ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির আসন্ন রাষ্ট্রীয় জানাজায় তার ছেলে ও বর্তমানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতোবা খামেনি উপস্থিত থাকবেন কি না তা নিয়ে এখনো রয়েছে ধোঁয়াশা।
তবে ইসরায়েলের সম্ভাব্য গুপ্তহত্যার হুমকি এবং চরম নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে তার উপস্থিত হওয়ার সম্ভবনা নেই বলেই ধারণা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার ভারতে নিযুক্ত মোজতোবা খামেনির এক প্রতিনিধিও এ তথ্য জানিয়েছেন। বার্তাসংস্থা আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রথম দিনেই বিমান হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তার মৃত্যুর পর দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানোর প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে, জানাজার প্রস্তুতির মধ্যেই ইরানকে লক্ষ্য করে নতুন করে কোনো ধরনের সামরিক হামলা চালানো হলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সতর্ক করেছে তেহরান।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত এক বিবৃতিতে খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের কমান্ডার আলী আব্দুল্লাহি বলেন, ‘আমরা ইরানের শত্রুদের, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নবাদী সরকারকে (ইসরায়েল) সতর্ক করছি যেন তারা কোনো ধরনের ভুল হিসাব-নিকাশ না করে। আমাদের দেশের বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকি বা আগ্রাসনের জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী কঠোর প্রতিশোধ নেবে।’
অন্যদিকে, আলী খামেনির দাফন অনুষ্ঠানটি আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম সর্বজনীন জানাজায় পরিণত হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই জানাজায় মানুষের উপস্থিতি ১৯৮৯ সালে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির ঐতিহাসিক জানাজার রেকর্ডও ছাড়িয়ে যেতে পারে। সে সময় খোমেনির জানাজায় প্রায় এক কোটি মানুষের সমাগম হয়েছিল।