খেলোয়াড়দের চোট কিংবা ফর্মের ওঠানামা নয়, এবারের ‘লা ফিনালিসিমা’ থমকে গিয়েছিল মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি আর যুদ্ধ পরিস্থিতির মারপ্যাঁচে। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ও কোপা আমেরিকা জয়ী আর্জেন্টিনা এবং ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেনের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত এই মহারণ বাতিলের ঘোষণায় হতাশ পড়েছিলেন ফুটবলপ্রেমীরা। কাতার থেকে ম্যাচ সরানোর জটিলতা, সান্তিয়াগো বার্নাব্যু বনাম মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামের ভেন্যু নিয়ে এএফএ ও উয়েফার দড়ি-টানাটানি—সব মিলিয়ে ভেস্তেই যেতে বসেছিল আসরটি।
তবে সব শঙ্কা ও জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এলো চূড়ান্ত সুখবর। কোপা আমেরিকা ও ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের রাজমুকুট মাথায় তোলা বিশ্বসেরা দুই পরাশক্তি অবশেষে নিজেদের শক্তি যাচাইয়ের লড়াইয়ে নামতে যাচ্ছে। ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনাল সে সুযোগ করে দিচ্ছে। ১৯ জুলাই নিউইয়র্কে-নিউজার্সিতে হবে সেই দ্বৈরথ!
ফুটবল রোমাঞ্চের সর্বোচ্চ মঞ্চ ‘ফিনালিসিমা’
চলতি বছরের শুরুতে ২৭ মার্চ কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে ম্যাচটি হওয়ার কথা থাকলেও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে উয়েফা তা স্থগিত করতে বাধ্য হয়। এরপর ভেন্যু ও তারিখ নিয়ে শুরু হয় তুমুল জটিলতা। উয়েফা চেয়েছিল ম্যাচটি মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে হোক, কিংবা হোম-অ্যান্ড-অ্যাওয়ে ভিত্তিতে দুই লেগে অনুষ্ঠিত হোক। কিন্তু আর্জেন্টিনার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) নিজেদের অনমনীয় অবস্থানে অনড় থাকায় একপর্যায়ে ম্যাচটি সম্পূর্ণ বাতিল ঘোষণা করা হয়েছিল।
এই ম্যাচের মূল আকর্ষণ অবশ্য মাঠের রণকৌশলকেও ছাড়িয়ে এক মনস্তাত্ত্বিক রূপকথায় রূপ নিয়েছে। একদিকে আধুনিক ফুটবলের অবিসংবাদিত রাজা, আর্জেন্টাইন জাদুকর লিওনেল মেসি। অন্যদিকে, বার্সেলোনার একাডেমি থেকে উঠে আসা এবং মেসিরই যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে বিশ্বমঞ্চে আলো ছড়ানো স্পেনের বিস্ময়বালক লামিন ইয়ামাল।
আসল ফিনালিসিমাটা না হলেও মেসির সাথে ইয়ামালের লড়াইটা শেষ পর্যন্ত যে বিশ্বকাপ ফাইনাল দিয়েই যাচাই করা যাচ্ছে তাতেই রোমাঞ্চিত সারা বিশ্বের ফুটবল প্রেমীরা।