বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ০২:১৮ পূর্বাহ্ন

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে বাড়ল তেলের দাম, শেয়ারবাজারে ধস

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬
  • ২৮ বার

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কায় সোমবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে, আর শেয়ারবাজারে ধস নেমেছে। বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলক নিরাপদ সম্পদ হিসেবে ডলার ও স্বর্ণে বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকছেন। রয়টার্সের খবরে বলা হয়, যুদ্ধের কারণে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪.৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৬.০৭ ডলারে পৌঁছায় (একপর্যায়ে ৮২ ডলার ছাড়ায়), আর মার্কিন ক্রুড ৩.৯ শতাংশ বেড়ে ৬৯.৫৯ ডলারে দাঁড়ায়। স্বর্ণের দামও ১ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৫,৩২৭ ডলারে ওঠে।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলা এবং এর জবাবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডেইলি মেইলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইঙ্গিত দিয়েছেন, সংঘাত আরও চার সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বিশ্ববাজারের নজর এখন হরমুজ প্রণালির দিকে। কারণ, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ২০ শতাংশ যাতায়াত করে। এখনো পথটি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ না হলেও, জাহাজ চলাচল কার্যত স্থবির এবং বিমা জটিলতা ও নিরাপত্তা শঙ্কায় ট্যাংকারগুলো দুই প্রান্তে আটকে আছে বলে জানা গেছে।

রাইস্ট্যাড এনার্জির বিশ্লেষক জর্জ লিওনের মতে, প্রতিদিন প্রায় ১৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজারে পৌঁছাতে পারছে না। দ্রুত উত্তেজনা কমার ইঙ্গিত না এলে তেলের দামে বড় ধরনের ঊর্ধ্বমুখী পুনর্মূল্যায়ন হতে পারে।

এদিকে, ওপেক প্লাস এপ্রিলের জন্য প্রতিদিন ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তবে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সেই তেল নিরাপদে রপ্তানি করা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। বিশ্লেষকরা ১৯৭০-এর দশকের তেল নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করছেন, যা সে সময় তেলের দাম প্রায় ৩০০ শতাংশ বাড়িয়েছিল।

তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে শেয়ারবাজারে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ১.৪ শতাংশ কমেছে, যেখানে এয়ারলাইন্স খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। অন্যদিকে চীনের ব্লু-চিপ সূচক সিএসআই ৩০০ স্থিতিশীল ছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম দীর্ঘসময় ঊর্ধ্বমুখী থাকলে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি আবারও বাড়তে পারে এবং ব্যবসা ও ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শ্লথ করে দিতে পারে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ