমঘরে। আজ মঙ্গলবার সকালে বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে মরদেহ নেওয়া হবে তার নির্বাচনী এলাকা রংপুরে। সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা শহরের ঈদগাহ মাঠে হবে তার চতুর্থ জানাজা। এর পর তাকে ঢাকায় এনে সেনা কবরস্থানে সমাহিত করা হবে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

© All rights reserved © 2019 shawdeshnews.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
themebashawdesh4547877