বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলে হেরে আবারও শিরোপার স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে ইংল্যান্ডের। টুর্নামেন্টজুড়ে দলকে নেতৃত্ব দেওয়া অধিনায়ক হ্যারি কেইনের সামনে এখন বড় প্রশ্ন, ২০২৬ সালের পরের বিশ্বকাপেও কি দেখা যাবে তাকে?
ইংল্যান্ডের হয়ে ২০১৮ বিশ্বকাপ থেকে আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন কেইন। সেই আসরে ছয় গোল করে জিতেছিলেন গোল্ডেন বুট এবং দীর্ঘ ২৮ বছর পর ইংল্যান্ডকে তুলেছিলেন বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে। ২০২২ বিশ্বকাপে দল থেমেছিল কোয়ার্টার-ফাইনালে, আর এবার ২০২৬ বিশ্বকাপেও শেষ হলো সেমিফাইনালে।
ক্লাব ফুটবলেও দীর্ঘদিন টটেনহ্যামের হয়ে খেললেও বড় কোনো শিরোপা জিততে পারেননি কেইন। পরে বায়ার্ন মিউনিখে গিয়ে প্রথমবারের মতো ট্রফি জয়ের স্বাদ পান তিনি। তবে ইংল্যান্ডের হয়ে এখনো অধরা রয়ে গেছে বড় কোনো আন্তর্জাতিক শিরোপা।
ইউরোতেও একই অভিজ্ঞতা হয়েছে কেইনের। ২০২০ ও ২০২৪ ইউরোতে টানা দুইবার ফাইনালে উঠেও ইতালি ও স্পেনের কাছে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করে ইংল্যান্ড।
পরবর্তী বিশ্বকাপে কেইনের বয়স হবে ৩৬ বছর। তাই জাতীয় দলের হয়ে আরও একটি বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সরাসরি কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি ইংলিশ অধিনায়ক।
কেইন বলেন, ‘এখনই আমি কিছু বলতে চাই না। তখন আমি কেমন খেলছি, শারীরিক অবস্থা কেমন থাকবে এসবের ওপর নির্ভর করবে বিশ্বকাপে খেলা।’
তবে বয়সকে বড় বাধা হিসেবে দেখছেন না তিনি। এ ক্ষেত্রে লিওনেল মেসির উদাহরণ টেনে কেইন বলেন, ‘এই গ্রীষ্মে আমার বয়স ৩৩ হবে। মেসি ৩৯ বছর বয়সেও খেলছে এবং ভালো পারফর্ম করছে। দেখা যাক আমার ক্ষেত্রে কী হয়। আমি এখনই কোনো সীমারেখা টানতে চাই না।’
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেমিফাইনালের হার নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেছেন কেইন। তার মতে, ম্যাচের বড় একটি সময় নিয়ন্ত্রণে থাকলেও শেষ পর্যন্ত জয় ধরে রাখতে পারেনি ইংল্যান্ড।
কেইন বলেন,‘মনে হচ্ছে আগের টুর্নামেন্টগুলোর পুনরাবৃত্তিই হলো। ৬০ মিনিট পর্যন্ত ম্যাচ আমাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল, কিন্তু এরপর পরিস্থিতি বদলে যায়।’
এক গোলের লিড ধরে রাখতে না পারার আক্ষেপও রয়েছে ইংল্যান্ড অধিনায়কের। তিনি বলেন, ‘এগিয়ে যাওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই লক্ষ্য থাকে ব্যবধান ধরে রাখা। কিন্তু ২০ মিনিটের মধ্যেই তারা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ম্যাচটা আমাদের হাতেই ছিল, কিন্তু আমরা ধরে রাখতে পারিনি।’