পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘ ১৫ বছরের রাজস্ত্ব শেষ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই অভ্যন্তরীণ সংকট ও বিদ্রোহের জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে। দলের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অধিকাংশ সাংসদ ও বিধায়কের অনুপস্থিতি নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আজ শনিবার ভারতীয় বার্তাসংস্থা এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
শুক্রবার কলকাতার কালিঘাটে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে অনুষ্ঠিত তৃণমূল কংগ্রেসের এক বৈঠকে মাত্র আটজন বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন। এর কয়েকদিন আগেই দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬০ জন একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন বলে খবর প্রকাশিত হয়।
তবে বৈঠকের পর তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এটি সব সাংসদ ও বিধায়কদের বৈঠক ছিল না। এটি ছিল দলের জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির (ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটি) সভা।
দলের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এটি সব সাংসদ বা বিধায়কের বৈঠক ছিল না। জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক ছিল। কমিটির সদস্যদের মধ্যে অনেকেই ভার্চুয়ালি যোগ দিয়েছেন।’
লোকসভায় তৃণমূলের ২৮ সাংসদের মধ্যে মাত্র চারজন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। রাজ্যসভার ১৩ জন সাংসদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাত্র দুজন- ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং দোলা সেন। উপস্থিত লোকসভা সদস্যদের মধ্যে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
বৈঠকে উপস্থিত বিধায়কদের মধ্যে ছিলেন মদন মিত্র, বীণা মণ্ডল, অসীমা পাত্র, ফিরহাদ হাকিম, কুণাল ঘোষ, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় ও অশোক দেব।
এদিকে বিদ্রোহী শিবিরের নেতা এবং বিধানসভায় বিরোধীদলীয় নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, বিদ্রোহী বিধায়কদের সংখ্যা আরও বাড়বে।
এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমাদের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। আমরা ইতোমধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সমর্থন দেখিয়েছি। বিধানসভার অধিবেশন শুরু হলে সেই সংখ্যা আরও বাড়বে।’
তিনি আরও দাবি করেন, বিদ্রোহী শিবিরে থাকা কোনো বিধায়ক তাদের সমর্থন প্রত্যাহার করবেন না।
তবে তৃণমূলের সাংসদদের মধ্যে বিদ্রোহের সম্ভাবনা সম্পর্কে সরাসরি মন্তব্য করতে চাননি ঋতব্রত। তিনি জানান, গত সাত দিনে তিনি কোনো সাংসদের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করেননি।
প্রতিবেদনে রাজনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করা হয়, বিদ্রোহী শিবিরের একাংশ দল ছেড়ে অন্য দলে যোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। এর মধ্যে অন্তত ২০ জন তৃণমূল সাংসদ বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে পরাজয়ের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসে অসন্তোষ প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। এরপর থেকেই দলের ভেতরে নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতোমধ্যে দলের দুই বিধায়ককে বহিষ্কার করেছেন।