টানা বৃষ্টিতে কক্সবাজারের টেকনাফও রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এদিকে পাহাড়ে বসবাসকারীদেরকে নিরাপদ আশ্রয় সরে যেতে মাইকিং করছে স্থানীয় প্রশাসন।
টানা বৃষ্টিতে আজ সোমবার বিকেল পর্যন্ত টানা বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। এতে টেকনাফের আলীখালী ও উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২ ডব্লিউসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে শতাধিক পরিবার চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
জানা গেছে, টানা ভারী বর্ষণে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় শতাধিক অধিক রোহিঙ্গা বসতি পানিবন্দি। অনেক আশ্রয়ঘরে হাঁটুসমান পানি ঢুকে পড়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাপড়-চোপড়, খাদ্যসামগ্রী, জ্বালানি কাঠ, বিছানাপত্র ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পানিতে ভিজে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহায়তায় সাইক্লোন প্রিপেয়ার্ডনেস প্রোগ্রামের (সিপিপি) স্বেচ্ছাসেবকেরা ঝুঁকিপূর্ণ ও প্লাবিত এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে কাজ করছেন। বিভিন্ন এনজিও সংস্থার কর্মীরাও জরুরি সহায়তা, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছেন।
এদিকে অধিকাংশ বসতিতেই পানি ঢুকে পড়ায় রান্নাবান্না, বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ এবং শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে আশ্রয়ঘরে বসবাস করা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে কাদামাটি ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় ক্যাম্পের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান জানান, টানা বৃষ্টিতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ও পানিবন্দি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে বিভিন্ন এনজিও সংস্থা ও স্বেচ্ছাসেবকেরা কাজ করছেন।
এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, ‘টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে নিম্ন অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে এবং পৌর এলাকার আশপাশে পাহাড়ি এলাকা থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে ও আত্মীয় স্বজনদের বাসায় সরে যেতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। এবং বিভিন্ন এলাকার চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদেরকে বিভিন্ন এলাকার খোঁজখবর রাখার জন্য বলা হয়েছে।’