শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বর্তমান সরকারের গতি-প্রকৃতি ও জনপ্রত্যাশা শিক্ষার্থী বিক্ষোভে দিল্লির ১৬ মেট্রো স্টেশন বন্ধ আগামীকালই পদত্যাগ করছেন রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ প্রসঙ্গে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চট্টগ্রাম বোর্ডের স্থগিত এইচএসসি পরীক্ষা শুরু ২৭ জুলাই আগামীর বাংলাদেশে যেন কোনো গ্রামবাসী চিকিৎসার অভাবে প্রাণ না হারায়: ডা. জুবাইদা বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে ধর্ষণ, চট্টগ্রাম এনসিপির শীর্ষ নেতা গ্রেপ্তার জিয়াউর রহমান হত্যা মামলা : মোজাফফরকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ, জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি হবে ট্রিলিয়ন ডলারের: প্রধানমন্ত্রী আটঘর-কুড়িয়ানা পেয়ারা বাগান ভ্রমণে ৮ নির্দেশনা

নির্বাচনি দায়িত্ব পালনকালে যেসব কাজ করতে পারবে না পুলিশ

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৯৭ বার

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের জন্য বিস্তারিত আচরণবিধি জারি করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের সময় ২২ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো প্রার্থী, তার এজেন্ট বা সমর্থকের কাছ থেকে খাবার, উপঢৌকন কিংবা অন্য কোনো সুবিধা গ্রহণ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। প্রার্থীদের সঙ্গে ছবি তোলা, অপ্রয়োজনীয় আলাপচারিতা বা ঘনিষ্ঠতা প্রদর্শন থেকেও বিরত থাকতে হবে। ভোটার কিংবা নির্বাচন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অযাচিত হস্তক্ষেপ করা যাবে না।

ভোটকক্ষে প্রবেশের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। প্রিসাইডিং কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া কেউ ভোটকক্ষে ঢুকতে পারবেন না। ভোটারদের কোনো প্রার্থী বা প্রতীকের পক্ষে কিংবা বিপক্ষে প্রভাবিত করা যাবে না। একইভাবে কোনো রাজনৈতিক দল, প্রার্থী বা সমর্থকের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে না গেলে বলপ্রয়োগ বা লাঠিচার্জ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো রাজনৈতিক দলের মিছিলে অংশ নেওয়া বা প্রার্থীর কার্যালয়ে উপস্থিত থাকাও নিষেধ। ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রকাশ, মন্তব্য করা কিংবা কোনো ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে। গালিগালাজ, হুমকি বা অবমাননাকর আচরণও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

নির্বাচনী আইন ও বিধিমালার পরিপন্থি কোনো নির্দেশ বাস্তবায়ন করা যাবে না বলেও স্পষ্ট করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক পোস্ট, শেয়ার বা মন্তব্য করা যাবে না। দায়িত্ব পালনকালে অপ্রয়োজনে মোবাইল ফোন ব্যবহার বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থাকাও নিষিদ্ধ। ভোটের দিন ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় মোবাইল ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।

নির্বাচন-সংক্রান্ত স্পর্শকাতর তথ্য প্রকাশ না করার নির্দেশ রয়েছে। ভোটের ফলাফল বা সম্ভাব্য বিজয়ী নিয়ে আগাম আলোচনা বা পূর্বানুমানও করা যাবে না। অফিসিয়াল অনুরোধ ছাড়া সংবেদনশীল কোনো ঘটনার ছবি বা ভিডিও কারও কাছে পাঠানো যাবে না। দায়িত্বকালীন ব্যক্তিগত আলাপে সময় নষ্ট, দলবদ্ধ হয়ে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাঘুরি—এসব থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

জনসমাগমস্থল বা খোলা জায়গায় যত্রতত্র খাবার গ্রহণ নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। ফুটপাত বা টং দোকানে বসা যাবে না। এমনকি বাদাম, ভাপা পিঠা, চানাচুর, জিলাপি, বিস্কুট, কলা প্রভৃতি মুখরোচক খাবার খাওয়া, অশোভন পোশাক পরিধান কিংবা অপেশাদার আচরণ থেকেও দূরে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের এই নির্দেশনাকে নির্বাচনী পরিবেশে পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনে আইনানুগ ও নিরপেক্ষ আচরণ নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ