বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন

এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা প্রার্থী হতে পারবেন না

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬
  • ০ বার

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা প্রার্থী হতে পারবেন না। এ ছাড়া ঋণখেলাপি ও ঋণখেলাপির জামিনদারের প্রার্থিতাও অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ের এই নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করে তাদের মোতায়েনের লক্ষ্যে আইন সংশোধনের সিদ্ধান্ত দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল কমিশন সভায় একগুচ্ছ আইনি সংস্কারেরও সিদ্ধান্ত দিয়েছে এএমএম নাসির উদ্দিন নেতৃত্বাধীন কমিশন। আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে এসব সংস্কার প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সায় দিলে বিলটি সংসদে যাবে। সংসদে বিলটি পাস হলে এসব বিধান কার্যকর হবে।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য আইন-বিধি প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে, সেগুলো দ্রুত স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হবে।

গতকাল কমিশনের ১২তম সভা শেষে নির্বাচন ভবনে ইসি সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদের যে আইনগুলো আছে, সেগুলো নিয়ে আলোচনা করা রয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য আইন-বিধি প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে, সেগুলো দ্রুত স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হবে।

তিনি জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। ঋণখেলাপি ও জামিনদাররাও প্রার্থী হিসেবে অযোগ্য হবেন। এ ছাড়া ইউটিলিটি বিল বকেয়া থাকলেও নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে অযোগ্য হবেন। এসব প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে কমিশন। দ্রুতই মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন কিনা, এ বিষয়ে কমিশন মনে করেÑ না, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা যেন নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য হন।

ইসি সচিব বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সব আইনে এটা সেভাবে নেই। কাজেই আমরা মনে করি, সব আইনে এটা (সশস্ত্র বাহিনী) যুক্ত করা উচিত।

তিনি বলেন, ঋণখেলাপি বলে যে বিষয়টা আছে, এখানে দুটি ক্ষেত্রÑ একটা হচ্ছে বন্ধকদাতা এবং জামিনদার; যিনি ব্যক্তিগতভাবে বন্ধকদাতা তিনি তো আছেনই। কিন্তু যারা তাদের জামিনদার হয়েছেন, তাদেরও ঋণখেলাপি হিসেবে প্রার্থিতার অযোগ্য করার একটা প্রস্তাবনায় আমরা নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছি।

সচিব বলেন, পাশাপাশি বিলখেলাপি, যেমন ইলেকট্রিসিটি বিল, ভূমি কর, ওয়াসার বিলÑ এ ধরনের কোনো বিলখেলাপি থাকলে তাকেও অযোগ্য হিসেবে গণ্য করতে হবে। এটা ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক হতে পারে। কোনো প্রতিষ্ঠান বিলখেলাপ করলে সেটা ওই প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারের অযোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে।

তিনি জানান, লাভজনক পদে থেকে নির্বাচন করা যাবে না। আবার দ্বৈত নাগরিকত্বধারী যারা, তাদেরও নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। সংবিধানে এটার একটা সীমাবদ্ধতা দেওয়া আছে।

ইসি সচিব বলেন, আইন সংশোধনের বিষয়ে আমরা এখন স্থানীয় সরকার বিভাগে প্রস্তাব পাঠাব, তারা উপযুক্ত মনে করলে ব্যবস্থা নেবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন কি আজই চূড়ান্ত করছেন, এ প্রশ্নে তিনি বলেন, আমরা চূড়ান্ত করার এখতিয়ার রাখি না। আমরা আইনের কিছু প্রস্তাবনা বা সুপারিশ করছি। চূড়ান্ত করার দায়িত্ব স্থানীয় সরকার বিভাগ বা সংসদের। প্রস্তাবনা কবে পাঠাবেন জানতে চাইলে আখতার আহমেদ বলেন, যত তাড়াতাড়ি পারি। কাল-পরশু তৈরি হয়ে গেলে পাঠিয়ে দেব।

প্রাইমারি স্কুলপর্যায় থেকে এনআইডি দেওয়ার পরিকল্পনা : বর্তমানে ১৬ বছর বয়স থেকে ভোটার হওয়ার জন্য নিবন্ধন করে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দিচ্ছে ইসি। বয়সসীমা আরও নিচে নামিয়ে তা প্রাইমারি পর্যায় পর্যন্ত নেওয়া যায় কিনা, তা নিয়ে ভাবছে সংস্থাটি।

ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, এখন আমরা ১৬ বছর ও তদূর্ধ্বদের ডাটা কালেকশন করি এনআইডি বা ভোটার তালিকার জন্য। যখন একজন ১৮ বছরে পৌঁছান, তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে তিনি ভোটার তালিকাভুক্ত হয়ে যান। তার আগে পর্যন্ত এটি ডরম্যান্ট থাকে। এই ডেটা কালেকশন কোন স্তর পর্যন্ত নামানো যায়, সেটা নিয়ে আরও কিছু পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এটা এসএসসি, নাকি ক্লাস এইট, নাকি প্রাইমারি এনরোলমেন্ট, যেটাই হোক না কেন, একটি তুলনামূলক বিবরণীর ভিত্তিতে পরবর্তীতে সিদ্ধান্তে আসব। এনআইডি সংশোধনের ব্যাপারেও কিছু প্রস্তাবনা ছিল। যেমন মাইগ্রেশন (স্থানান্তর) করা বা ভোটার এলাকা স্থানান্তরের বিষয়টি অনলাইনে করার পদ্ধতি। আমরা বলছি, আপনারা অনলাইনে আবেদন করবেন। এ ছাড়া এই মাইগ্রেশনের জন্য একটি সংশোধনী ফি দিতে হবেÑ যা আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক ফি হিসেবে নতুন করে নির্ধারণ করা হবে।

ইসি সচিব বলেন, আইনে আছে ১৫ বছর পর এনআইডি নবায়নের বিষয়টি। এই এনআইডি নবায়নের জন্য নির্ধারিত একটি ফর্ম থাকবে। সেই ফর্মে কী কী তথ্য থাকবে, যেমন একটি ফ্যামিলি ট্রির কথা বলা হয়েছে, যেখানে আবেদনকারী বা এনআইডিধারী তার পরিবারের তথ্য দেবেন, যাতে সংগতি বজায় রাখা যায়। এ ক্ষেত্রেও ন্যূনতম ফির বিষয় রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মাঠপর্যায়ে জন্ম তারিখ সংশোধনের একটি বিষয় আমরা এনআইডিতে কেন্দ্রীয়ভাবে করে থাকি। এখন পাবলিক পরীক্ষার সনদে (জেএসসি, এসএসসি, পিএসসি) যেখানে জন্ম তারিখ নিশ্চিত করা আছে, সেই ভিত্তিতে মাঠপর্যায়ে এই সংশোধনগুলো করা যাবে। সেই ক্ষমতা মাঠপর্যায়ে দেওয়া হবে।

আখতার আহমেদ বলেন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনের ক্ষেত্রে এটি টু-স্টেপ মেকানিজম ছিল। প্রবাসীরা ফর্ম জমা ও বায়োমেট্রিক দেওয়ার পরে আমাদের এখানে তদন্তে আসত। তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর সেটি আপলোড হতো। এখন আমরা বলছি, আপনারা বায়োমেট্রিক আপলোড করে দেবেন। আমরা তদন্তে যথার্থতা পেলে এখান থেকেই অনুমোদন দিয়ে দেব। এতে একটি ধাপ কমে যাবে। মূলত এসব বিষয় নিয়েই আজ আলোচনা হয়েছে। আরও কিছু বিষয়, যেমন নবায়নের ক্ষেত্রে কী কী তথ্য দিতে হবে এবং কী পদ্ধতিতে দিতে হবে, এসব পদ্ধতি আরও পরিশোধিত করা হবে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ