ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফনের আনুষ্ঠানিকতা আগামী ৪ জুলাই রাজধানী তেহরানে শুরু হবে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে শনিবার এ তথ্য জানায় বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েক ধাপের রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান শেষে ৯ জুলাই দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পবিত্র শহর ও খামেনির জন্মস্থান মাশহাদে তাকে দাফন করা হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার প্রথম দিনেই নিহত হন ৮৬ বছর বয়সী এই শীর্ষ ধর্মীয় নেতা। হামলায় তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত তার আবাসিক ও প্রশাসনিক কমপ্লেক্স ধ্বংস হয়ে যায়।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ৭ জুলাই তেহরানের দক্ষিণে অবস্থিত পবিত্র শহর কুমেও খামেনির স্মরণে বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী মৃত ব্যক্তিকে যত দ্রুত সম্ভব (আদর্শভাবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে) দাফন করার বিধান রয়েছে। তবে যুদ্ধ বা বিশেষ পরিস্থিতিতে দাফন বিলম্বিত করার সুযোগ রয়েছে।
১৯৮৯ সালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর টানা ৩৬ বছর দেশটির নেতৃত্বে ছিলেন খামেনি। তার শাসনামলে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক শক্তিতে পরিণত হয়। লেবাননের হিজবুল্লাহসহ বিভিন্ন মিত্র গোষ্ঠীর মাধ্যমে তেহরান গোটা অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করে। একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরে সরকারবিরোধী আন্দোলন ও বিক্ষোভ কঠোরভাবে দমন করা হয়।
খামেনি পুরো রাজনৈতিক জীবনে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর সমালোচক ছিলেন। তার নেতৃত্বে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চললেও বিভিন্ন মার্কিন প্রশাসনের উদ্যোগেও সেই সংকটের স্থায়ী সমাধান হয়নি।
খামেনির মৃত্যুর পর তার ছেলে মোজতবা খামেনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বিমান হামলায় মোজতবা আহত হন এবং তার স্ত্রীও নিহত হন বলে জানা গেছে।
এদিকে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তির একটি কাঠামোয় সম্মত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে দুই দেশ।