শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ন

রাজধানীতে প্রতিদিন ৫০০ গ্রেপ্তারেও বেপরোয়া মাদক কারবারিরা

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৫ বার
রাজধানীতে মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান চালিয়েও থামানো যাচ্ছে না মাদক কারবার। প্রতিদিন গড়ে পাঁচ শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করছে পুলিশ।

বাড়ানো হয়েছে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি। এর পরও বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে ইয়াবা, হেরোইনসহ নানা ধরনের মাদক। পুলিশের হিসাবে, গত এক মাসে বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছে ১৫ হাজারের বেশি মানুষ। তাদের মধ্যে রয়েছে মাদক কারবারিও।
ডিএমপি সদর দপ্তর সূত্র জানায়, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫৪২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রমনা বিভাগে ২২ জন, লালবাগে ২৮, ওয়ারীতে ৬০, মতিঝিলে ৫২, তেজগাঁওয়ে ৯১, মিরপুরে ১৯৩, গুলশানে ৪১, উত্তরা বিভাগে ৪২, গোয়েন্দা বিভাগে ১২ এবং সিটিটিসিতে একজন রয়েছে। এ সময় ৫১টি মামলা করা হয়।

ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন জানান, অভিযানে তিন হাজার ২৯১টি ইয়াবা, ৪৫ কেজি ৪৯০ গ্রাম গাঁজা, একটি শটগানসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে চার শতাধিক শীর্ষ মাদক কারবারি রয়েছে। তারা বিভিন্ন এলাকায় মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ করে। তালিকা করে তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

পুলিশের তালিকায় থাকা শীর্ষ মাদক কারবারি মো. দিলদার ও তার সহযোগী শাকিরসহ অন্তত ৩৫ জন সীমান্ত থেকে মাদক এনে ঢাকায় বিক্রি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পকেন্দ্রিক মাদক কারবার নিয়েও রয়েছে অভিযোগ।

ক্যাম্পের হুমায়ূন রোডসহ অন্তত ১২ স্পটে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হয় বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। ডিএমপির বিভিন্ন এলাকায় এমন চার শতাধিক মাদক বিক্রির স্পট রয়েছে।সরেজমিনে গত কয়েক দিনে কারওয়ান বাজার রেলগেট, মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প, মগবাজার রেলগেট, পল্লবী, খিলগাঁও ও উত্তর বাড্ডার কয়েকটি এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক বিক্রির চিত্র দেখা গেছে। মঙ্গলবার রাতে কারওয়ান বাজার রেলগেট এলাকায় কয়েকজন কিশোর-তরুণকে মাদকের ব্যাগ নিয়ে ঘুরতে দেখা যায়। ক্রেতাদের কাছে ইয়াবা বিক্রির পাশাপাশি রেলগেটের পাশে বসেও মাদক বিক্রি করতে দেখা যায়।

মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পেও বুধবার ও বৃহস্পতিবার রাতে ইয়াবা, হেরোইনসহ বিভিন্ন মাদক বিক্রির দৃশ্য দেখা যায়। কোথাও কোথাও মাদক কিনতে মানুষের সারিও দেখা গেছে। অথচ ক্যাম্পের চারপাশে পুলিশের একাধিক চেকপোস্ট রয়েছে এবং যৌথ বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালায়।

পুলিশের দাবি, ক্যাম্পের বড় একটি অংশের মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দীর্ঘদিন ধরে মাদকের সঙ্গে জড়িত। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, দারিদ্র্য ও বেকারত্বের সুযোগ নিয়ে মাদক কারবারিরা সেখানে ব্যবসা বিস্তার করেছে।

এ বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ রাজধানীতে মাদক নিয়ন্ত্রণে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কঠোরভাবে অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকে রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয়ে ছাড় না দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ