রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
প্রেমভিত্তিক নাটক-সিনেমা নির্মাণ ও সম্প্রচার বন্ধ চেয়ে হাইকোর্টে রিট নারায়ণগঞ্জে হত্যা মামলায় ৭ জনের যাবজ্জীবন হাইকোর্টের রায় : আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে হরতাল ডাকা যাবে না নিষিদ্ধই থাকছে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম, রিট খারিজ সচল হলো আদানির বিকল ইউনিট, স্বাভাবিক হচ্ছে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফরের নতুন তারিখ ঘোষণা গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করতে হবে: রাষ্ট্রপতি কোন ডিসেম্বর আসবেন ক্লিয়ার করেন, শেখ হাসিনাকে হুইপ দুলু সবার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে: ডা. জুবাইদা রহমান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থিতায় শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন নেই: মীর শাহে আলম

শাপলা কলির পাশে নেই জামায়াত

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২৮৮ বার

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের সমঝোতায় চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসন থেকে মনোনয়ন পেয়েও অস্বস্তিতে রয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফ। জোটের প্রার্থী হলেও প্রচারণায় জামায়াত কর্মীদের পাশে পাচ্ছেন না তিনি। উল্টো ‘দাঁড়িপাল্লা’র প্রার্থী আবু নাছেরের পক্ষে গণসংযোগ ও প্রচারণা চালাচ্ছেন তারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও উভয় প্রার্থীর সমর্থকরা পরস্পরবিরোধী বিষোদগার চালিয়ে যাচ্ছেন।

স্থানীয় ভোটারদের মতে, ১১ দলীয় জোটভুক্ত দুই প্রার্থীর এই দ্বন্দ্বে ভোটের মাঠে বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে ধানের শীষ ও মোমবাতির প্রার্থীরা। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপিসহ ১১টি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গত ১৬ জানুয়ারি ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’র আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। সারা দেশে এনসিপির জন্য বরাদ্দকৃত ৩০টি আসনের মধ্যে চট্টগ্রামে একমাত্র বোয়ালখালী-চান্দগাঁও (চট্টগ্রাম-৮) আসনটি রয়েছে তাদের। এ আসনে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয় এনসিপির চট্টগ্রাম অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক জোবাইরুল হাসান আরিফকে। মনোনয়ন দাখিলের আগে থেকেই নিয়মিত গণসংযোগ ও নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে আসছেন তিনি। অন্যদিকে একই আসনে আগে থেকেই জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়ন পাওয়া মো. আবু নাছেরও সেখানে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

এনসিপি নেতারা জানান, যাচাই-বাছাই শেষে উভয়ের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার পর এনসিপির প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল চেয়ে নির্বাচন কমিশনে আপিলও করেন জামায়াত প্রার্থী নাছের। জোটের সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারও করেননি তিনি। পরে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াত কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে অসুস্থতার কারণে ঢাকায় থাকায় আবু নাছের নির্ধারিত সময়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারেননি উল্লেখ করে জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে আসার ঘোষণা দেন জামায়াত নেতারা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, সেখানে জামায়াত নেতাকর্মীরা নির্বাচনে এনসিপি প্রার্থীকে কোনো ধরনের সহযোগিতা করছেন না; বরং নেপথ্যে থেকে আবু নাছের তার সমর্থকদের দিয়ে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন।

বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এনসিপির জোবাইরুল হাসানকে বহিরাগত আখ্যা দিয়ে স্থানীয় প্রার্থী হিসেবে মো. আবু নাছেরের পক্ষে ‘দাঁড়িপাল্লা’ মার্কায় ভোটের প্রচারণা চলছে। শুধু তাই নয়, চট্টগ্রাম-৮ আসনে জোবাইরুল আরিফ জামায়াতের আবু নাছেরকে সমর্থন দিয়ে সরে দাঁড়িয়েছেন বলেও ফেসবুকে প্রচার চালানো হচ্ছে। এতে পুরোপুরি অস্বস্তিতে রয়েছেন এনসিপির প্রার্থী ও তার কর্মী-সমর্থকরা।

গতকাল শনিবার জোবাইরুল হাসান আরিফ তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন, ‘অনেকে জানতে চাচ্ছেন, আমি অন্য কোনো প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে নেমে গেছি কি না। না ভাই, নামিনি। যার আমাকে সমর্থন দিয়ে নামার কথা, তিনিও নাকি নামেননি, আমিও আছি চট্টগ্রাম-৮-এ। আসল কথা হচ্ছে, ঢাকা-৮ আর চট্টগ্রাম-৮-এ আসল নির্বাচনী আমেজটা পাওয়া যাচ্ছে। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী খেলছেন মির্জা আব্বাসের সঙ্গে, এদিকে আমি যাতে মির্জা আব্বাসের সাথে খেলতে না পারি, সে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আমারই জোটের এক বড় ভাই!’

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. আবু নাছেরের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এদিকে, ১১ দলীয় জোটের দুই প্রার্থী নিয়ে টানাপড়েন চললেও চট্টগ্রাম-৮ আসনে জোর প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ (ধানের শীষ) ও বৃহত্তর সুন্নি জোট মনোনীত ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী মাওলানা সৈয়দ হাসান আজহারী।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, নির্দিষ্ট সময়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় চট্টগ্রাম-৮ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে মো. আবু নাছেরের নাম রয়ে গেছে। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম-৮ সহ আরও কয়েকটি আসনের ব্যালটে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক না রাখার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয় নির্বাচন কমিশনকে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন তা নাকচ করে দিয়ে এ অবস্থায় প্রতীক প্রত্যাহারের কোনো সুযোগ নেই বলে জামায়াতকে জানিয়ে দেয়। ফলে ব্যালটে ওই আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের দুই শরিক জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা ও এনসিপির শাপলা কলি, দুই প্রতীকই থাকছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ