বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বিশ্বের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে একই মঞ্চে অংশ নেওয়ার পর চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দালিয়ানে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) সামার দাভোস সম্মেলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ, একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং কাজাখস্তানের সঙ্গে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগের আলোচনা শেষে বুধবার সন্ধ্যায় বেইজিং পৌঁছালে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায় চীনা সরকার।
চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর দালিয়ানে বুধবার সকালে অনুষ্ঠিত ডব্লিউইএফের ১৭তম ‘অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়ন্স’ বা ‘সামার দাভোস’-এর প্লেনারি অধিবেশনে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় দালিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে শুরু হওয়া এ অধিবেশনে উদ্ভাবননির্ভর প্রবৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, নীতিনির্ধারক এবং ব্যবসায়ী নেতারা অংশ নেন।
ডব্লিউইএফের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যালোইস জুইঙ্গি উদ্বোধনী বক্তব্য দেন। অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছাড়াও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াং, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিম মিন-সিওক, মঙ্গোলিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিয়াম-ওসোর উচরাল, গিনির প্রধানমন্ত্রী আমাদু উরি বাহ, মন্টেনেগ্রোর প্রধানমন্ত্রী মিলইকো স্পাইয়িচ এবং কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রী ওলজাস বেকতেনভ অংশ নেন।
অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির বিষয় গুরুত্ব পায়।
বিরতিতে অংশগ্রহণকারী বিশ্বনেতারা একটি আনুষ্ঠানিক ফটোসেশনেও অংশ নেন।
‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এবারের সম্মেলনে ৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের ১ হাজার ৭০০-এর বেশি প্রতিনিধি অংশ নেন। বৈশ্বিক অর্থনীতি, শিল্প কাঠামোর পরিবর্তন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উদীয়মান প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগ, চীনের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ, যুব কর্মসংস্থান এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলো সম্মেলনের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তারেক রহমানের প্রথম ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম সভায় অংশগ্রহণ। এর আগে মঙ্গলবার তিনি ‘ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন এ শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপ’ শীর্ষক অধিবেশনে বক্তব্য দিয়ে জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন কার্যক্রম এবং ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড’ কার্যকর করার বিষয়ে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ জোরদারের আহ্বান জানান।
সম্মেলনের ফাঁকে বুধবার সকালে কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রী ওলজাস বেকতেনভের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই নেতা বাংলাদেশ ও কাজাখস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।
বৈঠকে ঢাকা ও আস্তানায় স্থায়ী কূটনৈতিক মিশন প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে দুই নেতা একমত হন। তারা মনে করেন, স্থায়ী দূতাবাস প্রতিষ্ঠা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
দুই নেতা দক্ষ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটাল অবকাঠামো, প্রযুক্তি, কৃষিভিত্তিক ব্যবসা এবং খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেন। পানি কূটনীতির বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। কাজাখ প্রধানমন্ত্রী পানি কূটনীতিবিষয়ক একটি বিশেষায়িত জাতিসংঘ সংস্থা প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবে বাংলাদেশের সমর্থন কামনা করলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানান।
চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের আমন্ত্রণে সফররত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃহস্পতিবার গ্রেট হল অব দ্য পিপলে লালগালিচা সংবর্ধনা পাবেন। একই দিনে প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের সঙ্গে তার আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া ২৬ জুন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা রয়েছে।
সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর। মালয়েশিয়া ও চীন সফর শেষে আগামী ২৬ জুন রাতে তার ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।