সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
জানাল পিবিআই , মাকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করায় চার ভাই মিলে রুবেলকে হত্যা করেন বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহ অর্ধেকে নামিয়েছে কাতারএনার্জি প্রধানমন্ত্রীর নজরদারির সুফল, দুই দিনের বর্ষণেও জলাবদ্ধতা নেই চট্টগ্রামে এনসিপির পদযাত্রা স্থগিত জামায়াত-শিবির পরিচয়ে ডিএসসিসির মার্কেট দখল করে চাঁদাবাজির অভিযোগ পর্তুগাল-স্পেনের খেলায় কে জিতবে, নানা সমীকরণ সিলেটে সড়ক দুর্ঘটনায় তিন স্কুলছাত্র নিহত হত্যাচেষ্টা-বিস্ফোরক আইনের মামলা, সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানি পেছাল গ্রামে লোডশেডিং কেন হচ্ছে, জানালেন বিদ্যুৎমন্ত্রী খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফ-জেএসএস গোলাগুলি, নিহত ৩

প্রধানমন্ত্রীর নজরদারির সুফল, দুই দিনের বর্ষণেও জলাবদ্ধতা নেই চট্টগ্রামে

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬
  • ০ বার

সামান্য বৃষ্টি হলেই ডুবে যায় চট্টগ্রাম নগরের নিচু এলাকা। রাস্তার মোড়ে মোড়ে জমে থাকা পানিতে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় নগরবাসীকে। যানজট আর জলজটের সেই ভোগান্তি যেন হুট করেই হাওয়া হয়ে গেলো। দুদিন ধরে টানা ভারি বর্ষণ, কিন্তু চট্টগ্রামে নেই সেই চিরচেনা দুর্ভোগর দৃশ্য। বৃষ্ট হলেই হাঁটু থেকে কোমর পানিতে ডুবে থাকত যেসব এলাকা, সেখানেও এখন পানি নেমে যাচ্ছে অনায়াসে।

কী এমন ম্যাজিক কাজ করল চট্টগ্রাম নগরীতে, যে রাতারাতি পাল্টে গেলো দৃশ্যপট। উত্তর জানতে কথা হয় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সাথে। তিনি জানালেন, ম্যাজিক নয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরদারির সুফল মিলেছে এবার। প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি মনিটরিং ও সমন্বিত উদ্যোগের কারণেই টানা দুই দিনের ভারী বর্ষণেও চট্টগ্রাম নগরীতে উল্লেখযোগ্য জলাবদ্ধতা হয়নি।

চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন কালবেলাকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সব সেবা সংস্থাকে নিয়ে গঠিত সমন্বয় কমিটির কার্যকর তদারকি, খাল-নালা ও ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার এবং সার্বক্ষণিক নজরদারির ফলেই নগরবাসী এবার জলাবদ্ধতার বড় দুর্ভোগ থেকে মুক্ত রয়েছে।’

মেয়র বলেন, ‘জলাবদ্ধতামুক্ত চট্টগ্রাম গড়ে তোলা আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা ও প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দিন-রাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। খাল, নালা ও ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা দ্রুত অপসারণ এবং সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের কারণেই টানা দুই দিনের বৃষ্টির পরও নগরীতে কোনো উল্লেখযোগ্য জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়নি।’

সোমবার (০৬ জুলাই) সকালে মেয়র নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করেন।

এ সময় তিনি বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের বাস্তব চিত্র, খাল-নালা ও ড্রেনের পানি প্রবাহ, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানসমূহের পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনের অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। বিভিন্নস্থানে উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে তিনি চলমান কার্যক্রমের খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

মেয়র চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আমিনকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় অভিযান ও মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা তদারকির নির্দেশ দেন।

মেয়র বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের সব বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে। কোথাও পানি জমার খবর পাওয়া মাত্র সংশ্লিষ্ট টিম দ্রুত সেখানে গিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছে। নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় রাখতে আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করছি।’

মেয়র আরও বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নালা-নর্দমা, খাল কিংবা ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা ও প্লাস্টিকজাত বর্জ্য ফেলা থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তুলতে নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’

তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘বর্ষা মৌসুম শেষ না হওয়া পর্যন্ত মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি অব্যাহত রাখতে হবে। যেসব এলাকায় অতীতে জলাবদ্ধতার প্রবণতা ছিল, সেসব স্থানে বিশেষ নজরদারি চালানোর পাশাপাশি খাল, নালা ও ড্রেনের পানি প্রবাহ সচল রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।’

পরিদর্শনের সময় মেয়র বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গেও কথা বলেন এবং তাদের কাছ থেকে পানি নিষ্কাশন পরিস্থিতি সম্পর্কে মতামত নেন। তিনি সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে নগরবাসীর যেকোনো অভিযোগ বা তথ্য দ্রুত যাচাই করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বর্ষা মৌসুমজুড়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, খাল-নালা ও ড্রেন পরিষ্কার, আবর্জনা অপসারণ এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে বিশেষ মনিটরিং অব্যাহত থাকবে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জামও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা, প্রধান প্রকৌশলীসহ কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ