শক্তিশালী ঝড়ের কবলে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চল। ‘নরইস্টার’ নামের এই ঝড়ে উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক জলোচ্ছ্বাস, বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি ব্যাহত হয়েছে বিমান ও সড়ক যোগাযোগ। আবহাওয়ার কারণে বাতিল হয়েছে একাধিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ব্রিটিশ বার্তাসন্সথা বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ সব তথ্য জানা যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস (এনডব্লিউএস) জানিয়েছে, শনিবার নিউইয়র্ক সিটি ও বোস্টনসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বিপজ্জনক উপকূলীয় প্লাবন, শক্তিশালী বাতাস ও ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। ভার্জিনিয়া থেকে মেইন পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
ঝড়ের কারণে নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। নিউ জার্সির উপকূলীয় কয়েকটি এলাকায় ইতোমধ্যে ব্যাপক জলাবদ্ধতা ও বন্যা দেখা দিয়েছে। সার্ফ সিটি ও মানাসকোয়ানের মতো উপকূলীয় এলাকায় শনিবার রাস্তাঘাট ও ঘরবাড়িতে বন্যার পানি ঢুকে পড়ে।
শনিবারের পূর্ণিমার কারণে উপকূলীয় প্লাবন আরও তীব্র হতে পারে বলে সতর্ক করেছে এনডব্লিউএস। সংস্থাটি জানিয়েছে, উপকূলের নিচু এলাকাগুলোতে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় পানি ঢুকে পড়তে পারে। এতে সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নিউ জার্সির গভর্নর মিকি শেরিল বাসিন্দাদের ঝড়কে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সবাইকে সতর্ক থাকতে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলেছেন।
নিউইয়র্কে সপ্তাহজুড়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৫৫ মাইল (প্রায় ৮৬ কিলোমিটার) বেগে বাতাস বইতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। এতে গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণ না করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বন্যার পানির মধ্য দিয়ে গাড়ি চালানো বা হেঁটে চলাচল না করতে সতর্ক করেছেন তিনি।
ঝড়ে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা পাওয়ারআউটেজের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর-পূর্বাঞ্চলসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় এক লাখের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছেন।
বিমান চলাচলেও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) যাত্রীদের উড্ডয়নের আগে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার সঙ্গে ফ্লাইটের অবস্থা যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে। ফ্লাইটঅ্যাওয়ার তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ২ হাজার ৪০০টির বেশি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে এবং ১ হাজার ১৯৯টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বেশ কয়েকটি বড় অনুষ্ঠানও বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে। বোস্টনে এড শিরানের বহুল প্রতীক্ষিত কনসার্ট নিরাপত্তার কারণে বাতিল করেছে জিলেট স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ।
বোস্টনের বেসবল দল বোস্টন রেড সক্সও শিকাগো কাবসের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ম্যাচটি শনিবারের পরিবর্তে রোববার বিকেলে ফ্লোরিডায় আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রেড বুল নিউইয়র্ক ও সেন্ট লুইস সিটি এসসির মধ্যকার পেশাদার ফুটবল ম্যাচও বাতিল করা হয়েছে।
এ ছাড়া নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে হওয়ার কথা থাকা ‘গ্লোবাল সিটিজেন ফেস্টিভ্যাল’ও বাতিল করা হয়েছে। এতে লরিন হিল, ওয়াইক্লেফ জিন ও জন লেজেন্ডের মতো শিল্পীদের পরিবেশনের কথা ছিল।