শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১২:২৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
২ বছরের সম্পর্কের পর অনন্যা-ওয়াকার বিচ্ছেদ! বৃষ্টিবিঘ্নিত লর্ডসে শুরুতেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে ইংল্যান্ড ৬৪ জেলায় ৬৪ জন ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী’ থাকলে মন্দ হতো না : রুমিন ফারহানা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বপালনে সম্পূর্ণভাবে দলনিরপেক্ষভাবে কাজ করব: রাষ্ট্রপতি নেপালে ভয়াবহ বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৭০ খুলনায় ভাড়া বাসায় মিলল অস্ত্রসহ একাধিক চেকবই, হেফাজতে স্বামী-স্ত্রী-ছেলে ১০ হাজার কনস্টেবল, ৪ হাজার এসআই ও ৪০০ সার্জেন্ট নিয়োগ করা হবে প্রস্তাব পেলে মক্কা প্যাক্টে যোগদানে ইতিবাচক থাকবে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাম উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু ১০ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ বিএসটিআইয়ের

ভর্তুকির চাপে অস্বস্তিতে সরকার

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬
  • ১৬৪ বার

প্রতিবছরই বাড়ছে সরকারের পরিচালন ব্যয়, যা গত ছয় অর্থবছরের বাজেটে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। বছর বছর পরিচালন খাতে বরাদ্দ বাড়তে থাকায় চাপ পড়ছে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি)। আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটেও একই ধরনের সীমাবদ্ধতার মুখে পড়েছে সরকার। রাজস্ব আয়ের বড় একটি অংশই চলে যাচ্ছে পরিচালন ব্যয়ে, ফলে উন্নয়ন খাতে ব্যয় সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ভর্তুকি, ঋণের সুদ পরিশোধ এবং সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির কারণে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা ক্রমেই চাপে পড়ছে। বিশেষ করে ভর্তুকি ব্যয়ের লাগামহীন বৃদ্ধি সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বহুমাত্রিক চাপ সৃষ্টি করছে।

নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মধ্যেই ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে। তবে চলতি অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নই যেখানে চ্যালেঞ্জের মুখে, সেখানে নতুন বাজেট প্রস্তুত করাও কঠিন হয়ে উঠছে। অর্থ বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রকৃত প্রভাব সম্পর্কে অনিশ্চয়তার কারণে নতুন বাজেটে কী ধরনের নীতি নেওয়া হবে, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।

চলতি বাজেটে ভর্তুকি ও প্রণোদনা খাতে বরাদ্দ রয়েছে ৮৯ হাজার কোটি টাকা। তবে অর্থবছর শেষে এই ব্যয় অন্তত ২৫ শতাংশ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর অন্যতম কারণ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত, বিশেষ করে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে উত্তেজনা, যার প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও মূল্যÑ দুটিই অস্থির হয়ে উঠেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা কমিশনের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে জ্বালানি, বিদ্যুৎ, সার ও খাদ্য খাতে ভর্তুকি মিলিয়ে মোট ব্যয় ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি হতে পারে, যা গত অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ২২ থেকে ২৫ শতাংশ বেশি। মধ্যপ্রাচ্য সংকট দীর্ঘায়িত হলে এই ব্যয় আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অচলাবস্থার কারণে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অনেকেই বর্তমান সংঘাতকে ‘তেলের যুদ্ধ’ হিসেবেও অভিহিত করছেন। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল প্রায় ১০০ ডলারে পৌঁছেছে। ফলে বাংলাদেশকে বেশি দামে তেল ও এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে, তবুও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

অন্যদিকে, প্রত্যাশিত হারে রাজস্ব আহরণ না হওয়ায় অর্থনীতি আরও চাপে পড়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) শুল্ক-কর আদায়ে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭১ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। অর্থবছর শেষে এই ঘাটতি ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এই সময়ে এনবিআরের আদায়ের লক্ষ্য ছিল ৩ লাখ ২৫ হাজার ৮০২ কোটি টাকা, কিন্তু আদায় হয়েছে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৩৩০ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেট অনুযায়ী, পুরো অর্থবছরে ৫ লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য পূরণ করতে হবে। অর্থাৎ, বাকি চার মাসে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা আদায় করতে হবে, যা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের শর্ত পূরণ করাও সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সংস্থাটি ৪৭০ কোটি টাকার ঋণের বিপরীতে প্রতিবছর জিডিপির অন্তত শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ হারে অতিরিক্ত রাজস্ব আহরণের শর্ত দিয়েছে।

অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। আর ভর্তুকির বিষয়ে শেখ হাসিনার আমল থেকেই সংকট তৈরি হয়েছে। একদিকে রাজস্ব আয় বাড়ছে না। অন্যদিকে রাজস্ব আয় সেভাবে হচ্ছে না। ফলে কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। প্রভাব পড়বে দারিদ্র্য বিমোচনেও। এখান থেকে বের হয়ে আসার একমাত্র উপায় খরচ কমাতে হবে। এর বিকল্প কিছু নেই।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ