বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন

ব্যাখ্যা ও বিচারের অঙ্গীকার চেয়ে আমিরাতের চিঠি

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬
  • ০ বার

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ব্যাখ্যা ও বিচার বিষয়ে অঙ্গীকার চেয়ে চিঠি দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহে ইউএইর দেওয়া চিঠি পেয়েছে বাংলাদেশ। চিঠিতে বাংলাদেশে এ ধরনের বিষয়ে ‘সেন্ট্রাল অথরিটি’ হিসেবে কোন সংস্থা বা কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব পালন করছে–সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরানো হলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক অঙ্গীকারও চেয়েছে আমিরাত।

এ ছাড়া, বেনজীর আহমেদকে প্রত্যর্পণ বা দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে কোন আইনি ভিত্তিতে বাংলাদেশ অনুরোধ জানাচ্ছে, সেটিও বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করতে বলেছে ইউএই। প্রত্যর্পণ বা হস্তান্তরের আবেদনটি কোন আইন, দ্বিপক্ষীয় চুক্তি বা আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর আওতায় করা হচ্ছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য জানতে চেয়েছে দেশটি।

সূত্রগুলো বলছে, ইউএইর চাওয়া ব্যাখ্যা ও নিশ্চয়তার বিষয়গুলো নিয়ে এরই মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কাজ শুরু করেছে। প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ও নথিপত্র প্রস্তুত করে কূটনৈতিক মাধ্যমে আমিরাতকে জবাব পাঠানো হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব, রাজনৈতিক অনুবিভাগ) ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ কালবেলাকে বলেন, আমিরাতের দেওয়া চিঠিতে সেন্ট্রাল অথরিটি সম্পর্কে জানতে চেয়েছে। একই সঙ্গে বিচার সম্পর্কিত অঙ্গীকারনামা চাওয়া হয়েছে।

ন্যায়বিচারের অঙ্গীকার চাওয়া হয়েছে কি না, জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (রাজনৈতিক-১ অধিশাখা) রেবেকা খান বলেন, বিষয়টি এমন না। আমরা যে তথ্যগুলো দিয়েছিলাম, সেগুলো ইউএই তাদের নিজস্ব ফরমেটে চেয়েছে। আমরা সেভাবেই তথ্যগুলো পাঠাচ্ছি। আমিরাতের এ ফিরতি চিঠিকে ‘পজিটিভ’ হিসেবে দেখছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাদের ভাষ্য, আন্তর্জাতিক আইনি সহায়তা ও প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় এ ধরনের ব্যাখ্যা ও নিশ্চয়তা চাওয়া অস্বাভাবিক নয়। অনুরোধকারী দেশের আইনি সক্ষমতা, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ এবং প্রত্যর্পণের আইনি ভিত্তি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয় সংশ্লিষ্ট দেশ। আমিরাত কর্তৃপক্ষ পজিটিভলি দেখছে বলে এভাবে চিঠি এসেছে।

গত ১২ জুন দুবাই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ। ১৪ জুন জাতীয় সংসদে গ্রেপ্তারের তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) আবুধাবি থেকে পাঠানো এক ই-মেইলে বাংলাদেশ সরকারকে জানানো হয়, দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে আটক করা হয়েছে।

বেনজীর আহমেদ আটক হওয়ার পর ইউএই সরকারের কাছে কূটনৈতিক চ্যানেলে তাকে প্রত্যর্পণ চেয়ে আবেদন করে বাংলাদেশ সরকার। তার বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসহ অন্যান্য নথিসহ আবেদনটি করা হয়। সেই আবেদনের পর এবার ইউএই সরকার কিছু বিষয়ে ব্যাখ্যা ও অঙ্গীকারনামা চেয়েছে।

ইউএই এর দেওয়া চিঠির বিষয়ে দুদকের উপপরিচালক (মিডিয়া) আকতারুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, তারা কয়েকটি বিষয়ে ক্লিয়ারেন্স চেয়েছে। এর মধ্যে দুদক সংশ্লিষ্ট যেসব বিষয় আছে, সেগুলোর ব্যাখ্যা দুদক প্রস্তুত করছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে তা পাঠানো হবে।

১৯৮৮ সালে পুলিশে যোগ দেওয়া বেনজীর আহমেদ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার, র্যাবের মহাপরিচালক ও পরে পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অবসরে যাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠলে দেশত্যাগ করেন তিনি। গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বেনজীরের বিরুদ্ধে চলমান অনুসন্ধান ও মামলাগুলোর গতি বাড়ে। আদালত থেকে একাধিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি করা হয়। সেই রেড নোটিশের ভিত্তিতেই গত ১২ জুন তাকে গ্রেপ্তার করে দুবাই পুলিশ।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ