সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে পাহাড়ি ঢলের স্রোতের তোড়ে একটি বসতবাড়ি ভেঙে মাঝের খাল নামক স্থানে পানিতে ডুবে গেছে। এ সময় ঘরের ভেতরে শেকলে বেঁধে রাখা রুবেল মিয়া নামে এক মানসিক ভারসাম্যহীন নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের ৭ ঘণ্টা পর তার মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।
আজ সোমবার বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের বড়দল নতুন হাটি ও পুরানহাটি গ্রামের মাঝের খালে ডুবে যাওয়া স্থান থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত রুবেল মিয়া (৩৫) উপজেলার দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের বড়দল পুরান হাটি গ্রামের বশির মিয়ার ছেলে।
এর আগে সকাল ১০টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের বড়দল নতুন হাটি ও পুরানহাটি গ্রামের মাঝের খালে ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, গত ৩ বছর ধরে মানুষিক সমস্যায় ভুগছিলেন রুবেল মিয়া। সে কারণে পরিবারের লোকজন তাকে বাড়িতেই শিকল দিয়ে বেঁধে রাখত। গ্রামের মাঝের খাল ঘেঁষে তৈরি করা বাড়িতে রুবেল মিয়া পরিবারের সঙ্গে থাকলেও বাড়ির পাশে আরেকটি আধাপাকা পরিত্যক্ত বাড়িতে তাকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হতো, আর খাবার দেওয়া হতো।
এদিকে পাহাড়ি ঢলে বাড়িটি ভেঙে পড়ার ঝুঁকি ছিল। আজ সকাল ১০টার দিকে ওই পরিত্যক্ত বাড়িটি ভেঙে মাঝের খালে পড়ে যায়। এরপর থেকেই রুবেল মিয়া নিখোঁজ হন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস, তাহিরপুর থানা এসআই পংকজ, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জুয়েল মিয়াসহ স্থানীয় এলাকাবাসী উদ্ধার কাজে যোগ দেন। দীর্ঘ ৭ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে মাঝের খালে ডুবে যাওয়া স্থানে ভেঙে ডুবে যাওয়া ঘরের ভেতর থেকে রুবেল মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জুয়েল মিয়া জানান, গত কয়েক দিন ধরে পাহাড়ি ঢলে পানির প্রবল স্রোতে হাওরের দিকে প্রবাহিত হওয়ায় বাড়িটি ভেঙে পানিতে তলিয়ে যায়। আর সেই বাড়িটিতেই রুবেল মিয়া ছিলেন। অনেক চেষ্টার পর ডুবে যাওয়া বাড়িটির নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।
তাহিরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) পংকজ জানান, মানুষিক প্রতিবন্ধী রুবেল মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করার পর থানায় আনা হয়েছে।
তাহিরপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।