শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৯ অপরাহ্ন

সপ্তাহ ঘুরতেই বাড়ল ব্রয়লার মুরগির দাম

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬
  • ১ বার

গত সপ্তাহে অনেকটা কমে কেনা গেলেও বাজারে এখন ব্রয়লার মুরগির দাম ২০০ টাকা ছুঁইছুঁই করছে। রাজধানীর খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা পর্যন্ত। কিছুদিন আগেও যা ১৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ, কেজিপ্রতি দাম ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। মধ্য ও নিম্নবিত্তের প্রোটিনের চাহিদা মেটানোর অন্যতম ভরসা এ মুরগির দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় বেকায়দায় পড়েছেন তারা।

বাড়িতে মেহমান আসায় ব্রয়লার মুরগি কিনতে এসেছিলেন কদমতলী সাদ্দাম মার্কেট এলাকার বাসিন্দা মাসুদ রানা। কিন্তু দাম শুনে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় তাকে। কথা হলে এ ক্রেতা জানান, কয়েকদিন আগেও ১৭০ টাকা কেজি কিনেছি। আজকে শুক্রবার তা ১৯০ টাকা চাইছে। অর্থাৎ, কেজিতে ২০ টাকা বেশি খরচ করতে হলো আমাকে। বাড়ি থেকে এক রকম হিসাব করে এলাম, কিন্তু খরচ হলো বেশি। এমনটা হলে হিসাব মেলানো তো কঠিন।

এ বাজারের মুরগি বিক্রেতা মো. জিসান বলেন, কোরবানির ঈদের পর থেকে বাজার পড়তি ছিল। ঈদের পর ১৭০ টাকা, এমনকি এর নিচেও বিক্রি হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সরবরাহ কমে যাওয়ায় পাইকারিতে দাম বাড়তি। গত কয়েকদিন ধরে দাম বেড়ে ১৮০ টাকা ছাড়িয়েছে।

রাজধানীর কাপ্তানবাজারের পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে জানতে চাইলে তারাও সরবরাহ কমের কথা জানান। এ বাজারের পাইকারি বিক্রেতা মো. সিদ্দিক মোল্লা বলেন, দেশের অনেক ছোট খামারে এখন মুরগি নেই। অনেক খামারিরা গরম ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে আগেভাগেই মুরগি বিক্রি করে দিয়েছেন। এতে বর্তমানে সরবরাহ কমেছে। ঈদের পর চাহিদা কম থাকায় বাজারে ততটা চাপ ছিল না। কিন্তু এখন মুরগির চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু সরবরাহ সেভাবে বাড়েনি। তাই দাম অনেক বাড়তি রয়েছে। তবে, সোনালি মুরগির দাম আগের মতোই; ছোট আকারেরগুলো ৩২০ টাকা এবং তুলনামূলক বড় আকারেরগুলো ৩৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে যতদিন যাচ্ছে বাজারে পুরোনো আলুর দাম তত চড়া হচ্ছে। এ বছর আলুর মৌসুমে কম দামে কিনে খাওয়া গেছে পণ্যটি। অনেকটা সময় আলুর কেজি ২০ থেকে ২৫ টাকা বিক্রি হয়েছে। কিন্তু হিমাগারের আলু ছাড় হতে হতে এখন প্রতি কেজি ৩০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ, কেজিপ্রতি অন্তত ৫ টাকা দাম বেড়েছে।

কারওয়ান বাজারের আলুর পাইকারি ব্যবসায়ী মো. মজিবর মিয়া বলেন, হিমাগার থেকে ডায়মন্ড আলু যত কমতে থাকবে এখন দাম তত বাড়তির দিকে থাকবে। দাম কমার আর সুযোগ নেই। তবে, অন্য বছরের তুলনায় এবার আলুর দাম তুলনামূলক কম। ফলে দাম কেজিপ্রতি ৫ টাকা বাড়লেও এতে ক্রেতাদের ওপর সেভাবে চাপ তৈরি করবে না। হিমাগারে এবার পর্যাপ্ত আলু মজুত রয়েছে। এবার দাম সেভাবে বাড়বে না।

কাঁচা বাজারে সবজির দাম কিছুটা বেশ-কম হলেও ঝাল বেড়েছে কাঁচামরিচের। সপ্তাহের ব্যবধানে দাম কিছুটা বেড়ে ১৫০ টাকা ছাড়িয়েছে। খুচরায় কাঁচামরিচের কেজি এখন ১৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে যা ১৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

বিক্রেতারা বলছেন, বৃষ্টির কারণে মরিচের ক্ষেতে ক্ষতি হয়, ফলে সরবরাহ কমে যায়। বর্তমানে জেলা পর্যায়ে কাঁচামরিচের দাম বাড়তি রয়েছে বলে জানান বিক্রেতারা।

এদিকে, চালের বাজারে আগের মতোই বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের চাল। মাসখানেক আগে সরু চালের কেজিতে ২ টাকা বেড়ে যায়। এরপর থেকে মিনিকেট চালের কেজি ৭২ টাকা, মাঝারি বিআর-২৮ জাতের চাল ৬২ টাকা এবং মোটা স্বর্ণা চালের কেজি ৫৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যও বলছে, মাসের ব্যবধানে সরু চালের দাম প্রায় দেড় শতাংশ এবং মাঝারি চালের দাম এক শতাংশ বেড়েছে। তবে, সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ বলছে, মোটা চালের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ