বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুইবার পিছিয়ে পড়েও ২-২ গোলে ড্র করেছে ইরান। ‘জি’ গ্রুপের ম্যাচে প্রথমার্ধ শেষে ১-১ গোলে সমতা ছিল।
স্থানীয় সময় সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলসে নিউজিল্যান্ড তাদের প্রথম আক্রমণ থেকেই এগিয়ে যায়।
ম্যাচের সপ্তম মিনিটে গোল তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখেন ফরোয়ার্ড ক্রিস উড। চমৎকারভাবে বল ধরে রেখে আক্রমণের ভিত্তি গড়ে দেন তিনি। পরে বলটি আবার নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বুক দিয়ে বাড়িয়ে দেন এলাইজা জাস্টের সামনে। সুযোগ পেয়ে জাস্ট জোরালো শটে বল পাঠিয়ে দেন ইরানের গোলরক্ষক আলিরেজা বেইরানভান্দের নাগালের বাইরে। এগিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড।
বিশ্বকাপের মূল পর্বে এটি নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসে মাত্র পঞ্চম গোল।
এই টুর্নামেন্টে প্রথমবার নয়, আবারও দেখা গেল পানিবিরতির পর ম্যাচের গতি বদলে গেল। বিরতির আগে যে দলটি ভালো খেলছিল, বিরতির পর প্রতিপক্ষ নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে ম্যাচে ফিরে আসতে সক্ষম হয়।
পানিবিরতির পর ইরানই ছিল বেশি আক্রমণাত্মক দল। এক পর্যায়ে বল বাড়ানো হয় রামিন রেজাইয়ানের দৌড়ের পথে। ৩২তম মিনিটে তিনি অসাধারণ দক্ষতায় বুটের বাইরের অংশ দিয়ে বলটিকে স্পর্শ করে নিউজিল্যান্ডের গোলরক্ষক ম্যাক্স ক্রুকোম্বের পাশ কাটিয়ে জালে পাঠিয়ে দেন। গোলরক্ষক ডাইভ দেওয়ার সুযোগই পাননি।
এরপর সংক্ষিপ্তভাবে দেখা হয় রেজাইয়ান অফসাইডে ছিলেন কি না। যাচাই শেষে নিশ্চিত হওয়া যায়, তিনি বৈধ অবস্থানেই ছিলেন। ফলে ম্যাচে সমতা ফিরে আসে, স্কোরলাইন দাঁড়ায় ১-১।
প্রথমার্ধের মতোই ইরান দ্বিতীয়ার্ধও ভালোভাবে শুরু করে, কিন্তু ক্রিস উড এবং এলাইজা জাস্টের সমন্বয়ে ফের এগিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। উড স্লাইড করে নিখুঁত পাস দেন, আর জাস্ট ইরানের গোলরক্ষক আলিরেজা বেইরানভান্দকে টপকে ভাসানো শটে বল জালে পাঠান।
কিউইদের স্বপ্নে পানি ঢেলে ৬৪তম মিনিটে ফের সমতায় ফেরে ইরান। এটি ছিল একটি অসাধারণ গোল। বলটি ডান প্রান্তে খোলা জায়গায় পাঠানো হয় গোলদাতা রামিন রেজায়িয়ানের দিকে। তিনি উইং থেকে দুর্দান্ত এক ক্রস দেন, আর মোহাম্মদ মোহেব্বি দৌড়ে এসে শক্তিশালী হেডে বলটি লক্ষ্যভেদ করেন। বলটি পোস্টের ভেতরের দিক ঘেঁষে জালে প্রবেশ করে।
ম্যাচের বাকি সময় আর কোনো গোল না হওয়ায় খেলা ২-২ গোলে সমতা নিয়ে শেষ হয়।