হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদ্যমান কার্গো জট নিরসনে স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও কাস্টমস ও সংশ্লিষ্ট সব সেবা কার্যক্রম চালু রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ উৎসাহিত করার লক্ষ্যে আয়োজিত এক বিশেষ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তাগিদ দেন। বিমানবন্দরে কার্গো হ্যান্ডলিং সংকট ও এর সমাধান নিয়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় দেশের বিমানবন্দরগুলোর আধুনিকায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়।
সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, বিমানবন্দরের কার্গো জট শুধু ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতিই করছে না, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে এবং বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম নিশ্চিত করতে তিনি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে আগামী সাত দিনের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখানোর আলটিমেটাম দেন।
তিনি আরও বলেন, কাস্টমস কর্তৃক আটক ও বাজেয়াপ্ত হওয়া পণ্যগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি এবং বিকল্প সংরক্ষণব্যবস্থার মাধ্যমে কার্গোর এই বাড়তি চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব। এ সময় তিনি ব্যবসায়ীদের কোনো ধরনের হুমকি বা কর্মবিরতির পথে না গিয়ে আলোচনার টেবিলে বসে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানান।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন, বিমানবন্দর কোনো স্টোরেজ বা পণ্য গুদামজাতকরণের স্থান নয়; এটি মূলত পণ্য আগমন ও বহির্গমনের একটি ট্রানজিট পয়েন্ট। শুক্রবার ও শনিবার কাস্টমসের কার্যক্রম সীমিত থাকার কারণেই বিমানবন্দরে জমে থাকা কার্গোর পরিমাণ কমানো যাচ্ছে না। তাই স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে ওঠার আগপর্যন্ত ছুটির দিনেও পূর্ণাঙ্গ সেবা চালু রাখা জরুরি। আগামী ১০ বছরের চাহিদা বিবেচনা করে বিমানবন্দরে হ্যাজার্ডাস, নন-হ্যাজার্ডাস, ফাস্ট-মুভিং ও স্লো-মুভিং পণ্যের জন্য পৃথক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার পাশাপাশি বিমানবন্দরের বাইরে একটি নিরাপদ ও আধুনিক ‘কার্গো ভিলেজ’ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি।
সভায় আলোচনায় উঠে আসে যে, বর্তমানে প্রতিদিন যে পরিমাণ কার্গো বিমানবন্দরে আসছে, ঠিক সমপরিমাণ পণ্য খালাস হলেও আগে থেকে জমে থাকা বিশাল জট কমানো সম্ভব হচ্ছে না। বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, সমস্যা সমাধানে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি উভয় ধরনের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে এবং আগামী সপ্তাহে আবারও বৈঠকের মাধ্যমে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব আতাউর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী সংগঠন, কার্গো অপারেটর এবং কাস্টমস কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।