বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ০১:০৩ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার আবেদন ইসরাইলি সামরিক কমান্ড সেন্টারে হিজবুল্লাহর হামলা সুনামগঞ্জে সুরমা ব্রিজে বাস-সিএনজি সংঘর্ষ, বাউল শিল্পীসহ নিহত ২ প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ ও প্রদর্শনীর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্ক ও মিশিগানে ৩ বাংলাদেশী হত্যা! নিরব কেন কমিউনিটি? কেন্দ্রের নির্দেশ মানে না কেউ, এমপি-মন্ত্রীরা পাত্তা দিচ্ছেন না দলের লিখিত আদেশ কেন্দ্রের নির্দেশ মানে না কেউ, বহিষ্কারের ভয়ও করে না মাঠের বিএনপি গলায় ঢুকে গেল জীবন্ত কৈ মাছ, অতঃপর… সালাহউদ্দিনের দেশে ফেরায় বিলম্বের নেপথ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ‘না’তে আটকে যেতে পারে ফিলিস্তিনের সদস্যপদ
কর্নেল অলির নেতৃত্বে জাতীয় মুক্তিমঞ্চ : জামায়াত দেশপ্রেমিক শক্তি

কর্নেল অলির নেতৃত্বে জাতীয় মুক্তিমঞ্চ : জামায়াত দেশপ্রেমিক শক্তি

স্বদেশ ডেস্ক: পুনজাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবীসহ ১৮ দফা দাবী আদায়ের লক্ষ্যে-জাতীয় মুক্তিমঞ্চ এর ঘোষণা দিয়েছেন এলডিপির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমদ। বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।

আঠারো দফা দাবীর মধ্যে রয়েছে, জাতীয় সংসদের পুননির্বাচন,দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি, দেশবিরোধী চুক্তি প্রকাশ, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রক্ষা, জাতীয় বিশেষজ্ঞ কমিশন গঠন, দেশের শিক্ষিত যুবকদের নিয়োগে অগ্রাধিকার,গুম ও খুন বন্ধের পদক্ষেপ নেয়া, লিগ্যাল এইড কমিটি গঠনের ঘোষণা, প্রতিবন্ধকতা ও হয়রানি বন্ধ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন, ভেজাল ও নকল ঔষধ বন্ধ, খাদ্যে ভেজাল কারীদের মৃত্যুদন্ড, কৃষকের ন্যায্যমূল্য, অর্থনৈতিক সমতা ও সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা, জাল ভোট প্রদানকারী ও সাহয্যকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করা, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট বাতিল ও বন্ধ করে দেয়া মিডিয়া খুলে দেয়া, দুর্নীতি দমন আইনের বৈষম্য দূরীকরণ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য সাংবিধান অনুযায়ী সুযোগ সৃষ্টির দাবি।

কর্নেল অলি বলেন, আমাদের উপলব্ধি করতে হবে যে, ১৯৭১ সালে লক্ষ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। স্বাধীনতা যুদ্ধের মূল চেতনাই ছিল উদার গনতন্ত্র ; একনায়কতন্ত্র নয়। সুতরাং কোন অবস্থাতেই আমরা একনায়কতন্ত্র ও নিয়ন্ত্রিত গনতন্ত্র মেনে নিতে পারি না। তিনি বলেন, বর্তমানে সমগ্র পৃথিবী দুইভাগে বিভক্ত। প্রথমটি হচ্ছে একনায়কতন্ত্র ও নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্র, দ্বিতীয়টি হচ্ছে উদার গণতন্ত্র। সুতরাং, আমরা বেঁচে থাকতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বিসর্জন দিতে পারি না।

একাত্তরের রণাঙ্গনের এই মুক্তিযোদ্ধা বলেন,আমাদের এবারের কর্মসূচি হবে শান্তিপূর্ণ এবং লক্ষ্য হবে জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করা অর্থাৎ জাতিকে মুক্ত করা তথা ন্যায় বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা, মানবাধিকার নিশ্চিত করা ও জনগণের সরকার গঠন করা। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া এবং সকল রাজবন্দিদের মুক্ত করতে হবে, নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। আশাকরি আমাদের এই কর্মসূচিতে জনগণ এবং সকল বিরোধী দল নিজ নিজ অবস্থান থেকে সমর্থন দেবেন,সহযোগিতা করবেন, অংশগ্রহণ করবেন।

এসময় তার সঙ্গে ২০ দলীয় জোটের শরীক কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহম্মদ ইবরাহিম, জাগপা সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা আহমেদ উল্লাহ ও জাতীয় আন্দোলন এর সভাপতি মুহিব খান উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে চার পৃষ্ঠা লিখিত বক্তৃতা পাঠ করার পর বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন কর্নেল অলি আহমদ। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের জামায়াত আর ২০১৯ সালের জামায়াত এক নয়। এরা বাংলাদেশের। এই দেশকে তারা ভালবাসে। তাদের মধ্যে অনেক সংশোধনী আসছে। তারা নিজেদের মধ্যে বসে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তারা দেশপ্রেমিক শক্তি। কাজেই আমরা আশা করবো, যারা দেশকে ভালবাসে, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে চায়, দেশবাসীকে মুক্ত করতে চায়, যারাই আমাদের সাথে আসবে, সবাইকে আমরা সাথে রাখবো। তবে বেঈমানদের নয়।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ধরণের দাবি এর আগে কেউ দেয়নি। আমি যখন বললাম মধ্যবর্তী নির্বাচন চাই। তখন সবাই মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি জানালো। আসলে মধ্যবর্তী নির্বাচন সঠিক কথা নয়। ওটা আমি পরীক্ষা করার জন্য বলেছিলাম। আসল কথা হলো পুনঃনির্বাচন। মধ্যবর্তী নির্বাচন চাইলেতো আগের নির্বাচন মেনে নেয়া হয়।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে কর্নেল অলি আহমদ বলেন, আমার ডানে বামে মুক্তিযোদ্ধারা বসে আছেন। আমার সামনে যারা বসে আছেন এদের অনেকে ইতোমধ্যে মতামত দিয়েছেন, অনেকে সময় নিয়েছেন। আমাদের সাথে কারা কারা আছেন যথা সময়ে তালিকা আপনাদের সামনে প্রকাশ করবো।

এটা নতুন কোনো জোট কি না এমন প্রশ্নের জবাবে কর্নেল অলি আহমদ বলেন, এটা জোট কেন হবে। আমরা ২০ দলীয় জোটে আছি। ২০ দলীয় জোটের মূল দল বিএনপি ২০ দলীয় জোটে থেকেই কামাল হোসেনের সাথে কাজ করছেন। ১৩ মে, ২০ দলীয় ঐক্য জোটের মিটিং এ নজরুল ইসলাম পরিস্কারভাবে বলেছেন, আপনারা যে যেভাবে পারেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য নিজ নিজ মঞ্চ থেকে আন্দোলন শুরু করেন।

বিএনপির কিছু নেতা সরকারের সঙ্গে আতাত করেছে এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি বিএনপির কথা বলিনি। আমি বলেছি আমাদের অনেকে সরকারের সাথে দালালি করছে বলে জাতির এ অবস্থা। এরা কারা জানতে চাইলে কর্নেল অলি বলেন, আপনি সাংবাদিক আমি আশা করবো, আপনি আমাদের সহায়তা করবেন। আপনি যে দালালদের চিনেন না, এটা সত্য কথা না। আপনি যদি বলেন, আপনি চেনেন না, তাহলে আমি আপনাকে চিনিয়ে দেব। আপনি সিনিয়র লোক, আপনি চেনেন, কারা কিভাবে ২০/৩০ বছর যাবত দালালী করছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

© All rights reserved © 2019 shawdeshnews.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
themebashawdesh4547877