চলছিল নকুল মল্লিকের ভাতিজির বিয়ের জমকালো আয়োজন। পুরো বাড়ি সাজানো হয়েছিল আলোকসজ্জায়। শুক্রবার রাত ৮টার দিকে বরযাত্রীবাহী গাড়ি কনের বাড়িতে এসে পৌঁছায়। বর আসার খবরে বিয়ে বাড়িতে আনন্দের ধুম পড়ে যায়। বরকে স্বাগত জানাতে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে কনের চাচা নকুল মল্লিকও বিয়ের প্রধান গেটে এগিয়ে যান। গেটে নতুন বরকে মিষ্টিমুখ করানোর সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা যান নকুল মল্লিক। এতে বিয়ের আনন্দের আলো মুহূর্তেই রূপ নেয় বিষাদে।
ঘটনাটি ঘটেছে নড়াইল সদর উপজেলার কলোড়া ইউনিয়নের মুশুড়িয়া গ্রামে। নিহত নকুল মল্লিক ওই গ্রামের বাসিন্দা সতীশ চন্দ্র মল্লিকের ছেলে। তিনি সম্পর্কে কনের আপন চাচা।
জানা গেছে, শুক্রবার রাতে মুশুড়িয়া গ্রামে নকুল মল্লিকের ভাতিজির বিয়ের জমকালো আয়োজন চলছিল। পুরো বাড়ি সাজানো হয়েছিল আলোকসজ্জায়। রাত ৮টার দিকে একই উপজেলার ধোপাখোলা এলাকা থেকে বরযাত্রীবাহী গাড়ি কনের বাড়িতে এসে পৌঁছায়। বর আসার খবরে বিয়ে বাড়িতে আনন্দের ধুম পড়ে যায়। নিয়ম অনুযায়ী বরকে স্বাগত জানাতে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে কনের চাচা নকুল মল্লিকও বিয়ের প্রধান গেটে এগিয়ে যান। গেটে বরকে মিষ্টি মুখ করানোর শুভ মুহূর্তটিতে ঘটে চরম বিপর্যয়।
বরকে মিষ্টি খাওয়ানোর সময় অসাবধানতাবশত গেটের তোরণ ও আলোকসজ্জায় ব্যবহৃত একটি লিক (ত্রুটিপূর্ণ) বিদ্যুতের তারে নকুল মল্লিকের হাত লেগে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তিনি মারা যান। হঠাৎ এই ঘটনায় বিয়ে বাড়ির আনন্দ-উচ্ছ্বাস মুহূর্তে চিৎকার আর কান্নায় ভেঙে পড়ে। পরিবারের সদস্যরা ও স্থানীয়রা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে তাকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে নকুল মল্লিককে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের ধারণা, হাসপাতালে পৌঁছানোর পূর্বেই তার মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে নড়াইল সদর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। এই অসাবধানতামূলক দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।