খুলনা নগরীর দারোগাপাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসা থেকে তিনটি বিদেশি পিস্তল, ছয়টি ম্যাগজিন, আট রাউন্ড গুলি ও বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র, বিদেশি মুদ্রাসহ বিভিন্ন ব্যাংকের কয়েকটি চেকবই ও গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একই পরিবারের তিনজনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
গতকাল বুধবার বিকেলে টুটপাড়া এলাকার মহিউদ্দিন সড়কে কেএম ইমতিয়াজ আলীর বাড়ির দোতলার একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে এসব অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ হেফাজতে থাকা তিনজন হলেন খান কুব্বাত আলী, তার স্ত্রী শামসুন নাহার ও ছেলে কে এম আবিদ হাসান।
আজ বৃহস্পতিবার খুলনা থানার ওসি (তদন্ত) মিজানুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুব্বাত আলীর ভাড়া বাসায় অভিযান চালানো হয়। তল্লাশির শুরুতেই ডাইনিং রুমের একটি চেয়ারের ওপর থেকে একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। পরে পুরো ঘরে তল্লাশি চালিয়ে আরও দুটি বিদেশি পিস্তল, ছয়টি ম্যাগজিন ও আট রাউন্ড গুলি পাওয়া যায়। সন্ধ্যায় একই বাসায় পুনরায় তল্লাশি চালিয়ে দুটি চাইনিজ কুড়াল, দুটি চাপাতি, বিভিন্ন ব্যাংকের কয়েকটি চেকবই, বিদেশি মুদ্রাসহ আরও কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র জব্দ করা হয়।
পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার খান কুব্বাত আলীর হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয় তিনটি ৭.৬ মডেলের বিদেশি পিস্তল, ছয়টি ম্যাগাজিন, আটটি তাজা গুলি, দুটি চাইনিজ কুড়াল, একটি চাপাতি, একটি লোহার রামদা, একটি ইলেকট্রিক শক স্টান গান, কাঠের বাটযুক্ত একটি ছোরা এবং একটি পিতলের রড, একাধিক ব্যাংকের চেক ও বিদেশি মুদ্রা।
এ ঘটনায় উদ্ধার করা বিদেশি পিস্তল, গুলি ও দেশীয় অস্ত্রের বিষয়ে খুলনা সদর থানায় অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত কার্যক্রম গ্রহন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
খুলনা মহানগর পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধী যতই পরিকল্পিত বা সংঘবদ্ধ হোক, জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, বুধবার সকালে টুটপাড়া এলাকায় তেরখাদা উপজেলার দুলু শেখের ছেলে মাসুদ শেখ নামে এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হন। ওই ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশের অনুসন্ধানের একপর্যায়ে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দারোগাপাড়ার ওই বাসায় অভিযান চালানো হয়। সেখানেই অস্ত্রের এই ভাণ্ডারের সন্ধান মেলে।
তিনি আরও জানান, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলোর উৎস, গুলিবর্ষণের ঘটনার সঙ্গে এসব অস্ত্রের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না এবং এগুলো কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল কি না তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এ বিষয়ে হেফাজতে থাকা তিনজনকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করার আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।