শুক্রবার, ০১ মার্চ ২০২৪, ০২:৩১ অপরাহ্ন

বাবর-শিনওয়ারিতে উড়ে গেল শ্রীলঙ্কা

বাবর-শিনওয়ারিতে উড়ে গেল শ্রীলঙ্কা

স্পোর্টস ডেস্ক:

কুমার সাঙ্গাকারা ২০০৯ সালে সেঞ্চুরি করেছিলেন পাকিস্তানের মাটিতে, এরপর এই মাইলফলক ছিল এল্টন চিগুম্বুরা, শোয়েব মালিক, আজহার আলি ও সিকান্দার রাজার। এই ১০ বছরে পাকিস্তানের মাটিতে আন্তর্জাতিক ম্যাচে সেঞ্চুরি ছিল এই চারজনেরই। বাবর আজম সোমবার আবার করলেন সেটি। ২০০৯ সালে শেষ পাকিস্তানের মাটিতে শেষ ৫ উইকেট নিয়েছিলেন উমর গুল। সোমবার আবার নিলেন উসমান শিনওয়ারি। বাবরের সেঞ্চুরির পর শিনওয়ারির পাঁচ উইকেটে করাচিতে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কাকে উড়ে দিয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তান এই ম্যাচে জিতেছে ৬৭ রানে।

তৃতীয় উইকেটে বাবর-হারিস সোহেলের ১১১ রানের জুটিতে বড় সংগ্রহের ভিত পেয়েছিল আগে ব্যাটিং করা পাকিস্তান, টেইল-এন্ডাররা সেটিকেই কাজে লাগিয়ে স্কোরকে নিয়ে গিয়েছিলেন ৩০৫ রান পর্যন্ত। জবাবে শিনওয়ারির তোপে একসময় ২৮ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল শ্রীলঙ্কা। ৬ষ্ঠ উইকেটে শেহান জয়াসুরিয়া ও দাশুন শনাকার রেকর্ড ১৭৭ রানের জুটির পরও ১৯ বল বাকি থাকতেই অল-আউট হয়ে গেছে শ্রীলঙ্কা। প্রথম দফা ৩ উইকেট নেয়া শিনওয়ারি পরে নিয়েছেন আরো ২টি, বাবরকে টপকে ম্যাচসেরাও হয়েছেন তিনি।

বৃষ্টিতে প্রথম ওয়ানডে ভেসে যাওয়ার পর দ্বিতীয় ওয়ানডের সূচিতে বদল এসেছিল করাচিতে অতি-বৃষ্টির কারণে। এদিন সেখানেই থাকলো কড়া রোদ আর চড়া গরম। পরে গিয়ে ফ্লাডলাইট বিপর্যয়েও পড়লো ম্যাচ। তবে দিনের আলোর সবটুকুই যেন কেড়ে নিলেন বাবর, তার আরেকটি ‘নিঁখুত’ সেঞ্চুরি দিয়ে। ৭৩ রানের ওপেনিং জুটিতে শুরুটা ভালই করেছিলেন ইমাম-উল-হক ও ফাখার জামান। দুজনকেই ফিরিয়েছেন ৬ষ্ঠ বোলার হিসেবে আসা লেগস্পিনার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা। ইমাম হয়েছেন এলবিডব্লিউ, শ্রীলঙ্কা সেটি পেয়েছে রিভিউ নিয়ে। ফিফটির পর ক্যাচ দিয়েছেন ফাখার।

বাবর-হারিসের জুটি এরপরই। লাসিথ মালিঙ্গা ও আকিল দনঞ্জয়াবিহীন শ্রীলঙ্কার বোলিং লাইন-আপ মাঝের ওভারগুলিতে খেই হারিয়ে ফেলেছে। ৫৫ বলে ফিফটির পর ৯৭ বলে ক্যারিয়ারের ১১তম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন বাবর, এদিন তিনি খেলেছেন মাত্র ৭১তম ইনিংস। সেঞ্চুরিসংখ্যায় পাকিস্তান ব্যাটসম্যানদের মধ্যে বাবরের চেয়ে এখন এগিয়ে শুধু সাইদ আনোয়ার ও মোহাম্মদ ইউসুফ। ৪৬তম ওভারে গিয়ে লাহিরু কুমারার বলে ক্যাচ দেওয়ার আগে তিনি করেছেন ১০৫ বলে ১১৫ রান, ৮টি চারের সঙ্গে ছিল ৪টি ছয়।

বাবরের আগেই ফিরেছিলেন ৪৮ বলে ৪০ রান করা হারিস, ১২ বলে ৮ রান করে দ্রুত ফিরেছিলেন সরফরাজ আহমেদও- দুজনই হয়েছেন রান-আউট। চার বছর পর ওয়ানডে খেলতে নামা ইফতিখার আহমেদের ২০ বলে ৩২ রানের ক্যামিওতে পাকিস্তান পেরিয়ে গেছে ৩০০।

রানতাড়ায় শ্রীলঙ্কা প্রথম উইকেট হারিয়েছে ৪র্থ ওভারে, শিনওয়ারির বলে স্টাম্প হারিয়েছেন সাদিরা সামারাবিক্রমা। ওপাশে মোহাম্মদ আমিরের বলে ক্যাচ দিয়েছেন দানুশকা গুনাথিলাকা। শিনওয়ারির জোড়া আঘাতে এরপর ফিরেছেন আভিশকা ফার্নান্ডো ও অধিনায়ক লাহিরু থিরিমান্নে। ইমাদ ওয়াসিমের বলে ওশাদা ফার্নান্ডো বোল্ড হওয়াতে দুর্দশা বেড়েছে শ্রীলঙ্কার, ২৮ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে তারা পড়ে গিয়েছিল অতল গহবরে।

তাদেরকে টেনে তোলার দায়িত্ব নিয়েছিলেন জয়াসুরিয়া ও শনাকা। ৩০ ওভারের ওপর ব্যাটিং করেছেন দুজন। গড়েছেন ওয়ানডেতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৬ষ্ঠ উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটি। শ্রীলঙ্কাকে ‘দ্য গ্রেট এসকেপ’-এর স্বপ্নও দেখানো শুরু করেছিলেন তারা। তবে এদিন পাকিস্তানের সেরা বোলারকে আটকাতে পারেননি তারা।

আগের ১০ ইনিংস মিলিয়ে ৯৬ রান করা জয়াসুরিয়া এদিন এক ইনিংসেই করলেন সমানসংখ্যক রান, তবে শিনওয়ারির বলে কট-বিহাইন্ড হয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটিতে সেঞ্চুরিতে রুপান্তর করা হলো না তার, ১০৯ বলে ৭ চার ও ১ ছয়ে ৯৬ রানেই থামতে হলো তাকে। এক বলের ব্যবধানে শাদাব খানের বলে ডিপ মিডউইকেটে ক্যাচ দিলেন শনাকা, ৮০ বলে ৬ চার ও ২ ছয়ে ৬৮ রান করে। শ্রীলঙ্কার মিরাকলের স্বপ্ন থমকে গেল ৩ বলের মাঝেই!

বোলিংয়ে ২ উইকেট নেওয়া হাসারাঙ্গা ব্যাটিংয়েও খেললেন ২৩ বলে ৩০ রানের ক্যামিও, তবে ততক্ষণে দেরি হয়ে গেছে শ্রীলঙ্কার। শাদাবের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হয়েছেন তিনি। এরপর ইসুরু উদানার উইকেট দিয়ে পাঁচ পূর্ণ হয়েছে শিনওয়ারির, আর লাহিরু কুমারাকে এলবিডব্লিউ করে খেলা শেষ করেছেন ওয়াহাব রিয়াজ।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

© All rights reserved © 2019 shawdeshnews.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
themebashawdesh4547877