লিওনেল মেসি নিজের ক্যারিয়ারে অসংখ্য সম্মান ও শ্রদ্ধা পেয়েছেন। তবে ভক্তরা যেন প্রতিবারই তাকে সম্মান জানানোর নতুন ও আরও বড় উপায় খুঁজে বের করছেন। জন্মদিনের আগমুহূর্তে আবারও ব্যতিক্রমীভাবে সম্মানিত হলেন আর্জেন্টিনার এই কিংবদন্তি ফুটবলার।
বুধবার ৩৯ বছরে পা দিলেন মেসি। এর মাত্র দুই দিন আগে তিনি বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস গড়েছেন। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে দুটি গোল করে বিশ্বকাপে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড ভেঙেছেন তিনি।
এই উপলক্ষে আর্জেন্টিনার প্রত্যন্ত প্যাটাগোনিয়া অঞ্চলের কুত্রাল কো শহরে উন্মোচন করা হয়েছে মেসির বিশাল এক ভাস্কর্য। প্রায় ৮৫ ফুট উঁচু এই স্থাপনাটি তৈরি করতে ব্যবহার করা হয়েছে প্রায় ৭০ টন ইস্পাত। এর অবয়ব নিয়ে কিছু আলোচনা থাকলেও বিশাল আকৃতি সবার নজর কেড়েছে।
তবে এটিই প্রথম নয়। এর আগে ভারত সফরের সময় মেসিকে সম্মান জানিয়ে কলকাতায় প্রায় ৭০ ফুট উচ্চতার আরেকটি বিশাল ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়েছিল। সেটিকে ফুটবলারের সবচেয়ে বড় ভাস্কর্য বলে দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে পরে সেটি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। তারা জানায়, প্রবল বাতাসে ভাস্কর্যটি দুলছিল, যা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।
অন্যদিকে আর্জেন্টিনার কুত্রাল কো শহরের নতুন ভাস্কর্যটি বিশ্বকাপ উপলক্ষে গত ১৬ জুন উদ্বোধনের পর থেকেই ব্যাপক আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। শহরটিতে দর্শনার্থীর সংখ্যাও বেড়েছে।
৬১ বছর বয়সী স্থানীয় ভাস্কর আলদো বেরোইসা প্রায় ১৮ মাস সময় নিয়ে এটি তৈরি করেছেন। ভাস্কর্যে দেখানো হয়েছে, কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে শিরোপা জয়ের পর মেসির আবেগঘন মুহূর্ত—যখন তিনি হাঁটু গেড়ে বসে ছিলেন।
এতে মেসিকে এক হাতে আর্জেন্টিনার জার্সি ধরে এবং আকাশের দিকে আঙুল তুলে উদযাপন করতে দেখা যায়, যা তিনি প্রায়ই গোলের পর করে থাকেন। এটি তার প্রয়াত দাদির প্রতিও শ্রদ্ধার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
মেসিকে ঘিরে শ্রদ্ধা এখানেই শেষ হয়নি। বুয়েনস আইরেসের একটি এলাকায় নতুন করে আঁকা হয়েছে বিশাল দেয়ালচিত্র, যেখানে যুক্ত করা হয়েছে তার ১ হাজার ৩০০ ভক্তের নাম।
শিল্পী লিওনেল গার্সিয়া ১৮ দিন সময় নিয়ে দেয়ালচিত্রটি আঁকেন। তার মতে, মেসি শুধু আনন্দই দেন না, তিনি মানুষকে একত্রিতও করেন।
মেসিও ভক্তদের এই ভালোবাসার প্রতিক্রিয়ায় একটি ভিডিও বার্তায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।’