সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন

কানাডার ইতিহাস গড়া জয়, শেষ মুহূর্তের গোলে দক্ষিণ আফ্রিকার বিদায়

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬
  • ০ বার

লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে নাটকীয় এক ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে পৌঁছে গেল কানাডা। অতিরিক্ত সময়ের এক দুর্দান্ত দূরপাল্লার গোলে দলকে ঐতিহাসিক জয় এনে দেন স্টিফেন ইউস্তাকিও।

রোববার অনুষ্ঠিত নকআউট পর্বের এই ম্যাচে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই নায়ক হয়ে ওঠেন কানাডার অধিনায়ক ইউস্তাকিও। দক্ষিণ আফ্রিকার বক্সের বাইরে বল পেয়ে জোরালো শটে তিনি পরাস্ত করেন প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামসকে।

গোল হজমের পর সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া চেষ্টা চালায় দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে কানাডার রক্ষণ ভেদ করতে না পারায় শেষ পর্যন্ত হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় আফ্রিকার প্রতিনিধিদের।

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রথমবার খেলতে নেমেছিল দুই দলই। ফলে ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল সতর্কতা ও রক্ষণাত্মক কৌশলের ছাপ। প্রথমার্ধে উল্লেখযোগ্য সুযোগ খুব কমই তৈরি হয়।

বিরতির ঠিক আগে কর্নার থেকে তৈরি হওয়া এক আক্রমণে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল কানাডা। মোইজ বম্বিতোর হেড গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেন অব্রি মোদিবা। পরে তাজন বুকানানের কাছ থেকে আসা কাছাকাছি দূরত্বের শট বুকে ঠেকিয়ে রক্ষা করেন উইলিয়ামস।

এর কিছুক্ষণ পর পেনাল্টি এলাকার মধ্যে রিচি লারেয়া পড়ে গেলে পেনাল্টির দাবি তোলে কানাডা। তবে ভিএআর পর্যালোচনার পরও রেফারি পেনাল্টি না দেওয়ায় গ্যালারিতে থাকা কানাডিয়ান সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।

দ্বিতীয়ার্ধেও দক্ষিণ আফ্রিকা রক্ষণাত্মক কৌশলেই খেলতে থাকে। ম্যাচের ৭০ মিনিটের দিকে তানি ওলুওয়াসেইয়ের শট গোলরক্ষক ফিরিয়ে দিলে ফিরতি বলে জোনাথন ডেভিডের হেডও গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করেন এমবেকেজেলি এমবোকাজি।

ম্যাচ শেষে খেলোয়াড়দের উদ্দেশে কানাডার কোচ জেসি মার্শ বলেন, ‘গত দুই বছরে আমরা যে পথ পাড়ি দিয়েছি, সেটাই আজকের সাফল্যের ভিত্তি। পরিকল্পনায় অটল থাকা এবং চরিত্র দেখানোর যে কথা বলেছিলাম, তোমরা সেটাই করে দেখিয়েছ। তোমরাই এখন কানাডার বীর।’

জয়ের পর ইউস্তাকিও বলেন, ‘এটি অসাধারণ একটি গোল ছিল। আমি যখন শট নিয়েছিলাম, মনে হয়েছিল পুরো কানাডা আমার সঙ্গে শটটি নিয়েছে। সবাই যেন বলটিতে একটু করে শক্তি যোগ করেছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘গ্রুপ পর্ব পেরোনোর পর থেকেই আমাদের বিশ্বাস জন্মেছে। বিশ্বাস অনেক বড় বিষয়। সামনে নেদারল্যান্ডস কিংবা মরক্কো যেই আসুক, সবকিছুই সম্ভব। আমরা যদি এভাবেই খেলতে থাকি, তাহলে হয়তো বিশ্বকাপও জিততে পারি।’

আগামী ৪ জুলাই হিউস্টনে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিতের লড়াইয়ে নেদারল্যান্ডস ও মরক্কোর মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ীর মুখোমুখি হবে কানাডা।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ