বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিলেও দেশের ফুটবল দলকে বীরের মর্যাদায় বরণ করে নিয়েছে নরওয়ে। রাজধানী অসলোর রাস্তায় নেমে লক্ষাধিক সমর্থক ফুটবলারদের অভিনন্দন জানান। হতাশার বিদায়কে তারা রূপ দেন জাতীয় উৎসবে।
গত শনিবার কোয়ার্টার ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ইংল্যান্ডের কাছে ২-১ গোলে হেরে নরওয়ের স্বপ্নভঙ্গ হয়। সেমিফাইনালে ওঠার আশা শেষ হয়ে গেলেও দেশের মানুষ ফুটবলারদের প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশে কোনো কমতি রাখেননি।
সোমবার দুপুর থেকেই গ্রীষ্মের রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়ায় রাজধানীর রাজপ্রাসাদের সামনে সমবেত হতে থাকেন হাজারো সমর্থক। অনানুষ্ঠানিক হিসাব অনুযায়ী, সেখানে উপস্থিত ছিলেন এক লাখেরও বেশি মানুষ।
দেশে ফিরে বিমানবন্দরে ঐতিহ্যবাহী জলকামানের অভিবাদন পান নরওয়ের ফুটবলাররা। এরপর রাজধানীতে শুরু হয় তাদের বিজয়যাত্রা।
রাজপ্রাসাদের সামনের চত্বর অল্প সময়েই সমর্থকে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। সেখান থেকে মানুষের সারি রাজধানীর প্রধান সড়ক কার্ল ইয়োহানস গাতে পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। অনুষ্ঠানের শুরুতে রাজা হ্যারাল্ডের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ফুটবলাররা।
পরে রাজপ্রাসাদের বারান্দায় এসে সমর্থকদের শুভেচ্ছা জানান দলের সদস্যরা। তাদের পেছনে আনুষ্ঠানিক অবস্থানে দাঁড়িয়ে ছিল রাজকীয় প্রহরীদল।
তবে অনুষ্ঠানের শেষ অংশে উপস্থিত ছিলেন না দলের তারকা স্ট্রাইকার আরলিং হলান্ড। নির্ধারিত উড়োজাহাজ ধরতে আগেই অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে যেতে হয় তাকে।
ফলে সতীর্থদের সঙ্গে রাজপ্রাসাদের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে সমর্থকদের উদ্দেশে ঐতিহ্যবাহী ‘ভাইকিং সারিবদ্ধ উল্লাস’-এ অংশ নিতে পারেননি তিনি। সেই আয়োজনের নেতৃত্ব দেন যুবরাজ হাকোন, যিনি ঢোল বাজিয়ে সমর্থকদের সঙ্গে উৎসবে যোগ দেন।
দলের কোচ স্তোলে সোলবাক্কেন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরার ফ্লাইট চার ঘণ্টা দেরিতে ছাড়ায় আরলিং এবং সান্দের বের্গেকে দ্রুত পরবর্তী উড়োজাহাজ ধরতে হয়েছে।’
এরপর পুরো দল খোলা ছাদযুক্ত বাসে চড়ে রাজধানীজুড়ে সমর্থকদের শুভেচ্ছা গ্রহণ করে উদ্যাপন চালিয়ে যায়।