শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:২৬ পূর্বাহ্ন

সিডনিতে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ৪-১ ব্যবধানে অ্যাশেজ জয় অস্ট্রেলিয়ার

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ২৮ বার

অস্ট্রেলিয়া ৫৬৭ রান ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেটে ১৬১ রান করে ইংল্যান্ডকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে। জবাবে ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংসে ৩৮৪ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৪২ রান করে। এই জয়ের মাধ্যমে সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এসসিজি) সিরিজের শেষ টেস্ট জিতে ৪–১ ব্যবধানে অ্যাশেজ নিজেদের করে নিল অস্ট্রেলিয়া।

উসমান খাজা টেস্ট ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচে রূপকথার সমাপ্তি দিতে না পারলেও, ১৬০ রানের লক্ষ্য তাড়া করে অস্ট্রেলিয়া শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করে। যদিও ম্যাচের শেষ দিনে কিছুটা অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, তবু নিয়ন্ত্রণে রেখেই কাজ সারে স্বাগতিকরা।

অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৯ রানের মধ্যে ৫ উইকেট পড়ে যাওয়ায় ম্যাচে নাটকীয়তা বাড়ে। তবে সিরিজজুড়ে উজ্জ্বল পারফরমার অ্যালেক্স ক্যারি ও চাপের মুখে থাকা ক্যামেরন গ্রিন ৪০ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন।

টার্গেটের শুরুতে ৬২ রানে কোনো উইকেট না হারালেও দ্রুত তিন উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। ক্যারিয়ারের ৮৮তম ও শেষ টেস্টে খাজা নামেন লাঞ্চের পর, তখন দলের দরকার ৬৮ রান। সতীর্থ মার্নাস লাবুশানের আলিঙ্গন ও ইংল্যান্ড দলের গার্ড অব অনারের মধ্য দিয়ে মাঠে নামলেও খাজা মাত্র ৬ রান করে জশ টাংয়ের বলে আউট হন। টাং শেষ করেন ৩ উইকেট নিয়ে (৩/৪২)।

বেন স্টোকস চোটের কারণে বোলিং করতে না পারায় শেষদিকে ইংল্যান্ডের আশা আরও ক্ষীণ হয়ে পড়ে। অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের শুরুতেই এলবিডব্লিউ আপিলের বন্যা বয়ে যায়, এমনকি একটি রিভিউও নষ্ট করে ইংল্যান্ড। ট্রাভিস হেড দ্রুত রান তুললেও ২৯ রানে আউট হন। সিরিজে তিনি করেন ৬২৯ রান, গড় ৬২.৯০-অ্যাশেজে কোনো অস্ট্রেলিয়ানের নবম সর্বোচ্চ।

জ্যাক ওয়েদারাল্ড বিতর্কিত এক রিভিউয়ে বেঁচে গেলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। পরে স্টিভেন স্মিথ অফস্পিনার উইল জ্যাকসের বলে বোল্ড হলে আবার চাপ বাড়ে। খাজা ফিরে যাওয়ার আগে সেজদা করে দর্শকদের অভিবাদন গ্রহণ করেন।

এরপর লাবুশান (৩৮) রান আউটে কাটা পড়লে উত্তেজনা চরমে ওঠে। তবে গ্রিন শান্তভাবে ব্যাট করে ক্যারির সঙ্গে ম্যাচ শেষ করেন; ক্যারি একটি বাউন্ডারিতে জয় নিশ্চিত করেন।

এর আগে ইংল্যান্ড দ্বিতীয় ইনিংসে জ্যাকব বেথেলের দারুণ ১৫৪ রানের ওপর ভর করে লড়াই জিইয়ে রাখে। স্কট বোল্যান্ডের বল প্যাডে লাগলেও ডিআরএসে বেঁচে যান বেথেল। তবে শেষ পর্যন্ত মিচেল স্টার্ক তাকে আউট করলে ইংল্যান্ডের আশা ভেঙে পড়ে। স্টার্ক সিরিজে নেন ৩১ উইকেট-২০১৩–১৪ অ্যাশেজে মিচেল জনসনের ৩৭ উইকেটের পর সর্বোচ্চ।

মাত্র ১৮ দিনে শেষ হওয়া এই অ্যাশেজ সিরিজে কিছুটা অগোছালো ক্রিকেট দেখা গেলেও, অভিজ্ঞতা ও শৃঙ্খলায় এগিয়ে থাকা অস্ট্রেলিয়াই শেষ পর্যন্ত আধিপত্য দেখায়। ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও ট্রাভিস হেড, অ্যালেক্স ক্যারি ও মিচেল স্টার্কের অসাধারণ পারফরম্যান্সে ইংল্যান্ডকে ছাপিয়ে যায় স্বাগতিকরা।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ