বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৫:১৭ অপরাহ্ন

সামরিক শাসক থেকে যেভাবে ‘পল্লীবন্ধু’ এরশাদ

সামরিক শাসক থেকে যেভাবে ‘পল্লীবন্ধু’ এরশাদ

স্বদেশ ডেস্ক: ছিলেন সেনাপ্রধান, তারপর একধাপে রাষ্ট্র ক্ষমতার সর্বোচ্চ শিখরে। সেখান থেকেই এক সময় গণমানুষের বিশেষ করে বৃহত্তর রংপুরের মানুষের কাছে অবিসংবাদিত নেতা হয়ে উঠেছিলেন তিনি। সামরিক শাসক হলেও জনপ্রিয় কিছু কর্মসূচি হাতে নেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এর স্বীকৃতিস্বরূপ পরবর্তী সময়ে উপাধি পান ‘পল্লীবন্ধু’।

রাজনীতিক না হয়েও প্রায় পুরোটা জীবনভর রাজনীতির আলোচনায় ছিলেন এরশাদ। মূলত জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর থেকেই রাজনীতির আলোচনায় আসেন তিনি।

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তারকে সরিয়ে ১৯৮২ সালে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসেন এরশাদ। তিনিই সম্ভবত পৃথিবীর একমাত্র সামরিক শাসক, ক্ষমতা ছাড়ার পর প্রায় তিন দশক জাতীয় রাজনীতিতে, ক্ষমতার সমীকরণে ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। তার মৃত্যুতে অভিভাবক শূন্য হলো দেশের তৃতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল জাতীয় পার্টি (জাপা)।

১৯৯০ সাল পর্যন্ত দেশ শাসন করেছেন এই সামরিক শাসক। জাতীয় পার্টি গঠন করেন ১৯৮৬ সালে। গণতন্ত্রের কথা বলে সে বছরই সংসদ নির্বাচন দেন তিনি। সেই পরিকলপনা ভেস্তে যায়, বছর খানেকের মধ্যে বাতিল হয় সেই সংসদও।

সামরিক শাসক হলেও জনপ্রিয় কিছু কর্মসূচি নেন ১৯৩০ সালের ফেব্রুয়ারিতে জন্ম নেওয়া এই সামরিক শাসক। রাস্তাঘাট-অবকাঠামো উন্নয়ন, উপজেলা পদ্ধতি প্রবর্তন, ৬৪ জেলা বাস্তবায়ন এসব কাজ করে রাজনীতিক হয়ে ওঠার চেষ্টা ছিল তার।

রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহারও পাকাপোক্ত করেন এরশাদ। ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করে, ধর্মভিত্তিক দলগুলোকে কাছে টানেন তিনি। ‘৬৮ হাজার গ্রাম বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে’ ছিল তার স্লোগান। সেসময় পরিচিত হয়েছিলেন ‘পল্লীবন্ধু এরশাদ’ নামে। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য ছাড়াও প্রতিবেশিদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়েছিলেন এরশাদ। তাদের কাছ থেকে পেয়েছেন নানা রকম সাহায্য। ক্ষমতায় থাকাকালে চেষ্টা করেও শক্তিশালী ছাত্র সংগঠন করতে পারেননি তিনি।

নব্বইয়ে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন এরশাদ। তারপর জেলে যেতে হয় তাকে। সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় দেশের তৃতীয় বড় দল হয়ে ওঠে জাতীয় পার্টি। জীবনের শেষ পর্যন্ত মামলার চাপে পর্যদুস্ত ছিলেন প্রায় পুরোটা জীবন ক্ষমতার কাছাকাছি থাকা এই রাজনীতিক। পরবর্তী নেতৃত্ব কে দেবেন- সেটি নিয়েও আলোচনায় ছিলেন তিনি।

স্টাইলিশ এরশাদ ছিলেন দারণ রোমান্টিক। ছিলেন আড্ডাপ্রিয়, বন্ধুবৎসল। নব্বই বছর বয়সেও চাঙা ছিলেন এরশাদ। রাজনীতির পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত জীবনও ছিল আলোচনায়। সবকিছু ছাপিয়ে সামরিক শাসক এরশাদ হয়ে উঠেছিলেন নব্বই পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতির সবচেয়ে আলোচিত পুরুষ।

উল্লেখ্য, জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আজ মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি…রাজিউন)। রোববার সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে মারা যান তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর।

গত ২৬ জুন থেকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন ছিলেন এরশাদ। সেখানে সাবেক এই রাষ্ট্রপতিকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। তিনি রক্তে হিমোগ্লোবিনের স্বল্পতা, ফুসফুসে সংক্রমণ ও কিডনির জটিলতায় ভুগছিলেন।এরশাদের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি খন্দকার দেলোয়ার জালালী তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

© All rights reserved © 2019 shawdeshnews.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
themebashawdesh4547877