শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৮ অপরাহ্ন

টানা ৮ বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করে আবারও গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষে মেসি

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬
  • ১ বার

বিশ্বকাপে নিজের দুর্দান্ত গোলধারা অব্যাহত রেখেছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোল করে টানা অষ্টম বিশ্বকাপ ম্যাচে অন্তত একটি করে গোল করার অনন্য রেকর্ড আরও দীর্ঘ করেছেন তিনি।

ম্যাচের ২৯তম মিনিটে করা গোলটি ছিল বিশ্বকাপে মেসির ক্যারিয়ারের ২০তম গোল। এর মাধ্যমে তিনি নিজের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি সর্বকালের তালিকায় ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পের চেয়ে দুই গোল এগিয়ে গেলেন। সেই গোলেই শুরু হয়েছিল রোমাঞ্চকর এক লড়াই, যেখানে শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ গোলে জিতে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।

অন্যদিকে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে শনিবার ফিলাডেলফিয়ায় প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হবে ফ্রান্স।

চলতি বিশ্বকাপে মেসির গোলসংখ্যা এখন ৭। সর্বোচ্চ গোলদাতার দৌড়ে তিনি এমবাপ্পের চেয়ে এক গোল এগিয়ে রয়েছেন। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে সর্বশেষ আট ম্যাচে তার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২টি।

ম্যাচ শেষে মেসির সতীর্থ রদ্রিগো দে পল বলেন, ‘তার বন্ধু হতে পারা আমার জন্য অনেক বড় সৌভাগ্যের বিষয়। আমার কাছে বন্ধুত্ব জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পর্কগুলোর একটি। তার সঙ্গে এমন মুহূর্ত ভাগাভাগি করতে পারছি, এ জন্য আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি।’

ম্যাচের ১৫তম মিনিটেই প্রথম বড় সুযোগ তৈরি করেছিলেন মেসি। তার বাঁ পায়ের শট গোলমুখ অতিক্রম করে ডান পাশের পোস্টের অল্প বাইরে দিয়ে চলে যায়। তিন মিনিট পর ফাউলের শিকার হয়ে পাওয়া প্রায় ২৫ গজ দূরের স্থির বল থেকেও গোলের চেষ্টা করেন তিনি, তবে কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়া সহজেই বলটি ধরে ফেলেন।

তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় আর্জেন্টিনা। রক্ষণভাগের খেলোয়াড় লিসান্দ্রো মার্তিনেসের বাড়ানো নিখুঁত পাস ধরে দারুণ সময়জ্ঞান দেখিয়ে রক্ষণভাগ ভেঙে এগিয়ে যান মেসি। এরপর প্রথম স্পর্শে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে কাছ থেকে গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে পাঠান তিনি। এটি ছিল জাতীয় দলের হয়ে মেসির ১২৪তম গোল। তার চেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক গোল রয়েছে কেবল পর্তুগালের ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর, যার গোলসংখ্যা ১৪৬।

গোল করার পর দুই হাত প্রসারিত করে পাসদাতা লিসান্দ্রো মার্তিনেসকে অভিনন্দন জানান মেসি। এরপর সতীর্থরা তাকে ঘিরে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন।

সর্বোচ্চ গোলদাতার দৌড়ে অবশ্য শুধু মেসি ও এমবাপ্পেই নন। নরওয়ের আরলিং হলান্ড এবং ইংল্যান্ডের হ্যারি কেনের রয়েছে পাঁচটি করে গোল। এছাড়া ফ্রান্সের উসমান দেম্বেলে, স্পেনের মিকেল ওইয়ারসাবাল, ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও সেনেগালের ইসমাইলা সারের গোল চারটি করে। তবে বেলজিয়ামের কাছে হেরে সেনেগাল বিদায় নেওয়ায় সারের সম্ভাবনাও শেষ হয়ে গেছে।

নরওয়ে, ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স ইতোমধ্যেই শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে। এবার তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে আর্জেন্টিনাও। যদিও কেপ ভার্দের বিপক্ষে জয় পেতে তাদের অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে।

বিশ্বকাপে এখনো সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জেতা হয়নি মেসির। ২০২২ সালের বিশ্বকাপে ৭ গোল করে তিনি দ্বিতীয় হয়েছিলেন, তখন এমবাপ্পে করেছিলেন ৮ গোল। আর ২০১৪ সালের আসরে ৪ গোল নিয়ে যৌথভাবে তৃতীয় স্থানে ছিলেন তিনি।

টুর্নামেন্ট শেষে যদি সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় একাধিক খেলোয়াড় সমান গোল করেন, তাহলে প্রথমে বিবেচনা করা হবে কার সহায়তায় বেশি গোল হয়েছে। সেখানেও সমতা থাকলে কম সময় মাঠে খেলে যিনি সমান গোল করেছেন, তিনিই এগিয়ে থাকবেন। শুক্রবারের ম্যাচের আগে এই হিসাব অনুযায়ী সহায়তায় ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় এমবাপ্পে সুবিধাজনক অবস্থানে ছিলেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ