বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৭ অপরাহ্ন

প্রভাবশালী ৩ পক্ষের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে পুলিশ

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৬ বার

রাজধানীর মিরপুরে মা ও শিশুস্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় মিরপুরের স্থানীয় তিনটি প্রভাবশালী পক্ষের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে পুলিশ। এই তিন পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী তিন নেতা। স্থানীয় রাজনীতিতে আধিপত্য নিয়ে ওই তিন পক্ষের নেতা ও তাদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ থাকলেও রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র দখল-পরবর্তী স্বার্থের ভাগ-বাঁটোয়ারাকে কেন্দ্র করে তিন পক্ষই রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র এক হয়েছিল। যে কারণে ঘটনার রাতে প্রভাবশালী তিন পক্ষের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। একটি পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন পদত্যাগ করা সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

পুলিশ, আদালত ও স্থানীয় রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত ২৪ জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। এদের মধ্যে সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতির অফিস সহকারী শাহাদাত হোসেন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। তার জবানবন্দিতে উঠে

এসেছে রাড্ডা স্বাস্ব্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের পেছনের গল্প। হামলার নির্দেশদাতা কারা ছিলেন, বাস্তবায়নে কার কী দায়িত্ব ছিল এ ব্যাপারে শাহাদাত কিছু তথ্য দিয়েছেন।

জানা গেছে, ঘটনার রাতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের পর শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্টদের খিচুড়ি ও গরুর মাংস দিয়ে ভুরিভোজ করানো হয়। এই ভুরিভোজ করানোর দায়িত্বে ছিলেন শাহ আলী থানা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিব আহমেদ সোহেল। গ্রেপ্তারের পর রাকিব আহমেদ সোহেল পুলিশের কাছে এ বিষয়টি স্বীকার করেছেন। হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের সময় সোহেল ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। হামলার পরিকল্পনা, অর্থায়ন ও বাস্তবায়নের বিষয়ে জানতে পুলিশের তদন্তকারীরা সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি আব্দুর রহিম হাজরা, সাইফুল ইসলাম, রাকিব আহমেদ সোহেল, সারোয়ার আলম পিয়াস এবং সাজ্জাদ হোসেন মিশুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চেয়েছেন। আগামী সপ্তাহে রিমান্ড শুনানি হবে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ষ্পষ্ট চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে বলে মনে করছেন পুলিশের তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময় ২০২৪ সালের ২ জুলাই সমিতির নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর সমিতির পুরো নিয়ন্ত্রণ চলে যায় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সদস্য মোহাম্মদ হানিফ মিয়া, মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক সদস্যসচিব মোস্তফা জগলুল পাশার হাতে। হানিফ মিয়া রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার মামলার প্রধান আসামি। গতকাল পর্যন্ত পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। পুলিশ প্রযুক্তিগত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখেছে ঘটনার সময় সেখানেই ছিলেন হানিফ মিয়া। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া সমিতির সম্পাদক শাহ আলম, অফিস সহকারী শাহাদাত, সমিতির সদস্য আতিকুর ও কামরুল হানিফের অবস্থানের বিষয়ে পুলিশকে তথ্য দিয়েছেন।

যে এক্সকাভেটর (ভেকু) দিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় সেটি বহন করা বড় গাড়ির (লোবেড) চালক ছিলেন শহীদুল ইসলাম। গ্রেপ্তারের পর শহিদুল ইসলাম বলেছেন, টাকার বিনিময়ে তিনি ভাঙচুরে অংশ নেন। তবে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কে মালিক, কেন ভাঙা হচ্ছে— এ তথ্য তারা কিছুই জানেন না। পুলিশের তদন্তকারী ইতোমধ্যে লোবেড, ভেকু এবং কাভার্ডভ্যান জব্দ করেছেন। এ ছাড়া উদ্ধার করেছেন লুণ্ঠিত মালামাল। এসব মালামাল ইতোমধ্যে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দিয়েছেন।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশি অস্ত্র নিয়ে সেখানে ঢুকে নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে। পরে ওষুধ, টিকা, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অন্যান্য মালামাল লুট করে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে সেখানে সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয়।

এই হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় শুরু থেকেই বিএনপি ও এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনের স্থানীয় অনেক নেতাকর্মীর জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। তাদের অনেকে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদের (মিষ্টি) ঘনিষ্ট হিসেবে পরিচিত। এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে ঘটনার এক সপ্তাহের মাথায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ